The Book Of Mirdad

“দ্যা বুক অব মিরদাদ” হলো এমন একটি বই যার মূল চরিত্র হল একজন আলোকপ্রাপ্ত ব্যক্তি যার নাম মিরদাদ। একজন মানুষের সর্বোচ্চ যা পেতে পারে তা মিরদাদ পেয়ে গেছে ও সে এখন সন্ধানে আছে সেসব মানুষগুলোকে খুঁজে বের করবে যাদেরকে সে সেই সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগি হতে পারে।

এ বইটির কাহিনী শুরু হয় নোয়াহ্ আর্ক নামক পর্বত দ্বারা বেষ্টিত একটি স্থানে। যেখানকার রয়েছে বহু বছরের ইতিহাস ও পরম্পরা। পরম্পরার সূত্রপাত ঘটে বহু বছর আগে নূহের মহাপ্লাবনের মধ্য দিয়ে। তবে এটির সাথে কোরআনে বর্ণিত নূহ নবীর কোন মিল নেই। তো সেই মহাপ্লাবনে ১৫০ দিন সংগ্রাম করতে করতে নূহের নৌকা এসে পৌঁছায় এক উর্বর ভূমিতে। ভূমিতে আসার পর নূহ তার ছেলে স্যামকে উপদেশ দেয়, “হে আমার পুত্র এই ১৫০ দিন আমরা এই মহাপ্লাবনের সাথে সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসে পৌঁছেছি, আবার এই ভূমি শস্যশ্যামল হয়ে উঠবে ও মানুষ ভুলে যাবে এই মহাপ্লাবনের কথা, তারা আবার কালের পরিক্রমায় তাদেরকে ভুলে যাবে। তাই আমার পুত্র তোমাকে আমি এ ভূমির উচ্চ পর্বতশৃঙ্গে এই ছোট নৌকাটির মত করে একটি কুঠি বানানোর উপদেশ দিলাম। সেথায় তোমরা নয়জন থাকবে।

তখন পুত্র স্যাম প্রশ্ন করে বসল নয়জন কেনো? বলে রাখা ভালো নূহের পুত্র স্যামও নূহের মতই প্রজ্ঞাবান, আলোকিত ব্যক্তি। পুত্র স্যামের এইরূপ প্রশ্নের কারণ হলো সে নৌকার সদস্যদের গুণে গুণে দেখলো সে, তার বাবা, তার মা, তার ভাইদের স্ত্রীসহ সেখানে রয়েছে মাত্র ৮ জন কিন্তু তার বাবা যে বললেন নয়জন! অন্যজন তবে কে? এহেন প্রশ্নের উত্তরে নূহ জবাব দেয় তুমি নবম ব্যক্তিটির কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করো না। সে সর্বদা আমার সাথে, এ নৌকায় সবসময় ছিল; তোমরা যখন ৮ জন পর্বতশৃঙ্গে কুঠি বানাবে তার জন্য সেখানে জায়গা ফাঁকা রেখো ও তোমাদের মধ্য হতে কেউ গত হয়ে গেলে, অন্য ব্যক্তি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কোরো। প্রভু ঠিক সময়মতো সঠিক ব্যক্তিটিকে কুঠিতে পাঠিয়ে দিবেন।

এভাবে উপদেশ অনু্যায়ী কুঠি স্থাপন হয়ে যায় ও এটিকে “দ্যা আর্ক” নামে নামকরণ করা হয়। এরপর সময় গড়াতে থাকে, পরম্পরার স্রোতও বয়ে যেতে থাকে। সেই সাথে সাথে আর্কের চারপাশে শস্য, ফসল, সুবিশাল জমিজমা তৈরী হতে থাকে। এরপর দিন গড়াতে গড়াতে সে মঠের প্রধান হিসেবে জায়গা করে নেয় এক ধনসম্পত্তি মোহাবিশিষ্ট ব্যক্তি।

একদিন আর্কের একজন লোক মারা গেলে, একজন ব্যক্তি আসে, দেখতে একটু পাগল প্রকৃতির হওয়ায়, আর্কের প্রধান তাকে প্রবেশাধিকার দিতে চায়নি। কিন্তু অনেক জোড়াজুড়ির পর সে চাকর হিসেবে সেখানে স্থান পায়। এভাবেই আর্কের পরম্পরার নাশ ঘটে যায়। তবুও সাতবছর অত্যন্ত প্রাচুর্যপূর্ণ সময় অতিবাহিত হয় আর্কে; চারপাশে অঢেল শস্য, জমিজমা ইত্যাদিতে যেন সবকিছু ভরে যায়।

কিন্তু অষ্টমতম বছরে এসে ধীরে ধীরে আর্কের বাকীসব সদস্য জমিজমা দখল করে নিজ নিজ মালিক বনে যেতে থাকে; কেউ আর প্রধানকে মানে না। এরই মাঝে সেই পাগল ব্যক্তিটি যে ছিল চাকর তাকে সে প্রধানকে অভিশাপ দেয় ও তার ফলে প্রধান ব্যক্তিটি আজীবনের জন্য বোবা হয়ে যায়। শোনা যায়, কেউ কোনদিন আর সে ব্যক্তিটির মুখে কোন কথা বলতে শোনেনি।

নূহের এই মঠকেন্দ্রিক প্রাচীন এই পরম্পরাগত লোককথা শুনেছিল একজন অভিযাত্রী। তাই এই আর্ক এ আরোহণের আশায় সে তার যাত্রা আরম্ভ করে দেয়। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সে যখন পৌঁছায় তার দেখা হয় সেখানকার একজন বৃদ্ধ লোকের সাথে যার নাম শামদাম। তার কাছ থেকেই সে জানতে পারে মিরদাদের কথা। অভিযাত্রীটি সেই আর্কে কোন এক জায়গায় একটি কোণে খুঁজে পায় মিরদাদের বই। সেখান থেকেই শুরু হয়ে যায় মিরদাদের সম্পর্কে কথা। অদ্ভুত এই লোক মিরদাদ।

মিরদাদ হলো সেই ব্যক্তি যে শামদামের ছুঁড়ে দেওয়া মুখের থুতু শান্ত ভঙ্গিতে মুছে ফেলে ও তার ভেতর অস্থিরতার কোন তরঙ্গ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে না। মিরদাদ হল সেই ব্যক্তি যার নিশ্চুপ মৌন উপস্থিতিতে আর্কের সবার মাঝে কী যেন হয়ে যায়, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর যেন মিরদাদের চেহারায় ভেসে ওঠে। এ হল সেই মিরদাদ যে কীনা আর্কের সদস্যদেরকে তার মৌন নিশ্চুপতা থেকে বের হয়ে আসা কথায় সবার হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। এই স্থির, নিষ্কম্পমান, দীপ্তিতে ভাস্বর মিরদাদের অপূর্ব প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও হৃদয় নিংড়ানো কথামালা রয়েছে এ বইটির পরতে পরতে।

এ বইটি এমন যে একে বারবার পড়ার পর মনে এ নতুন, কথাগুলো এত গভীর যেন তা আমার হৃদয়ের অতলকে বারবার নতুন করে স্পর্শ করে। ওশো যখন বলে এ বইটি হাজারবার পড়ার মত বই তখন আসলে তা কতখানি সত্য এ বইটি না শোনার আগে হয়তো উপলব্ধি করতে পারতাম না। তাই শুনুন কিংবা পড়ে ফেলুন মিখাইল নাইমি অনবদ্য সৃষ্টি “দ্যা বুক অব মিরদাদ”

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *