“Messiah” Series A Philosophical Review

Series Name : Messiah

Created By : Michael Petroni

All Season : 01

All Episode : 10

Original Release Date : January 01, 2020

IMDB Rating : 7.7/10

My Rating : 10/10

 

গত দুই তিনদিন ধরে এই সিরিজের ৩ টা এপিসোড দেখার পর, আজ চতুর্থ সিরিজ দেখতে গিয়ে টানা ছয় ঘন্টা একনাগাড়ে বসে সিরিজটা শেষ করে ফেললাম। এ সিরিজ অনেক কিছুই বলা যায় কিন্তু ঐইভাবে কিছুই বলা যাবে না। তবুও আমি কিছু আমি বলব।

তবে সিরিজ দেখার চেয়ে এই সিরিজের ট্রেইলারে করা কমেন্টগুলো একবার দেখেছিলাম। তবে অতটা ভালো করে খেয়াল করিনি। সিরিজ দেখার পর কমেন্টগুলো আবার দেখলাম ও খুব হাসলাম।

যাইহোক কথায় আসি,

সিরিজের কাহিনী গড়ে উঠেছে মসীহা নামক ব্যক্তিকে নিয়ে। যদিও এ ব্যক্তিটির অন্য আরেক নাম আছে। তো এই মসীহার অনেক মিরাকুলাস ক্ষমতা আছে সে পানির ওপর হাঁটতে পারে, সে রোগী সুস্থ্য করতে পারে; ব্যাপারটা এরকম যে মানবজাতির পূর্ববর্তী সব মসীহদের মতই এর অনেক মিরাকল দেখে সবাই তার পেছনে ছুটতে থাকে ও ভাবতে থাকে সেই তাদেরকে রক্ষা করবে।

কিন্তু ভেজাল বাঁধে তার এ ঘোষণায় যে সে সব ধর্মের সাথেই চলে। এতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে তাকে নিয়ে চলে কানাঘুঁষা চলতে থাকে। তার পেছনে সিআইএ এর লোক লাগে, তাকে কারাগারেও নিয়ে যাওয়া হয় কিন্তু তারপরও তাকে আটকে রাখা যায় সে এমন কতগুলো কথা বলে যে কেউ শঙ্কিত হয়, কেউ চমকিত হয়, আবার কেউ তাকে বলে ফলস প্রফেট।
কিন্তু এরই মাঝে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা তাকে বিশ্বাস করে, নতুন পথ খুুঁজে পায়, আবার কেউ বিশ্বাস করে তার নিজের মনে থাকা মসীহার সংজ্ঞা না মিলাতে পেরে অবিশ্বাসে তলিয়ে যায়।

এক্ষেত্রে বিশেষ করে আমার মনে পড়ে যায় পাদ্রীর সেই চার্চ পুড়িয়ে ফেলার কথা। লোকটার আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল সে তার চার্চ পুড়িয়ে ফেলবে। কিন্তু একদিন রাতের ঝড়ে মসীহা নামক ব্যক্তিটি এসে যখন তার মেয়েটিকে বাঁচিয়ে দিলো তখন ও সব বাড়ি ভেঙ্গেচুরে গেলেও যখন চার্চটি আর ভাঙ্গলো না তখন সে এই মসীহাকেই দেবদূত বলে গণ্য করে তার বিশ্বাস ধরে রাখতে চাইল।

কিন্তু হায়! এই ব্যাটাকে কে বোঝাবে তার কল্পিত মসীহা যে তার মনেরই আবরণ,, সে বাইবেলে খ্রিস্টকে পড়েছে বটে কিন্তু খ্রিস্টের সাথে তার সাক্ষাৎ হয়নি। আর হলেই বা কী সে তো খ্রিস্টকে বিশ্বাস করত এই কারণে যে এটা তার জন্য লাভজনক। তার এই বিশ্বাসের ঠুনকোতা দিয়ে সে কতটুকুই বা মাপবে সত্যের সীমানা,,,,, সে যখন বিশ্বাস করে তখন তাতে সন্দেহ রয়েই যায়। সে পুরোপুরি সন্দেহও করতে পারে না, একটা মনগড়া আশা থেকেই যায়।

সে অন্যের পিছে পিছে দৌড়ায় কিন্তু কে দৌড়ানিটা দেওয়াচ্ছে তাকে দেখে না। এই বিশ্বাস নিয়ে সে মসীহার পেছনে দৌড়ায়। মসীহাও শেষমেষ চলে গেলে তার মসীহা নামক কল্পনার কাঠামো ভেঙ্গে যায় এবং এই প্রয়োজনীয় ধাক্কাটা তার জন্য জরুরী ছিল।

আমরা বাইরের মসীহাকে ধরতে যাই, ভেতরের মসীহাকে দেখি না,,,, এই মসীহা চরিত্রটি যেন এ দিকেই আঙুল তুলে দেখাতে চায়। তুমি যা দেখো, তুমি আমাকে মসীহা মনে করো কিংবা মনে করো আমি ভন্ড এতে কিছু যায় আসে না,,,, তুমি যা দেখো একটি মুহূর্তে এটা ঐ মুহূর্তে তোমারই প্রতিফলন। আমি পানির উপর দিয়ে হেঁটে গেলে তোমরা বিশ্বাস করো, কেউ অবিশ্বাস করো, কেউ নিতে পারো না,,,, এই যে ধারণাগুলো এটা তোমারই কল্পনা। তুমি এক নিমেষে তোমার কল্পনার বিপরীত কোন কল্পনাকে খোলামনে দেখতে প্রস্তুত নও, হয় তুমি বিশ্বাস করবে কিংবা অবিশ্বাস করবে, কিন্তু মোটেই তুমি দেখবে না।

মসীহার অলৌকিকত্ব দেখে সবাই যখন জমায়েত হতে লাগল তাকে ঘিরে যখন কল্পনার জাল বুনতে লাগল সবাই তাবুর বাইরে তখন একটি কুকুরের আওয়াজ শুনে মসীহা বাইরে বেরোলো সেখানে গিয়ে কুকুরটিকে দেখার জন্য। তার আগে আরও দুজন ছিল একজন পিতা ও একজন পুত্র তারা কুকুরটিকে যন্ত্রণায় কাতরানো অবস্থায় দেখতে পাচ্ছিলো। তাই পিতাটি যখন কুকুরটিকে মারতে যাবে ঠিক তখনই ঘটল মসীহার আগমন।

মসীহাকে দেখে শিশুটিকে কল্পনায় যে মসীহার চরিত্রকে গুলে খাওয়ানো হয়েছে সে অনুযায়ী শিশুটি বললো যে কুকুরটিকে বাঁচিয়ে দাও। মনে মনে আমিও ভাবতে লাগলাম মসীহা হয়তো যিশুর মত কুকুরটির যন্ত্রণা উপশম করে দিবে কিন্তু একটি বন্দুকের গুলিতে কুকুরটির প্রাণনাশ হয়ে গেল। মসীহা বলল কুকুরটির আর যন্ত্রণা হবেনা। বালকটির মসীহা সাথে সাথে ভিলেন হয়ে গেল। সেই সাথে তার অনুসারীরাও হতবাক হয়ে গেল এটা মসীহা কী করে করতে পারল।

এই এপিসোডের এই ঘটনায় এসে আমিও থম মেরে অনড় হয়ে চেয়ারে বসে রইলাম পাক্কা ২০ মিনিটের মত,,,, আমি যেন কোথায় তলিয়ে গেলাম। মনের চিন্তা ফাঁকা হয়ে গেল কী ঘটল এটা। সবকিছু ধীর হয়ে গেল। নিজের শরীরও যেন স্লোমোশনে চলছে। খুব শান্ত লাগছিলো ঐ ঘটনার মুহূর্তের পরে। কিন্তু যাইহোক সে পরে আবার ফিরে এলাম সে অভিজ্ঞতা থেকে নতুন এপিসোড দেখা শুরু করলাম।

পূর্বে হয়তো এক মসীহাতে হয়ে যেত তার পিছন পিছন ঘুরে তার টেন কমান্ডমেন্ট, নিয়মরীতি মানলেই হয়ে যেত। সেটা ছিল তখনকার সময়। আর এটা এখনকার সময়। এখন মসীহাকে অনুসরণ নয় বরং মিলিয়ন মিলিয়ন মসীহা দরকার এবং তা রয়েছে তোমার ভেতরে। এই মসীহার চরিত্র যেন সেটাই মনে করিয়ে দেয়। চরিত্রগুলো যখন ব্যক্তিটিকে মসীহা বলে সে একবারও দাবী করেনি সে মসীহা। অথচ সিরিজের মানুষগুলো তাকে বলেছে সে মসীহা, সে রক্ষাকর্তা, সে মিথ্যুক, কিন্তু এটা বলে তো কোন লাভ হলো না। তাদের ছোড়া পাথর তাদের কাছেই এসে পড়ল।

এক সাইকোলজিক্যাল রিপোর্টে বলা হলো সে ভুগছে মসীহা কমপ্লেক্স নামক সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারে। এটা দেখে আমি আরেক দফা হাসলাম। আর কত লেবেল লাগাবি বাবা তোরা!!! সুপেরিওয়রিটি কমপ্লেক্স, ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স, ইদিপাস কমপ্লেক্স, মিনি কমপ্লেক্স, সুপার কমপ্লেক্স, মাল্টিমিডিয়া কমপ্লেক্স অমুক কমপ্লেক্স তমুক কমপ্লেক্স,,, 😌😌।

আসলে এই লেবেলিংটা দরকার মন যখন কোনকিছু বুঝতে না পারে তখন সে হ্যাং হয়ে যায়। সে এই হ্যাংধরা অবস্থা পছন্দ করে না। বলদটা সবসময় বুঝতে চায়। দরকার হলে লেবেলের স্টিকার মেরে দিয়ে হালকার ওপর ঝাপসা অনুমান করে হলেও সে বুঝতে চায়। কিন্তু সে মোটেও কোনকিছুকে ছেড়ে দিবে না। রহস্য তার বুঝতেই হবে কিন্তু এর সমাধান হয়ে গেলে তার আবার ডিপ্রেশন, ট্রমা হাবিজাবি লেগে যায়। এই দ্বন্দ্বের চক্করে সে ঘুরতে থাকে। কিন্তু বলদটা বোঝে না যে রহস্য কোন সমস্যা নয় এটা একটা ফাংশন। যার কারণে মানুষ এ দুনিয়াতে রস খুঁজে পায়।

মসীহা এসেছিল কিছুই করতে নয়, ভাগ্যই তাকে নিয়ে এসেছিল ভাগ্যই তাকে দিক নির্দেনা দিয়ে নিয়ে যায় কিন্তু মানুষরা চায় বিশ্বাস, আশ্বাস যা এতটাই ঠুনকো যা কোন কাজে আসে না। এটা নিয়েই তাদের লাফালাফি। স্বয়ং মসীহা আসলেও তোমরা বিশ্বাস করতে পারবে না কেননা তোমাদের মনে সন্দেহের বীজ আরোপিত হয়ে গেছে। তাহলে সন্দেহই করোনা, এর দহনে জ্বলো পুড়ো, এর পর হয়তো কিছু একটা ঘটবে।

সবচেয়ে মজার লেগেছিল এই কথোপকথনটি –

CIA – এর একজন এজেন্ট যখন কথোপকথনের এক পর্যায়ে বলতে থাকে এটা যদি ঈশ্বরেরই পরিকল্পনা হয়ে থাকে তাহলে আমিও তো এই পরিকল্পনার অংশ,,, আমি এর কিছু বুঝছি না, তখন কথোপকথনের এ দুটি লাইনে ব্যাপক মজা পেয়েছিলাম। লাইন দুটি হল এরকম –

CIA Agent : Please, enlighten me,,,

Messiah : I wish it were that simple…🤣🤣🤣

সবমিলিয়ে অনবদ্য ছিল এই সিরিজটি!!! জাস্ট টেন অন টেন। তবে প্যারাডাইম লকে পড়ে গেলে এ সিরিজটি দেখার কোন প্রয়োজন নেই। আবার অনেকের এ সিরিজটি দেখার পর প্যারাডাইম শিফটিং হতে পারে। কেননা খুব সুন্দর সুন্দর প্রশ্ন ও ইনসাইটফুল ইঙ্গিত রয়েছে এই সিরিজটিতে। মাত্র দশ এপিসোডের সিরিজটির প্রতিটি এপিসোডই চমৎকার ও মারাত্মক টুইস্টপূর্ণ। এই কমপ্লেক্স বিষয় নিয়ে এত অনবদ্য সিরিজ সচরাচর খুব কমই দেখা যায়।

তাই,

 

Go your way
I’ll go mine
And carry on
The sky is clearing
And the night has cried enough
The sun, he come
The world
To soften up

Rejoice, Rejoice
We have no choice
But to carry on
Carry on
Love is coming
To us all
Because you have choice.

 

 

 

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *