“Waking Life” Review

“Waking Life” Review

Richard Linklater-এর পরিচালনায় ২০০১ সালে নির্মিত হওয়া এক্সপেরিমেন্টাল ফিলসফিকাল সেমি এনিমেটেড ডকুফিকশন হলো এই Waking Life মুভিটি। এই মুভিটি মূলত বিভিন্ন ফিলসফিকাল ধারণার টুকরো টুকরো অংশ নিয়ে সাজানো একটি সেমি এনিমেটেড মুভি। মুভিটির শুরু হয় একটি বালক ও বালিকার কাগজ দিয়ে কাকের ঠোঁট খেলার মধ্য দিয়ে। তারপর সে খেলার মাঝখানে “ড্রিম ইজ ডেসটিনি” এ কথাটি দিয়ে ছবির সূত্রপাত ঘটে।

তারপর হঠাৎ করে তরুণের ঘুম ভেঙ্গে যায় যে এই মুভির প্লটের মূল চরিত্র। এরপর সে বুঝতে পারে এটা একটা স্বপ্ন ছিল। এরপর সে ট্রেন থেকে নেমে তাঁর যাত্রা শুরু করে। এ মুভিটির মূল যে বিষয়টি তা হল এই তরুণটি স্বপ্নের মাঝে বিচরণ করে। কিন্তু ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো সে যে স্বপ্ন দেখছে এ ব্যাপারে সে সম্পূর্ণ সচেতন। একে লুসিড ড্রিম বলা হয়। তরুণটি স্বপ্নের ভেতর বিভিন্ন মানুষের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। সবাই তার নিজের নিজের জীবন সম্পর্কে তাদের দর্শন তরুণটিকে বলে ও তরুণটি সে কথাগুলো কেবল শুনে যায়। এ লুসিড ড্রিমে সে পরিচিত হয় নানা ধরনের দার্শনিক তত্ত্ব ও চিন্তাধারার সাথে।  সে পরিচিত হয় এক প্রফেসরের সাথে যে কীনা ক্লাসে এক্সিসটেনশিয়ালিজম সম্পর্কে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। প্রফেসরটি বলছিল এক্সিসটেনশিয়ালিজম কে অনেকে বলে এটা হতাশাব্যঞ্জক  কিন্তু সার্ত্রে তার এক ইন্টারভিউয়ে বলেন যে তিনি একদিনের জন্যও নিজেকে হতাশাগ্রস্ত বোধ করেননি। এরকম কথাবার্তা প্রফেসরটি তরুণটিকে বলে।

তারপর তরুণ স্বপ্নের মাঝে পরিচিত হয় এক দার্শনিকের সাথে যে মানুষের ইনডিভিজুয়াল ইভুল্যুশনের কথা বলে। আরও বলে Neo-man এর কথা। এরপর এক হতাশাগ্রস্ত লোকের সাথে দেখা হয় সে এ সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে হতাশ সে তরুণটির চোখের সামনে কেরোসিন ঢেলে নিজেকে জ্বালিয়ে দেয়। এগুলো কিন্তু  ঘটছে তার স্বপ্নের ভেতর। এরপর হঠাৎ সে ঘুম থেকে জেগে উঠে। ঘুম থেকে উঠে সে ঘড়ির সময় দেখতে পায় না, তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে সে স্বপ্নের ভেতর স্বপ্ন দেখছে। এভাবে সে লুপ আকারে সে স্বপ্ন দেখতে থাকে ও আরও মানুষের জীবন দর্শনের সাথে পরিচিত হতে থাকে। তরুনটি হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে বেড়াতে বিভিন্ন মানুষের কথাবার্তা শুনতে থাকে। একজন আসামীর ক্ষোভজনক কথাবার্তা। একজন দম্পত্তির স্বপ্ন, রিইনকারনেশন এসব নিয়ে আলাপ, আলোচনা হয় এসব সে কান পেতে পেতে শুনছে।

এ মুভির একটি পর্যায়ে একটি লোক গাড়িতে করে মাইক নিয়ে চিৎকার করে করে এ একবিংশ শতাব্দীর ঘুনে ধরা মতাদর্শ, সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে বলতে থাকে ও ক্রমে ক্রমে তার চেহারা ক্ষোভের আগুনে লাল হতে থাকে। এ অংশটির দৃশ্যায়ন ছিল বেশ চমৎকার। সেই সাথে এ মুভিটির একটি দৃশ্য যা আমার চমৎকার লেগেছে সেটি হল তরুণটি তার লুসিড ড্রিমের এক পর্যায়ে একজন ফিল্মমেকারের ইন্টারভিউ সিনেমা হলে বসে বড় পর্দায় দেখতে থাকে। অনুষ্ঠানটির নামও বেশ চমৎকার “দ্য হোলি মোমেন্ট”। এখানে ঐ ফিল্ম মেকারটি ফিল্ম নিয়ে তার জীবন ও তার দর্শন ব্যাখ্যা করেন। ফিল্ম হল কোন কিছুকে কোন বাস্তবতা সৃষ্টি করা ও একটা মুহূর্ত তৈরী করা যেটা কীনা এবং এই হোলি মোমেন্ট কে ফ্রেমে আবদ্ধ করা। আর সেটি দেখার পর সেই মুহূর্তের সাথে সংযোগ ঘটে যাওয়া। এরকম করে ফিল্মমেকার তার ফিল্ম ও দর্শন বলতে থাকেন।  আর এ বলার মাঝে হঠাৎ করে একটা চমৎকার গ্যাপ তৈরী হয় এই দৃশ্যে এসে যেটা বেশ চমৎকার!!! মনে হবে যেন হোলি মোমেন্ট এর বাস্তব উদাহারণ।

এই মুভিটি মূলত একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ ও সমাজের মাঝে যে জীবন, দর্শন গড়ে উঠেছে ও সেইসাথে লুসিড ড্রিমের একটা সংমিশ্রণ করে জীবনের টুকরো টুকরো চিন্তাভাবনাগুলোকে এক করে জীবনের অর্থ সম্পর্কে একটু বলার প্রচেষ্টা এবং একটি ক্ষুদ্র  এক্সপেরিমেন্ট।

মুভিটির সেমি এনিমেটেড মুভমেন্টগুলো ভালো ছিল। একটা হাওয়ায় দুলতে থাকা মোশন অনুভূত হয় দেখার সময়। মনে হয় যেন আমিই লুসিড ড্রিম দেখছি। ক্যারেক্টারগুলো প্রত্যককেই বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। গতি ধীর তবে অতটা নয়।

মুভিটির শেষ দৃশ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে। তরুণটি এই লুসিড ড্রিমের লুপ থেকে বের হতে চায় এবং এরজন্য সে স্বপ্নের ভেতরেই একজনকে জিজ্ঞাসা করে এ থেকে বের হয়ে আসার উপায় কী!!! আর শেষমেষ তার দেহ বেলুনের মত আকাশে মিলিয়ে যেতে থাকে এরপর ছোট হতে হতে বিন্দু হয়ে আকাশের মাঝে মিলিয়ে যায়। এর কারণ কী? মনে আছে ট্রেনটির কথা? স্টেশনের কথা? সে স্টেশন থেকে একটা গাড়ি করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে আসবার পর রাস্তায় গাড়ির ধাক্কা তে তার মৃত্যু হয়।  আর সেই মৃত্যু মুহূর্তকালীন চিন্তা ও তার সেই স্বপ্নগুলো মাঝে সে বিচরণ করতে থাকে আর মুভির শেষটা হয়ত এটাই বোঝায় তরুণটি আর ফিরে আসবে না। তার এই স্বপ্ন থেকে বাস্তব জগতে আসার আর কোন উপায় নেই।  তার এখন একমাত্র গন্তব্য শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *