Communism & Zen fire, Zen Wind Book Review

আজ ১৪ই জুন ‘চে গুয়েভারার’ জন্মদিন। যদিও আমি তা ভুলে গেছিলাম। ফেসবুকের কল্যাণে জানা হল। এই বইয়ের রিভিউ যে আমাকে এইদিন লিখতে হবে আর এত বিপ্লবাত্মক মিল খুঁজে পাওয়া যাবে তা আমার জানা ছিল না। কেননা আজ এক বিপ্লবীর জন্মদিনে, অন্য এক বিপ্লবী তার এই বইয়ে অন্যান্য সব বিপ্লবীদের নিয়ে ডিসকোর্স দিয়েছেন। (কী বিপ্লব রে বাবা!!!) নাম তার ওশো রজনীশ, ৮০’র শতকের “মোস্ট কন্ট্রোভার্সিয়াল গুরু”। শুরু করা যাক তাহলে-
 
১৯৮৪ সালের দিকে ওশোর রজনীশপুরাম এক্সপেরিমেন্ট ব্যর্থ হবার পর প্রায় সব দেশ তাকে তাদের অন্ঞ্চলে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়। অগত্যা তিনি আবার চলে আসেন ভারতে, যে ভারত দেশ তাকে ১৯৮০ সালে দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিলো।
 
তো এরপর তিনি পুনেতে আসেন ও সেখানে “Osho International” প্রতিষ্ঠা করেন যা এখনও আছে। আর এখানেই তিনি তার জীবনের বাকী প্রায় ৬ বছর (১৯৮৫-৯০) অতিক্রান্ত করেন। এই ৬ বছরের মাঝে তিনি এই কমিউনিজম ও জেন এই দুইটি বিষয়ের উপর ১৯৮৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি-৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ডিসকোর্স দেন। আর ডিসকোর্সটি-ই বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে যার নাম “কমিউনিজম এ্যান্ড জেন ফায়ার, জেন ওয়াইন্ড”।
 
এখন বই নিয়ে কথা বলার আগে এগুলো নিয়ে কেন বললাম?
কারণ যে সময়ে তিনি ডিসকোর্স দেওয়া শুরু করেছিলেন এই বিষয়ের উপর সে সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন গর্বাচেভের ” দুয়ার খোলা নীতি” নিয়ে ভেজাল চলছিল। আর এই প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে ওশো একটি বই গর্ভাচেভ কে উৎসর্গ করেছিলেন। কোন বই এখানে তা বলা হয়নি।
 
যাই হোক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে নেভী’র একটি দল আসে ওশোর পুনে আশ্রমে। তারা তাকে কিছু প্রশ্ন করে তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের অবস্থা নিয়ে। সেই সাথে মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিন, কমিউনিজম ইত্যাদি সম্পর্কে তার ধারণা কী এ প্রশ্নগুলোও উঠে আসে। আর এর উত্তরস্বরূপ তিনি শুরু করেন তার ডিসকোর্স। শুধু তাই নয় গর্বাচেভ যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন সে ব্যাপারেও এ ডিসকোর্সে আলোচনা করেন ওশো।
 
সোভিয়েত ইউনিয়নের ৭০ বছর ধরে লালিত করে আসা কমিউনিজম কে তিনি বলেছেন “এ মানবসভ্যতার সবচেয়ে মহৎ এক্সপেরিমেন্ট।” কিন্তু গর্বাচেভ তার দুয়ার খুলে দেয়ার ফলে যে এই ৭০ বছরের বিশাল এক্সপেরিমেন্ট ধ্বসে পড়ে যাবে এর ব্যাপারে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে সতর্ক করে দেন এবং তা রুখতে বলেন জনগণকে।
 
মার্ক্স, এন্টিমার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন, স্ট্যালিন, এদের প্রতিটি বই, কালেকটিভ ওয়ার্ক এগুলো নিয়ে বিস্তর পড়ালেখা করার পরও তিনি বলেন, “কার্ল মার্ক্স ইজ ৫০% পারসেনট, দেয়ার সামথিং ইজ মিসিং ইন হিজ আইডিয়োলজি।” তিনি এখানে বলেন কমিউনিজম হলো একটি গাছের মূল বা Root।
 
কিন্তু এর শাখা-প্রশাখা দরকার ও সেই খালি গাছের শূণ্যতা পূরণ করার জন্য। আর সেই পূরণ হবে ধ্যানের মাধ্যমে। আর ধ্যান থেকে যখন প্রতিটি ব্যক্তির ভেতরকার শূণ্যতা দূর হবে তখন আপনা আপনি এনার্কিজম সৃষ্টি হবে। তখন রাষ্ট্র, সমস্ত শ্রেণী, বর্ডার সব উধাও হয়ে সব এক হয়ে যাবে। তখন এ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এক্সপেরিমেন্ট তা সফল হবে। ওশো বলেন মার্ক্স অর্থনীতির দিক দিয়ে ও তার ইনটেলেকচুয়ালিটির দিক দিয়ে একটা দৈত্য ছিলেন। যার ফলশ্রুতিতেই তার “দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ’ কিন্তু তার মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও আত্মিক এই ব্যাপারে তেমন জানাশোনা ছিল না।
 
যার ফলে তার এ জায়গা দিয়ে কমতি ছিল। মানুষের যখন অর্থনৈতিক ও বস্তুগত দিক সবকিছু পুরো হয়ে যায় ও উপরন্তু মার্ক্সের ধর্মের সাথে আফিমকে তুলনার ফলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন এ সব অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত(স্ট্যালিনের সহায়তায়। কেন? জানার জন্য বই পড়া লাগবে), তখন তারপরও একটা শূন্য অবস্থা থেকে যায়; আর এই মিসিং জায়গাটা তিনি পুরা করতে চেয়েছেন ‘জেন’ দিয়ে।
 
তিনি মার্ক্সের দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ কে এই কারণে সমর্থন করেন যে এটা প্রথমে সমস্ত কুসংস্কারের গায়ে আঘাত হানবে, তারপর কমিউনিজম প্রতিষ্ঠা হবে। তার উপর তিনি গড়ে তুলতে চেয়েছেন ধ্যানের ইমারত। আর এভাবে তিনি মার্ক্সের সাথে বুদ্ধের হ্যান্ডশেক করাতে চেয়েছেন। যেখানে বস্তু ও অাধ্যাত্ম একসাথে মিলে এক হয়ে একটা ক্লাসলেস, নেশনলেস কমিউন প্রতিষ্ঠা হবে এবং এটা তার সময়ে না হলেও একদিন এটাকে হতেই হবে তিনি এও বলেন(এতদিন কী বাঁচুম,,🙄🙄🙄)।
 
আর একটা কথা এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ওশোর স্ট্যালিনের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যায়। যখন স্ট্যালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন এ ১ মিলিয়ন মানুষ হত্যার জন্য তিনি নিন্দিত হচ্ছিলেন,, তখন ওশো প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, তিনি আসলে কোন ১ মিলিয়ন মানুষদেরকে হত্যা করেছেন? তিনি এও বলেন স্ট্যালিন না থাকলে এই কমিউনিজম ৭০ বছর পর্যন্ত টেনে আনা সম্ভব ছিল না।
 
আর যে স্ট্যালিনের মার্ক্স,এঙ্গেল, লেনিন এদের পর তার স্থান পাবার কথা ছিল এই হত্যার ঘৃণার জন্য পরবর্তীতে তার বডিই উধাও করে দেয়া হয়েছে। হিটলারের যে ফ্যাসিজম চলছিল এর হাত থেকে যদি কেউ বাঁচিয়ে থাকে তবে তা স্ট্যালিন কিন্তু আমেরিকা এতক্ষণ লুকিয়ে থেকে তারা তাদের গুহা থেকে বেরিয়ে বিজয়ের ভাগ নিতে সোভিয়েতের সাথে যোগ দেয়, তিনি এসব কথাও বলেন।
 
আর চীনের মাও জে ডং কে কনটিনিউয়াসলি সাহায্য করে গেছেন যে লোক সে হলেন স্ট্যালিন। স্ট্যালিন সহায়তা না করলে চীনে কমিউনিজম সংঘটিত হতে পারতো না এসবও তিনি বিস্তৃতভাবে আলোচনা করেন।
 
এরপর নীটশে কে নিয়েও তিনি কথা বলেন ও তার সূত্র ধরে এনার্কিজমের ব্যাপারটাও চলে আসে। (,,,,হুফফফ 😁😁😁)
 
ওকে, তাহলে এই গেল মার্ক্স আঙ্কেলের কমিউনিজম কথা। এবার জেন নিয়ে একটা টান দেওয়া যাক। কেন তিনি ‘জেন’ কে কমিউনিজমের সাথে এক করতে চাইলেন?
 
এই ব্যাপারে তিনি বলেন অন্যান্য যে প্রক্রিয়া তার সাথে ঈশ্বরের আঁতাত রয়েছে। কিন্ত জেন এমন একটা পদ্ধতি এইখানে ঈশ্বরের কোন জায়গাই নাই। নীটশের মত করে এটি বলে ” ঈশ্বর মইরা গেছে”। বরং তারা এ কথাও বলেনা। চুপচাপ বইসা বইসা ধ্যান করে। যা অত্যন্ত সায়েন্টেফিক,, কুসংস্কারের কোন বিষয় নাই। আর মজার ব্যাপার এটার তেমন কোন প্রসারও হয় নাই (ঐ সময়) তাই এটা এখনও বিশুদ্ধ আছে।
 
এটাকে তিনি বুদ্ধবাদ, তাওবাদ থেকেও শ্রেষ্ঠ বলেছেন। কেননা বুদ্ধ যদি পিতা হয়, আর লাওৎসে যদি মাতা হয়; “জেন” হল তাদের সন্তান। আর মাতাপিতা থেকে তো সন্তান খুব চালু হয়। এজন্যই ওশো জেনের আগুন, জেনের বাতাস দিয়ে আত্মিক পূর্ণতাকে, কমিউনিজমের সাথে মিশিয়ে এক পূর্ণ ব্যক্তি ও পূর্ণ বিশ্বের কথা এই বইয়ে বলেন।
 
যেখানে প্রতিটা মানুষ দূর্বল হবে না, হবে নীটশের আকাঙ্ক্ষিত উবারমেনশ ও বিশ্ব বাউন্ডারি দেয়া দেয়াল নয় বরং হবে অসীম একতা দিয়ে বাঁধা “এক ইউনিটি”
 
এই বইয়ে বোনাস হিসেবে আছে সরদার গুরুদয়াল সিং-য়ের কয়েকটা হিলারিয়াস জোকস, জেন ডায়ালগ ও এর লাইন বাই লাইন ব্যাখ্যা ও হাইকু।
 
সবশেষে বলতে হয় এই বইটিতে কমিউনিজম, জেন, জোকস, হাইকু এসবের একটা চমৎকার খিচুড়ি পরিবেশন করা হয়েছে।
 
“বাট ইফ ইউ আর নট কারেজিয়াস এনাফ ইট মে নট বি সো টেস্টি টু ইউ
বাট ইফ ইউ আর দ্য কারেজিয়াস ওয়ান দেন ইউ উইল লাভ দেট “খিচুড়ি”।”
0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *