How to do Social media Fasting-7 Tips

স্যোশাল মিডিয়া ফাস্টিং হল সমস্ত রকম স্যোশাল মিডিয়া থেকে নিজেকে নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য বিচ্ছিন্ন করে রাখা। আমরা যেমন আমাদের শরীরের অঙ্গগুলিকে আরও ভালোভাবে সচল রাখার জন্য ফাস্টিং করি এটা ঠিক তেমনই। তবে এক্ষেত্রে এটা মনের স্তরে ঘটে থাকে। প্রতিনিয়ত স্যোশাল মিডিয়া ব্যাবহার করার ফলে আমাদের মনে বিভিন্ন প্রকার তথ্য জমা হয়। এসব তথ্যের সবকিছুই আবার দরকারী নয়। এছাড়াও আমরা ক্রমাগত এইসব সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যাবহারের ফলে এতে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি যে, এগুলোর জন্য আমাদের বাস্তব জীবনে অনেক সময়ের অপচয় ঘটে। একটা সময় এমন হয়ে দাড়ায় যে স্যোশাল মিডিয়া যেন আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে এমন বলে মনে হতে থাকে। তাই নিজের আপনাকে যাতে স্যোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ না করে বরং আপনিই যেন স্যোশাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এটাই হল স্যোশাল মিডিয়া ফাস্টিং-এর উদ্দেশ্য।

এখন এতদিনের অভ্যাস কীভাবেই বা দূর করবেন বা হুট করে স্যোশাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকবেন কীভাবে…. এমনসব প্রশ্ন এসেই যায়।

তাই আপনি কীভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্যোশাল মিডিয়া ফাস্টিং করতে পারেন এজন্য নিচে আমি কয়েকটি টিপস দিবো যা আপনার উপকারে আসতে পারে।

টিপস দেবার আগে কিছু বিষয় সম্পর্কে একটু বলে ভালো। দেখুন আমরা যাই করি এটা আমাদের অভ্যাসেরই ফসল। এবং এই অভ্যাসটা গঠিত হয় প্রথমে আমাদের মন থেকে। আমরা যে সামাজিক মাধ্যমগুলো ব্যাবহার করব তার প্রথম সিদ্ধান্ত আমাদের মনই নিয়েছিল। এরপর আমরা নিয়মিত তা ব্যাবহার করতে করতে একটা অভ্যাসে এসে পরিণত হয়েছে। একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, এইসব মাধ্যমগুলোতে আমরা মনের অজান্তে একটা স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে এর সাথে জড়িয়ে যাই। এখন এটার কারণ খুঁজলে দেখা যাবে যে, এই মাধ্যমগুলোর ভেতর যা কিছু আছে না কেন তা আমাদেরকে কোন না কোনভাবে আনন্দ দেয় অর্থাৎ ডোপামিন রিলিজ করায়। তাই এগুলো আমরা বারবার ব্যাবহার করি ও এতে আসক্ত হই।

তাই বলে যে, স্যোশাল মিডিয়া পুরো জীবন থেকে বাদ দিয়ে দিবো ব্যাপারটা তেমনও নয়। সবই করব কিন্তু নিয়ন্ত্রণটা যেন আমার হাতে থাকে। কাজের সময়ে যেন এ থেকে আমি উপকারটা উসুল করে নিতে পারি। আর এটা করতে পারলেই তো আমার এ মাধ্যম চালানো সার্থক হবে।

তো যা বলছিলাম, যেহেতু ক্রমাগত অভ্যাসের মাধ্যমে আমাদের সামাজিক মাধ্যমগুলোর প্রতি আসক্তি ঘটে সেহেতু ক্রমাগত এর থেকে একটু একটু করে ধীরভাবে দূরে সরে আসলে এর প্রতি আসক্তিটাও কেটে যাবে। আমাদের ব্রেনে নিউরোপ্লাসটিসিটি ঘটে যাবে অর্থাৎ ঐ বদঅভ্যাস দূর হয়ে অন্য একটি নিউরাল নেটওয়ার্কস তৈরী হবে।
এখন তাহলে টিপসের কথায় আসা যাক –

১.  প্রথমে আপনাকে মানসিকভাবে পরিষ্কার হতে হবে যে, কেনো আমি এটা করতে চাচ্ছি। আপনার এই স্যোশাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যাবহার যে আপনাকে ক্ষতির মুখে ফেলছে এটা একদম পরিষ্কার হতে হবে মনের পর্দায়। অনেক সময় দেখা যায় যে, আমরা এই অতিরিক্ত স্যোশাল মিডিয়া থেকে বের হয়ে আসতে চাই তখনই যখন দেখা যায় এরজন্য আমার সামনে অনেক কাজের ক্ষতি হচ্ছে। কিম্তু ঐ চাওয়া পর্যন্ত…তারপর মনকে নিজে নিজেই যুক্তি দিয়ে আবার স্যোশাল মিডিয়া চালাতে বসে যাই কেননা এতে আমি মজা পাচ্ছি। তাই খাতা, কলম নিয়ে বসে লিস্ট তৈরী করুন যে এই স্যোশাল মিডিয়ার ব্যাবহার আপনার জীবনের কী কী বারোটা বাজাচ্ছে এবং এ ব্যাপারে একদম মুক্তভাবে লিখুন। এ লিস্টের ভেতর হয়তো থাকতে পারে আপনি এইসব মিডিয়া ব্যাবহারের আগে প্রচুর বই পড়তেন এখন বই পড়া কমে গেছে। অতিরিক্ত চালানোর ফলে নিজের পরিবারকে সময় দিতে পারছেন না। এছাড়া নিজের আত্মউন্নয়নের পেছনে সময় দিতে পারছেন না। আপনার রাত জাগা বেড়ে যাচ্ছে ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এর ভেতর কতগুলো মিলে গেলেও ক্ষতি ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয়। তাই নিজের লিস্ট করুন।

২. লিস্ট করা হয়ে গেলে আপনি নিজের চোখে যখন দেখবেন এসব ক্ষতি আপনার হচ্ছে তখন আপনার মন এতদিন ফালতু যুক্তি দিয়ে যে ক্ষতিগুলো এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করত এবার আর সে এটা করতে পারবে না। কারণ সমস্ত প্রমাণ একদম কাগজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এতে আপনি ভেতর থেকে একটা ড্রাইভ অনুভব করবেন ও আপনার ইচ্ছা আরও মজবুত হবে। সেইসাথে আপনার হোয়াই(Why) টা আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর আপনার কাজ হবে এটা নির্ধারণ করে ফেলা আপনি এই স্যোশাল মিডিয়া বাদ দেবার সময়গুলো কী কী কাজে কাটাতে চান। সেটা হতে পারে বইপড়া, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, প্রকৃতির মাঝে ঘুরে আসা ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি স্যোশাল মিডিয়া ব্যাবহার করার ফলে যে আনন্দ পেতেন তা আপনার এসব প্রোডাক্টিভ কাজ দিয়ে রিপ্লেস করে ফেলতে পারলে মন তখন সে আনন্দে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে থাকবে এবং স্যোশাল মিডিয়া ফাস্টিং ভাঙ্গার পর আপনি এই ফাস্টিং যে কাজগুলো করে আনন্দ পেলেন তা পাওয়ার জন্য আপনার মন আপনা থেকেই এই মাধ্যমগুলোতে আগের থেকে সময় কমিয়ে আনবে। অর্থাৎ ফাস্টিং এর মাধ্যমে আপনি আপনার মনকে পুরোপুরি রিস্টার্ট দেওয়ার মাধ্যমে মিডিয়াগুলো ব্যাবহারের ক্ষেত্রে একটা সচেতনতা এনে ফেলতে সক্ষম হবেন।

৩. আপনি ফাস্টিং এর সময়গুলোতে কিছুক্ষণ সলিউটিটুড অর্থাৎ নিজে নিজে একান্তে কিছু সময় কাটাতে পারেন। এজন্য ১০ মিনিটের মাইন্ডফুল মেডিটেশন করতে পারেন। প্রতিদিন সকালবেলা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় শান্ত হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে খেয়াল করতে পারেন। এতে আপনার কোনকিছু ছাড়া ১০ মিনিট থাকার একটা অভ্যাস তৈরী হয়ে যাবে। এতে করে যদি কখনো আপনার বাসায় নেট কানেকশন চলে যায় আপনি আর বাড়িকে মাথায় তুলে বসবেন না। কেননা আপনি তো নিজের সাথে শান্ত হয়ে ১০ মিনিট বসে থাকা শিখে গেছেন। আসলে অতীতের মানুষরা একা থাকতে না পেরে পত্রিকা পড়ত আমরা এখন ফেসবুক চালাই ব্যাপারটা একই আছে। তবে গঠনমূলক কাজের আনন্দ পেতে একটু কষ্ট করতে হয় কিন্তু এর আনন্দ সামাজিক মাধ্যম থেকে পাওয়া শর্ট টার্ম আনন্দের থেকে অনেক বেশী। আর এটা আপনি বুঝতে পারবেন যখন এই ফাস্টিং এর ভেতর দিয়ে যাবেন। কেননা আমাদের মাথা যখন অহেতুক আজেবাজে তথ্য নেওয়া থেকে বিরত থাকে তখন মাথা খালি হয় এবং এই সামান্য গ্যাপ তৈরী হলে আমাদের ব্রেন খুব ভালোভাবে ফাংশন করতে পারে।

৪. স্যোশাল মিডিয়া ফাস্টিং এর ক্ষেত্রে সকাল আর রাতের ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন রাতে শোবার আগে এমন একটা জায়গায় ফোন রেখে দিন যাতে ঘুম থেকে উঠে আপনি ফোনের নাগাল না পান। তাহলে হুট করে ফেসবুকে চাইলেও ঢুকতে পারবেন না ঘুৃম থেকে উঠে। আমাদের ব্রেনে কোন কিছু করতে চাইলে তা যদি আমরা ৫ সেকেন্ডের মধ্যে করতে আরম্ভ করি তাহলে আমরা ঐ কাজের মধ্যে ঢুকে যাই কেননা ব্রেন ঐ মুহূর্তে পাল্টা যুক্তি দেবার সুযোগ পায় না। একে বলে ফাইভ সেকেন্ড রুল। এখন আপনাকে যা করতে হবে তা হলে এই রুলটাকে রিভার্স করে দিতে হবে। আপনি ৫ সেকেন্ডের মধ্যে মোবাইল হাতে না তুলে অপেক্ষা করুন তাহলে দেখবেন মনের এই হঠকারী আচরন কমে এসেছে। তখন নিজ ইচ্ছা অনু্যায়ী ফাস্টিং টা করার মত শক্তি খুঁজে পাবেন।

৫. ফাস্টিং সময় একেবারে ১ মাস কিংবা ২ মাস না করে শুরুতে ৩ দিন কিংবা ৭ দিন করার চ্যালেন্ঞ্জ নিন। এভাবে এতে একবার মজা পেয়ে গেলে আপনা আপনি সময় বাড়াতে পারবেন। ছোট ছোট স্টেপ নিন তাহলে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন।

৬. এটাকে একটা চ্যালেন্ঞ্জ হিসেবে দেখুন। কারণ আমাদের মন চ্যালেন্ঞ্জ নিতে ভালোবাসে। এতে একটা এনার্জি পাওয়া যায়। অন্যের সাথে চ্যালেন্ঞ্জ নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা সীমাবদ্ধতা হলো এতে তাকে দেওয়া টার্গেট পূরণ করে তার হেরে যাওয়া মুখ দেখে সাময়িক আনন্দ পাওয়া যায় ও অহংকারের একটা চর্চা হয়ে যায় এবং একধরনের অস্থিরতামূলক মজা পাওয়া যায়। কিন্তু নিজেকে ছোড়া চ্যালেন্ঞ্জ পূরণ করলে তাতে একধরনের সেলফ স্টিম তৈরী হয় যা পরবর্তী চ্যালেন্ঞ্জের জন্য আমাদেরকে তৈরী করে দেয়। এতে আমাদের দৃঢ়তাও জাগরিত হয়। সেইসাথে চ্যালেন্ঞ্জ পূরণ করার পর নিজেকে নিজে উপহার দিন। এতে করে আপনার সেলফ এপ্রিসিয়েশন অর্থাৎ নিজেকে নিজে আপন করে নেওয়ার শিক্ষাটাও হয়ে যাবে।

৭. লাস্ট টিপসে এসে বলব যে, বিষয়টাকে একটি খেলা হিসেবে দেখুন। ছোট ছোট পর্বে আপনার কাজগুলোকে ভাগ করুন এবং একে কাজে লাগান৷ এতে করে আপনার মনে হবে যে, আপনি কোন বিশাল বড় একটি গেমের প্ল্যান তৈরী করছেন। তাহলে একদিক দিয়ে যেমন উৎসাহও পাবেন তেমনি এটা পূরণ করার পর যে আনন্দ পাবেন তার কল্পনা আপনাকে একে ধারাবাহিকভাবে করে যাবার অনুপ্রেরণা দিবে।

সবশেষে বলব যে, এর থেকে সমস্ত টিপস যে আপনার কাজে লাগবে এমনও নয়। এছাড়া এগুলোর সবগুলো যে আমি আমার ক্ষেত্রে এই কাজটি করার সময় কাজে লাগিয়েছি এমনও নয়। ২-৩ টি টিপসেই আমি সাতদিনের ফাস্টিং করতে সমর্থ হয়েছিলাম। এক্ষেত্রে মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন, বইপড়া, চ্যালেন্ঞ্জ নেওয়া ও এই চ্যালেন্ঞ্জ পূরণ হলে এ বিষয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করার বাসনা এ কয়টি টিপস আমি ফলো করার মাধ্যমে ফাস্টিং করার পরিকল্পনা সাজিয়েছিলাম। অতিরিক্ত টিপস দেওয়া হলো এই কারণে যে সবার মানসিক গঠন আলাদা তাই অন্যগুলোও যদি কারও কাজে লাগে এজন্যই সেগুলো দেওয়া। আশা করি এই টিপসগুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন। আর এগুলো থেকে আপনি আপনার মত করে মডিফাইও করতে পারেন অথবা তৈরী করে ফেলতে আপনার সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিকল্পনা। এখানে কেবল আমি আমার কিছু পদ্ধতি শেয়ার করলাম। আপনি চাইলে আপনার চ্যালেন্ঞ্জের পরিকল্পনা সাজিয়ে তাতে বিজয়ী হয়ে সেটার টিপস কমেন্টে শেয়ার করতে পারেন। তাহলে অন্যান্যরাও উপকৃত হবে।
ধৈর্য ধরে পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *