Life Is Strange

Whole Episode – 05
Director – Raoul Barbet, Michel Koch
Game developer – Dontnod Entertainment 
Publisher – Square enix
Initial Release – 29th January, 2015
Rating – 9/10

এই গেমটি হলো একটি চয়েসভিত্তিক গেম। গেমটি ৫ টি এপিসোডে বিভক্ত। ১ম এপিসোডটি রিলিজ হয় ২৯শে জানুয়ারী, ২০১৫ তে। গেমটি কোন এ্যাকশনধর্মী গেম নয়। স্টোরি টেলিং বলা যায়। এ গেমে আপনি একটি প্রধান চরিত্র নিয়ে খেলবেন এবং একের পর এক কাহিনী ঘটতে থাকবে ও সেগুলোর মুখোমুখি হবার পর বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত আসবে ও তা গেমার কে চয়েস করতে হবে ও একেকটি চয়েস পরবর্তীতে একেকটি ফলাফল ভবিষ্যতে প্রদান করবে। বাটাফ্লাই ইফেক্ট এর মত। এসব চয়েসভিত্তিক গেমের একটা ইন্টারেস্টিং পার্ট হল বিভিন্ন ধরনের অবস্থা ও ডিসিশন মেকিং করতে হয় একটি নির্দিষ্ট ঘটনার সময় যা এই গেমগুলোকে খুব ইন্টারএ্যাকটিভ করে তোলে ও এর মাধ্যমে অনেকের নিজের মানসের নানা ধরনের মোরালিস্টিক ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করা যায়। এখন অনেক গেমেই এরকম চয়েসভিত্তিক গেম দেখা যায়। এখন এ গেমটির কথায় আসা যাক।

গেমের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

এ গেমটির প্রধান চরিত্রটির নাম হল ম্যাক্স কফিল্ড। সে হল একজন ব্ল্যাকওয়েল একাডেমী নামক কলেজের স্টুডেন্ট।  সে একদিন হঠাৎ করে তার ফটোগ্রাফি ক্লাস করার সময় বুঝতে পারে যে সে সময়ের অতীতে যেতে পারে। এখন তার এ টাইম ট্রাভেল কে কেন্দ্র করে এ গেমটির পুরো কাহিনী ঘটতে থাকে। প্রথমে তার এ ক্ষমতা পেয়ে সে দারুণ খুশি হলেও পরবর্তীতে এর রেশ ধরে অনেক ঝামেলায় তাকে জড়িয়ে পড়তে হয়। তার এ শক্তি বোঝার পর সে অতীতে গিয়ে তার একজন অতি পুরনো বান্ধবী যে তার চোখের সামনে গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয় তাকে বাঁচিয়ে ফেলে। এরপর তাদের দুজনের মধ্যে সক্ষতা ও পুরনো বন্ধুত্বের সুতো আবার জোড়া লাগে।

তারপর এভাবে যতই এ গেমের কাহিনী গড়াতে থাকে ও ম্যাক্স তার ক্ষমতা বুঝতে থাকে। সে তার ক্ষমতা দিয়ে সবার ভালো করতে চায় এবং তার আশেপাশের মানুষের অতীতের টাইমলাইন পরিবর্তন করে দিতে থাকে এবং যার ফলে তাকে এবং তার আশেপাশের মানুষদের ও অবস্থার বিভিন্ন ধরনের কনসিকুয়েন্সের মোকাবিলা করতে হয়।

শুধু তাই নয় কলেজেরও ভেতরও ঘটতে থাকে কিছুদিন পর পর হঠাৎ করে মেয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে যা উদঘাটনে ম্যাক্স ও তার বান্ধবী মাঠে নামে। আর এ ঘটনা এ গেমের কাহিনীতে থ্রিল ও ডিটেকটিভ টাচ্ প্রদান করে।

এ কাহিনী মাঝে বন্ধুত্বের সম্পর্ক, পারিবারিক সমস্যা ও টিনেজদের মাঝে গড়ে ওঠা প্রবণতাগুলোও দেখানো হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র

ম্যাক্স কফিল্ড, ক্লোয়ি প্রাইস, মিঃ জেফারসন, র্যাচেল অ্যামবার, নাথান প্রেসকট, ওয়ারেন গ্রাহাম, কেইট মার্শ, ভিক্টোরিয়া চেস। এছাড়াও আরও অনেক চরিত্র রয়েছে।

কী ফ্যাক্টর

তবে এ গেমের ইন্টারেস্টিং পার্ট হল কোন ঘটনা ঘটার পর তা এ গল্পের নায়িকা ম্যাক্স আবার অতীতে যেয়ে তার যে জায়গায় ভুল হয়েছিল বা যে আচরণ করেছিল তার পরিবর্তন সে করতে পারে। আর যার ফলে পরবর্তী কনসিকুয়েন্সও পরিবর্তীত হয়ে যায়। মূলত এটাই গেমের মূল আকর্ষণীয় দিক। আর এর আবর্তে পুরো কাহিনী এগোতে থাকে।

সাউন্ডিং ও গ্রাফিক্সঃ

গেমের সাউন্ডট্র্যাকগুলো চমৎকার। একটা সুথিং, শান্ত আবহ রয়েছে এর সাউন্ডিং গুলোয়। এর সাউন্ডগুলো শুনে অন্তত আমার মনে এক শান্তভাব আমি খুঁজে পেয়েছি। গেমের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি মোটামুটি। তবে এর কাহিনীর জন্য এর গ্রাফিক্স এর ভুলত্রুটি মাফ করে দেওয়া যেতেই পারে।

শিক্ষণীয় দিক

এ গেমের কিছু শিক্ষণীয় দিকও আমি খুঁজে পেয়েছি যা আমাকে বেশ ইন্সপায়ার করেছে। এ গেমটি অনেকে অনেক পারসপেকটিভ থেকে দেখবে এটাই স্বাভাবিক। সচরাচর এই গেমের কাহিনী ও মিউজি ইমোশনালি ও আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করবে। তবে এর পাশাপাশি আমি যেই জিনিসটি বুঝেছি তা হল –

আমাদের জীবনে হল অসংখ্য চয়েসের সমষ্টি। আমরা প্রতিনিয়ত অনেক চয়েস আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত নিয়ে চলছি। আর এই চয়েসের সমষ্টিগত প্রভাব ও কনসিকুয়েন্স আমাদের চারপাশে আমরা দেখতে পাই। আর শুধু তাই নয়, এখানে অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চয়েস,  ডিসিশন খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কেননা কোন ব্যক্তির করা একটি ছোট চয়েস পুরো ব্রক্ষান্ডে প্রভাব ফেলে। আর এই গেমের কাহিনীর মাধ্যমে সবকিছুই একটার সাথে একটা কানেক্টেড ঠিক যেন মাকড়সার জালের মত একটা ঝলক পাওয়া যায়। একটি ছোট জিনিস পরিবর্তিত হলে পুরো স্ট্রাকচারটাই পাল্টে যায় যা এই গেমের মাঝে অনেকবারই দেখা যায়। যেমন –

ম্যাক্সের সাথে যখন তার ছোটবেলার বান্ধবীর অনেক বছর পর দেখা হয় তখন তার বান্ধবী বেশ উগ্র স্বভাবের ও ড্রাগ এডিক্ট হয়ে গেছে। আর এর কারণ খুঁজতে গিয়ে সে পায় তার বাবা মারা যাবার পর ও ফ্যামিলির খারাপ অবস্থা ও সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে তার এ অবস্থার মাঝে পতিত হতে হয়। তখন ম্যাক্স মায়াপরবশ হয়ে তার বান্ধবীর অতীতে যায় ও তার বাবাকে বাঁচায় এই ভেবে যে এতে তার বান্ধবী আর এ অবস্থা থাকবে না।  কিন্তু পরে অতীতে তার এই টাইমলাইন পরিবর্তনের ফলে দেখা বর্তমানে এসে ম্যাক্স তার বান্ধবীকে হুইল চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখতে পায়। তখন ম্যাক্স দ্বন্দ্বে পড়ে যায় এখন কী সে আবার তার বান্ধবীকে বাঁচানোর জন্য আবার তার বাবাকে অতীতে মরে যাবার জন্য যে কারণ ছিল তা আগের মত করে দিয়ে আসবে?

এ থেকে বোঝা যায় আমরা আমাদের ক্ষুদ্র দৃষ্টি দিয়ে ভাবতেই পারি যে এটা না হলে আমার হয়ত ভালো হত বা ঠিক হত। কিন্তু জীবনের একেকটি বিন্দু যদি আমরা মিলাতে মিলাতে আসি তবে  দেখা যায় একটা আশ্চর্য বন্ধন লক্ষ্য করা যায়। আর এ বন্ধনের একটি ছোট অংশ পরিবর্তন হলে টোটাল সমস্ত কিছু বিস্তৃতভাবে পরিবর্তিত হয়। তাই জীবনের যাতনায় অতীষ্ঠ হয়ে বা খুশির ঠেলায় ধরুন যদি এই গেমের ক্ষমতা আপনি পেয়ে যান আপনি হয়ত ঘটনাগুলো পরিবর্তন করতে চাইবেন ম্যাক্স এর মত কিন্তু আপনার পরিবর্তিত ফলাফল আশানুরূপ নাও হতে পারে।

এজন্য এ ক্ষুদ্র মন নিয়ে হয়ত বিচার করলে চলবে না আমাদের হোলিস্টিক অ্যাপ্রোচ দরকার। এ কয়েকটি জিনিসই আমি এ গেম থেকে শিখলাম। আর এর পাশাপাশি তো চয়েসের ক্ষেত্রে তো মোরালিস্টিক ব্যাপারগুলো রয়েছেই। এ গেমের প্যাটার্ণ টা বাটারফ্লাই এফেক্ট এর মত। ছোট ছোট পরিবর্তন,  পরবর্তীতে বড় বড় পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়।

সবমিলিয়ে গেমটি খেলে আপনি রহস্য, থ্রিল, নিজস্ব চয়েস মেকিং, মানুষের সাথে মানুষের মিথস্ক্রিয়ার একটা সুন্দর অনুভূতি পাবেন। আর তখন হয়ত আপনি বলে উঠবেন –

“Yes!!! Life Is Strange.”

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *