Synopsis of “Monster” Anime

Synopsis of Anime
Monster (*Spoiler Alert)
Writer : Naoki Urasawa
Original Run : 7 April, 2004 – 28 September, 2005
Rating: 8.8/10

Death Note এর পর Naoki urasawa-এর মাস্টারপিস হল এই “Monster” নামক এনিমে। এর এপিসোড মোট ৭৪ টা। যা “Death note”– এর তুলনায় দ্বিগুণ। এটা হল মিস্ট্রি সাইকো থ্রিলার জনরার এনিমে। এর জন্য এটা দেখা আরকী। ভাবলাম বহুত গভীর চিন্তা হইছে,,, এবার একটু বিনোদন নিয়ে আসি। তবে বিনোদন আর নেওয়া হইলো না। এটাতেও ডিপ ফিলোসফিকাল ব্যাপার স্যাপারের সম্মুখীন হতে হইল।

নাম শুনে মনে হতে পারে এটার মধ্যে সুপারন্যাচারাল ব্যাপার স্যাপার আছে। কিন্তু আদপে এর ভেতর তা নেই। এখানে কাহিনীকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হইছে ও যে চরিত্রগুলো যেভাবে দেখানো হইতে তা একদম বাস্তবভিত্তিক। তারপরও সাউন্ড ইফেক্ট ও এর স্লো পেসের জন্য এটা যেকোন হরর ও থ্রিলিং এনিমের থেকেও কম না। বাস্তবভিত্তিক হয়েও এটা আপনাকে যথেষ্ট থ্রিল প্রদান করবে। আর তার কারণ হলো এর প্লট ও কেন্দ্রীয় ভিলেন চরিত্রকে নিয়ে টুইস্ট।

এটি হল দুটি বিপরীত চরিত্রের ফিলোসফি নিয়ে নিয়ে দ্বন্দ্বমূলক এনিমে। এই এনিমে নায়কের নাম থাকে হল ড. টেনমা যে কীনা একজন স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন এবং যে ভিলেন তার নাম হল ইয়োহান লিবার্ট(যদিও এটা তার প্রকৃত নাম নয়!! এনিমে দেখলে ঘটনা বোঝা যাবে) এবং সে চরম এন্টাগনিষ্ট ও নিহিলিস্ট প্রকৃতির। অপরদিকে ড. টেনমা তিনি হলেন অপটিমিস্টিক ও জাস্টিস- এর প্রতীক। কিন্তু ইনিই ঘটনাচক্রে একদিন যে হাসপাতালে তিনি কাজ করতেন সেখানে দুটো বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে আহত হয়ে আসে। ছেলেটির মাথায় গুলি লাগে। আর এ চিকিৎসা ভার নায়কটি নেয়। যেহেতু তিনি বেশ দক্ষ সার্জন তিনি ছেলেটির সফলতার সাথে অপারেশন করেন।

কিন্তু বিপত্তী ঘটে পরবর্তীতে গিয়ে এ অপারেশন হবার কিছুদিন পর ছেলেটি হঠাৎ করে হাসপাতাল বেডের থেকে উধাও হয়ে যায় ও যে মেয়েটি ছিল সেও উধাও হয়ে যায়। সবাই সন্দেহ করতে থাকে এ হল খুনীর কাজ, খুনীই ছেলে ও মেয়েটিকে কিডন্যাপ করেছে।

এরপর রহস্যজনকভাবে হাসপাতালেরই ৩ জন মারা যায়। এসব কাহিনী ঘটার পর পুলিশী তদন্ত চলে এবং একজন দক্ষ গোয়ন্দা এ কেস সমাধানের দায়িত্ব নেয়। এ ঘটনায় গোয়েন্দাটির সন্দেহ গিয়ে পড়ে ড. টেনমার উপর। কেননা যে তিনজন মারা যায় তার ভেতর একজন হলেন হাসপাতালের ডিরেক্টর যিনি ড. টেনমাকে চক্রান্ত করে তার পদ থেকে ডিমোশন দিয়ে দেয়। আর এ ডিমোশনের কারণ হলো ঐ দুটি বাচ্চা ছেলে, মেয়েকে অপারেশনের সময় একজন মেয়রের অপারেশন করার জন্য ডিরেক্টর নির্দেশনা দিয়েছিলো।

এখন অন্যান্য ডাক্তারও ছিল কিন্তু নায়কের দক্ষতা মারাত্মক লেভেলের হওয়ায় এবং মেয়রের চিকিৎসা করলে হাসপাতালের রেপুটেশন বাড়বে ও ডোনেশন পাওয়া যাবে এটা ছিল ডিরেক্টরের হাবভাব। কিন্তু ড. টেনমা এটা বুঝতে পেরে এবং সে যেহেতু প্রথমে ঐই বাচ্চা দুটির কেসই হাতে পায় সে নির্দেশ অমান্য করে ঐ ছেলের অপারেশন করে। এর ফলে তার পদ থেকে তাকে ডিমোশন দেওয়া হয়। এতে ডাক্তার যে নতুন গবেষণা করছিলেন এটার সাহায্যও বন্ধও হয়ে যায়। আর ডিরেক্টরের মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এটাও ভেঙ্গে যায়। সবমিলিয়ে প্রচন্ড ক্ষোভ আর হতাশা জন্মে ড. টেনমার মনে।

এটাকেই গোয়েন্দা হত্যাকান্ডের মোটিভ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু তারপরও সুযোগ্য প্রমাণ ও খুনের সময় ডাক্তারের অন্য জায়গায় উপস্থিতির কারণে ব্যাপারটা প্রায় নয় বছর স্থগিত থাকে। আর এ নয়বছর পর তেমন খুনটুন আর হতে দেখা যায় না।

কিন্তু নয়বছর পর। ডিরেক্টর মারা যাবার পর নতুন ডিরেক্টর আসে ও ড. টেনমা তার পুরনো পদ আবার ফিরে পায়। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিলো, কিন্তু এরপরই আসে ঘটনার আসল টুইস্ট,,,, হঠাৎ আরেকটা খুন হয় এবং সে খুনের সাক্ষী একজন চোর মারাত্মকভাবে আহত হয় ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। ড. টেনমা তাকে সুস্থ করে তোলার পর যেই চোরটি খুনীর বর্ণনা বলবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় ঠিক সেই রাতেই খুনীকে যে গার্ড নজরদারির মধ্যে রাখত সে মারা যায় ও চোরটি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়।

এরপর সেইসূত্র ধরে ড. টেনমাও চোরকে তাড়া করলে নয় বছরের সেই পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে। ভিলেনের সাথে তখন ডক্টরের মোলাকাত হয়। ভিলেনকে এত তাড়াতাড়ি দেখানো হবে এটা আমি আশা করিনি। তারপর ভিলেনটি বলে সে হল সেই বাচ্চা ছেলেটি যাকে টেনমা নয় বছর আগে অপারেশন করে বাঁচিয়েছিলো।

এরপর যে খুনগুলো হয় এটা তারই করা। এরপর ড. টেনমার নৈতিকতা, ভ্যালু তাকে হন্টিং করা শুরু করে। সে তো একজন ডাক্তার, মানুষ বাঁচানোই তার কাজ,,, কিন্তু তার বাঁচানো মানুষটাই আজ এসব ভয়ানক কাজ করছে। সে কী আসলেই ঠিক করেছে। তখন তার কাছে ভালো-খারাপের যে নৈতিকতা রয়েছে এই দ্বন্দ্ব এর যাতনায় সে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। সে ভিলেনকে থামাবার চেষ্টা করে কিন্তু তার চোখের সামনে সে ঐ সাক্ষীকে খুন করে চলে যায়।

আর এরপরে ডক্টর হতাশ হয়ে গোয়েন্দাটিকে সমস্ত কথা বললে গোয়েন্দাটি তারপরও একে কাহিনী বলে সন্দেহ করতে থাকে ও মনে করতে থাকে ড. টেনমার নিশ্চয়ই দ্বৈত চরিত্র তথা ডাবল ক্যারেক্টার রয়েছে। সে সবার সামনে ভালো মানুষ কিন্তু যখন তার ক্যারেক্টার জেগে ওঠে তখন সে খুন করে ও আবার ভালো মানুষ হয়ে উঠে।

এরপর ডক্টর হাসপাতালের কাজ ছেড়ে দিয়ে ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে ও তাকে খুন করার কামনা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এতে পুলিশদের সন্দেহ বেড়ে গেলে ও তার এভাবে হঠাৎ উধাও হয়ে যাবার কারণে সে হয়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল।

এভাবেই অপরাধী হয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে সেই ভিলেনকে খুঁজতে বেরিয়ে আরও ভয়ানক সব তথ্য বেরিয়ে আসে ও বেরিয়ে আসে গোপন অর্গানাইজেশনের কথা। ভিলেনের সম্বন্ধে মর্মান্তিক ও ভয়ানক সব তথ্য বের হতে থাকে। এবং এর সাথে আরও যুক্ত হতে থাকে অনেক চরিত্রের।

এ এনিমের মূল বিষয়ই হল ভিলেন। মানে ইয়োহানকে ঘিরে সমস্ত ঘটনা আবর্তিত হয়। আর এই চরিত্রকে এত সুন্দর করে চিত্রায়িত করা হয়েছে এটি আমাদের ভেতরকার শূন্যতা, একটা মানুষ যখন জীবনের অর্থ খুঁজে না পায় সে কিরূপ অসহায় হতে পারে ও শিশুমনে ভুল শিক্ষার কী পরিমাণ মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে তা আমাদেরে স্মরণ করিশে দিবে। ইয়োহান কে বলা যায় সে হল “Pessimistic nihilist” অর্থাৎ নেতিবাচক নৈরাশ্যবাদীর প্রতীক আর এর পেছনে রয়েছে তার অতীত জীবনের পারিপার্শ্বিক বিশাল প্রভাব যা ধীরে ধীরে এই চরিত্রটিকে গড়ে দেয়।

অপরদিকে ডক্টর এখানে আশাবাদী তার কথা হল একদিন না একদিন সুদিন আসবেই। সকল মানুষের জীবনের মূল্য সমান।
কিন্তু ইয়োহানের ধারণা হল মানুষ শূন্য,, এখানে মৃত্যু ছাড়া কিছুই নেই। তাই সবকিছু সে ধ্বংস করে দিতে চায় এমনকী নিজেকেও।

এভাবে পরস্পর দুটি ধারণা আমাদের এই এনিমের শেষে নিয়ে গিয়ে একটি গভীর বার্তা প্রদান করে যায়। নায়ক ও ভিলেন ছাড়াও এ এনিমে আরও যেকজন চরিত্র আছে তাদের নাম হলো – ডিটেক্টিভ লুংগে, এভা হাইনাম্যান, উলফ গ্রিমার, রবের্টো, নিনা, ডিটার, ফ্রান্স বোনাপার্টা ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে থেকে আমাদের পছন্দের চরিত্রটি হল উলফ গ্রিমার। আর সবচেয়ে অপছন্দ হয়েছে রবের্টো কে।

ডিটেক্টিভ লুংগে প্রথম প্রথম ভালো না লাগলেও পরবর্তীতে যেয়ে ভালো লেগেছে। ভিলেনকেও ভালো লেগেছে তবে তার থেকে বেশী লেগেছে ভয়। এরকম ইমোশনলেস ভিলেন হলে তা খুবই স্বাভাবিক, আর কথা তো বলে না যেন ঠান্ডা ছুরি। সবমিলিয়ে অনবদ্য ছিল এই এনিমে টি।

সবশেষে বলা যায়, এই এনিমে পরবর্তীতে গিয়ে আমাদের শেখায় ভালো-খারাপের দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হতে গিয়ে একটা পর্যায়ে এক চরম শূন্যতার মুখোমুখি হতে হয়। আর তখন জীবনের জন্য কিছু ভ্যালু বা অর্থ(meaning) এর প্রয়োজন হয় যা চূড়ান্ত ভালোবাসা থেকে আসে, ক্ষমা থেকে আসে, সমস্ত দ্বন্দ্বের উর্ধ্বে থেকে আসে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *