ওশো – নীটশের অন্তর্দৃষ্টি ও সংস্কারের বিপরীতে তার একাকী বিদ্রোহ

পর্ব – ০১

প্রশ্নঃ

ওশো,

সারা ইউরোপে বিশ্বযুদ্ধ ঘটনার আগের ও পরের প্রজন্মের মাঝে নীটশে কে নিয়ে একটি পুনর্জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে। নীটশের মতামতের প্রতি এইযে আকর্ষণ তা বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। এ ব্যাপারে যদি আপনি কিছু বলতেন?

এটা খুব ভালো খবর।

ফ্রেডরিখ নীটশে একজন অন্যতম দার্শনিক যার ভেতর এই পুরো বিশ্বের সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে, কেবলমাত্র জার্মানি নয়। তার অন্তর্দৃষ্টি সবার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু তাকে তার সমকালীন লোকজনরা ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি।

এটাই প্রত্যেক প্রতিভাশালী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সচরাচর ঘটে থাকে।

এটা যেন একটা গতানুগতিক ধারা, কোনপ্রকার ব্যতিক্রম নয়, এটা একটা নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে যে, প্রতিভাবান ব্যক্তিরা বরাবরই তার সমকালীন লোকজনদের দ্বারা ভুল বোঝার শিকার হয়। এর কারণ হলো সে তার সময়ের অনেক আগে অবস্থান করে। তাই একজন প্রতিভাশালী ব্যক্তির মৃত্যুর পর সবসময় পুনর্জাগরণের সৃষ্টি হয়। এটা হয়ত একশ বছর, দুইশ বছর সময় নিয়ে নিতে পারে কিন্তু তারপরও একজন প্রতিভাশালীকে নিয়ে পুনর্জাগরণের সৃষ্টি হয়।

এটা বেশ দূর্ভাগ্যজনক যে যেই সময়ে লোকজনরা তাকে বুঝতে আরম্ভ করা শুরু করে সে তখন আর থাকেনা। এবং সে তার সারাটি জীবন তার চারপাশে ঘিরে থাকা ভুলবোঝাবুঝি নিয়ে যন্ত্রণাভোগ করে। ধরতে গেলে সে প্রায় তার সমসাময়িকদের সাথে একপ্রকার যোগাযোগরহিত একাকী জীবনযাপন করে। আর যেইনা তাকে বুঝতে আরম্ভ করা শুরু হয় তখন সে আর সেখানে থাকেনা। সে আর কখনও তাদের ব্যাপারে জানতে পারেনা যারা তাকে পরবর্তীতে বুঝবে।

সুতরাং, এটা একদম সুনিশ্চিত ছিলো যে, ফ্রেডরিখ নীটশের একটি ব্যাপক পুনর্জাগরণ সংঘটিত হবে এবং তার কথা, তার অন্তর্দৃষ্টি সারা পৃথিবীতে প্রতিধ্বনিত হবে – শুধুমাত্র দর্শনের ক্ষেত্রে নয়, বরং ধর্ম, নৈতিকতা, নন্দনশিল্প এসব ক্ষেত্রেও। সে যা কিছুই স্পর্শ করেছে সেখান থেকেই সে একদম নতুন কিছু টেনে বের করে নিয়ে এসেছে।

আর এটাই হলো সমস্যা। কারণ হাজার হাজার বছর ধরে মানুষরা একটি বিষয়কে একরকমভাবে বুঝেছে। যখন নীটশের মত একজন ব্যক্তি শতবছরের ধারণকৃত ধারণার সমস্ত ব্যাপারটাই সমস্ত অতীতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, একা হাতে উল্টে দেয়, তখন একটা কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয় – সেইসাথে যখন একজন পাশ্চাত্য দার্শনিকের ধ্যানের ব্যাপারে কোন বোঝাপড়া থাকেনা তখন এ ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে পড়ে।

সে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়ে পড়েছিলো। মানুষের তাকে ভুল বোঝাটা এ ব্যাপার নিয়ে তার পাগলামিটা অবশ্যম্ভাবী ছিলো। প্রত্যেকেই তাকে ভুল বুঝেছে। মিলিয়ন মিলিয়ন জনসমাজের মাঝে সে এমন একজনকেও খুঁজে পায়নি যার সাথে সে হৃদয় সাথে হৃদয় দিয়ে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। সে একটা মরুভূমির মাঝে পড়ে গিয়েছিলো – এটাই তাকে পাগল করে তুলেছিলো। আর এটাই নীটশের সাথে ঘটেছিলো।

তার জীবন কেটেছে চরম হতাশার মধ্য দিয়ে, কেননা সে এই পৃথিবীকে দারুণ দারুণ সব অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করছিলো ও বিনিময়ে সে পেয়েছিলো কেবল নিন্দা। সে নতুন আলোক নিয়ে আসছিলো ও এর প্রতিউত্তরে একজন বন্ধুর কাছ থেকেও সে সাড়া পায়নি…. এমনকী তার বন্ধুরা পর্যন্ত তার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপারে বন্ধুত্বসুলভ ছিলোনা। এটাই শেষপর্যন্ত নীটশেকে উন্মাদে পরিণত করে ফেলে; তাকে পাগল হয়েই মৃত্যুবরণ করতে হয়।

নীটশের পাগল হয়ে মৃত্যুবরণ করাটা ছিলো পুরো পশ্চিমা পদ্ধতির নিন্দার ফলাফল। প্রাচ্যের মানুষদেরকেও ভুল বোঝা হয়েছে তবে যেহেতু সেখানে গহীন অন্তর্জাত ধ্যান সমাবিষ্ট একটি নীরবতা, শান্তি ও আত্মতুষ্টি ছিলো এবং একটি গভীর বোধ ছিলো যে বিষয়গুলো আসলে এরকমই – তাদেরকে সবসময়ই ভুল বোঝা হবে, সেহেতু সেখানে এ ব্যাপারে একটি স্বাভাবিক স্বীকৃতি বা গ্রহণযোগ্যতা ছিলো৷ তারা হতাশ হয়নি, তারা ক্রোধাম্বিত হয়নি; তারা উন্মাদও হয়ে যায়নি কিংবা আত্মহত্যাও করেনি।

 

পর্ব – ০২

 

অবশ্য পশ্চিমে সকল মহৎ দার্শনিকদের সাথে প্রায় এমনটাই হয়ে এসেছে – সকল দিক হতে, চারদিক হতে তাকে এবং তার গভীর আকাঙ্খাকে ভুল বোঝা হয়েছে। সে ধ্যানী ছিলো না; সে এই ভুল বোঝা অবস্থাটাকে মেনে নিতে পারেনি, এটাই আসলে স্বাভাবিক। উপযুক্ত সময় এলে তাকে সকলে বুঝতে আরম্ভ করবে, এ ব্যাপারে তার কিছুই করার নেই।

সে এই পৃথিবীতে থাকবে না…. কিন্তু এটা কোন বিষয় নয় যে কারা আসলে তাকে বুঝলো কী না বুঝলোঃ তার কাছে যা সত্য বলে মনে হয়েছে সেগুলো সে এই পৃথিবীকে প্রদান করতে পারছে এটা নিয়েই সে আত্মসন্তুষ্টি লাভ করতে পারত। এখন এটা সারাবিশ্বের ব্যাপার কবে তারা এগুলো বুঝবে অথবা কোনদিন বুঝবেই না। মানুষদের এ নিয়ে প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে সে কোনভাবেই দায়বদ্ধ নয়।

কিন্তু পশ্চিমা দর্শন, পশ্চিমা ধর্ম এরা উভয়ই ধ্যানের উৎকর্ষতার ব্যাপারটি সেভাবে ধরতে পারেনি। এবং এটা নতুন একটি জিনিসের সৃষ্টি করেছে। যখন নীটশের মত একজন মানুষ পাগল হয়ে যায়, তখন তার চারপাশে ঘিরে থাকা শত্রুরা – যারা তাকে ভুল বুঝেছিলো ও তাকে পাগল বানিয়ে ছেড়েছিলো – তারা এই পাগল হয়ে যাওয়া অবস্থার ফায়দা তুলে নেয়। তারা ক্রমাগত বলতে থাকে যে, তার দর্শনই আসলে ভুয়া যার ফলস্বরূপ সে আজ পাগল।

তার পাগলামিই প্রমাণ করে যে, সে ভুল, আর এ পাগলামি আজকের নয়, বরং সে আজীবন এরকম পাগলই ছিলো। সে যা কিছুই বলুক না কেনো সেগুলো হলো পাগলের প্রলাপবাক্য। সুতরাং, এই পাগলামিটা তাদের পক্ষে একপ্রকার শক্তপোক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিলো নীটশেকে একেবারে খারিজ করে দেবার জন্য, তাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন করে ফেলে দেবার জন্য। আর এটাই নীটশের সাথে ঘটেছিলো।

তবে পুনর্জাগরণ যে হবে তা ছিলো একেবারে নিশ্চিত। যার মাঝে এতটুকু পরিমাণ সত্য লুকিয়ে রয়েছে সেটাকে তুমি সবসময় ভুল বুঝে যেতে পারবেনা – এবং নীটশের মাঝে ছিলো মারাত্মক অন্তর্দৃষ্টি। যদি সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে বুঝে নেওয়া যেতে পারে তাহলে এটা পশ্চিমা মানসে অনেক কিছুর পরিবর্তন ঘটাতে সাহায্য করবে।

উদাহারণস্বরূপ, নীটশে ছিলো একমাত্র ব্যক্তি – যে তার পাগলামির মাঝে থেকেও “Antichrist” নামটি না লেখা ব্যতীত তার নাম স্বাক্ষর করতো না। এত পাগলামির মাঝেও সে এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলোঃ যে সে একজন Anti-Christ, খ্রিস্ট এমন একটা পরম্পরার সৃষ্টি করেছে যা মানবজাতির জন্য খুবই বিপদজনক, সে মানবমনকে পুরো দূষিত করে দিয়েছে, এমনকী ছোটখাটো বিষয়ের ব্যাপারেও।

যেখানে মানুষরা সবসময় খ্রিস্টের গুণগাণে মুগ্ধ থাকতো সেখানেই তারা নীটশের খ্রিস্টের বিপক্ষে কড়া সমালোচনা শোনার পর তাদের আক্কেল গুড়ুৃম হয়ে যেতো। যেমনঃ যখন খ্রিস্ট বলে, “যদি কেউ তোমার এক গালে থাপ্পড় দেয় তার জন্য আরেক গাল পেতে দিও।” নীটশেই ছিলো প্রথম ব্যক্তি যে এটা বলতে পেরেছিলো যে, এই ধরনের কাজ করাটা যে তোমাকে থাপ্পড়টা মেরেছে তার পক্ষে অপমানজনক।

এখন, তার এ কথা বোঝার জন্য বিশেষ বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হবে। সে এখানে বলছে যে, তুৃমি তোমার গাল অন্যকে পেতে দেওয়ার মাধ্যমে তুমি তাকে হীনমানবের স্তরে টেনে আনছো ও এদিকে তুমি তাকে দয়া করে ভেতরে ভেতরে ঈশ্বর বনে যাচ্ছো। মানুষের মত আচরণ করোঃ সে তোমাকে যেভাবে থাপ্পড় মেরেছে তুমিও তার গালে আচ্ছা করে সেরকম একটা চড় বসিয়ে দাও।

আর এই যুক্তিতর্ক যা তখনকার সমসাময়িক খ্রিস্টানদের কাছে অদ্ভুত লেগেছিলো তা আদপে ছিলো খুবই সরলঃ “এই পদ্ধতিতে তুমি আর সে যে সমান তা প্রমাণ করছো। ‘আমিও তোমার মতই একজন মানুষ। যদি তুমি আমাকে মারো, তাহলে আমিও তোমাকে মারবো। আমি কোন ঈশ্বর নই, আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারবো না।’ যারা ক্ষমা করে দেবার প্রাণান্ত চেষ্টা করে থাকে তারা ভেতরে ভেতরে সূক্ষ্ম অহংকার বহন করে চলে। তারা অন্য ব্যক্তিদের দয়া করার ভান করে ভেতরে ভেতরে তাদেরকে প্রায় পশুর স্তরে নামিয়ে এনে একপ্রকার আনন্দ লাভ করতে থাকে। এটা কাউকে কষে থাপ্পড় মারার থেকেও জঘন্য! মানুষের সাথে মানুষের মতই ব্যাবহার করো।”

 

পর্ব – ০৩

 

তুমি একটু দৃষ্টিপাত করলেই বুঝতে পারবেঃ যে ব্যক্তি তার নিজের গাল অন্যকে পেতে দেয় তুমি তার চোখ, মুখ এবং তার কথার মাঝে বিরাট গর্ব ও প্রবল অহংকারের প্রতিচ্ছবি তুমি দেখতে পাবে। এমনকী যিশু নিজেই যখন ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় ছিলো তখন এইভাবে আকুতি জানাচ্ছিল, “হে পিতা এই লোকগুলোকে ক্ষমা করে দাও, ওরা জানেনা ওরা কী করছে।” সে তখনও ক্রুশে থেকে এটা প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে কীসের জন্য তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হচ্ছে – ব্যাপারটা এমন যে, সবাই হলো মূর্খ সেই-ই একমাত্র সর্বজ্ঞ ব্যক্তি।

আর এটাই ছিলো যিশুর ব্যাপারের ওপর নীটশের অন্তর্দৃষ্টি যে, সে এখানে ক্ষমাশীলতার প্রতি জোরপ্রদান করছে না, সে জোরপ্রদান করছে, “ওরা জানেনা ওরা কী করছে। তারা জানে না কেন তারা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করছে। তারা এটা বুঝতে পারছে না যে তারা ঈশ্বরের একমাত্র পুত্রকে ক্রুশবিদ্ধ করছে।” সহজ কথায় বলতে গেলে বলা যায়, “তারা হলো গর্দভ। তাদের মাফ করে দাও – তারা ঈশ্বরের শাস্তিরও যোগ্য নয়।”

ক্রুশবিদ্ধ অবস্থায় থেকেও তার অহংকার এমনই দৃঢ় ছিলো। সে মোটেই একজন বিনয়ী মানুষ নয়। যদিও সে বিনয়ী হবার শিক্ষা দেয় কিন্তু সে কখনও তার সারাজীবনে বিনয় দেখায়নি। নিশ্চিতভাবেই তার বিনয়ের শিক্ষাটা হলো তোমার অহংকারকে এতটাই সূক্ষ্ম করে দেওয়া যাতে করে এটা বিনয়কে তার খাদ্য ও পরিপুষ্টি সাধনে কাজে লাগাতে পারে। সে যে একজন বিনয়ী মানুষ নয় তা একেবারে সুনিশ্চিত৷ তার পুরো জীবনে এমন কোন নিশানা নেই যে, যেখানে সে বিনয়ীভাবে আচরণ করেছে।

সে হলো মসীহ্ যার জন্য তোমরা শতাব্দীর পর শতাব্দীর অপেক্ষা করছো, তাই ঈশ্বর এখন তার আপন পুত্রকে এ ধরায় পাঠিয়েছেন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য – তার এ সমস্ত ঘোষণা মোটেই বিনয়ের নিদর্শন নয়, একজন ব্যক্তি যে কীনা অতিসাধারন এসব বাক্য মোটেই তার হতে পারেনা।

যিশু অতি নগণ্য মানুষ নয় – সে হলো সবার চেয়ে উপরে। এমনকী সকল নবী-রাসূলদের থেকেও উপরে, মূসা, ইব্রাহীম অথবা ইলিয়াস এরাও তার ধারেকাছে নেই। তারা তো কেবল নবী-রাসূল ছিলো, বার্তাবাহক মাত্র। সে হলো ঈশ্বরের একমাত্র পুত্র এবং সে স্পষ্ট এও বলেছে যে, সে ইব্রাহীমেরও আগে ছিলো।

দেখো অবস্থা, ইব্রাহীম, যিশুরও তিনহাজার বছর আগে জীবিত ছিলো আর যিশু কীনা বলছে সে ইব্রাহীমেরও আগে ছিলো। সে আসলে বলার চেষ্টা করছে যে, অনন্তকাল ধরে সে বিরাজমান, সেই-ই হলো অসীম ও বাকীরা সব সময়ের মাঝে ফুটে ওঠা ছোট ছোট বুঁদবুঁদ। নবী-রাসূল যাবে আসবে কিন্তু সে চিরকাল ছিলো এবং চিরকাল ধরে থাকবে।

নীটশে হলো পুরো পাশ্চাত্য ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যার যিশু খ্রিস্টের মানসিক ব্যাপারাদির ব্যাপারে গভীর বোঝাপড়া ছিলো এবং অতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গী ছিলো যা কোন ফ্রয়েড কিংবা ইয়ুং যা করতে পারে তার থেকেও সূক্ষ্ম। তার কাছে প্রায় সমস্ত অন্তর্দৃষ্টিই ছিলো। সে সাইকোএনালিসিস প্রতিষ্ঠিত করতে পারতো। সে চাইলে কমিউনিজমকেও প্রতিষ্ঠিত করতে পারত। এমনকী এনার্কীজমও সে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতো।

সে আসলেই বিশাল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে ঐ ক্ষেত্রের মূলে গিয়ে পৌঁছেছে। কিন্তু মানুষরা হাজার বছর ধরে এক জিনিস বুঝে এসেছে ও হঠাৎ করে এরকম বিপরীত ব্যাখ্যা শোনার কারণে তারা এগুলোকে গ্রহণ করার বদলে ব্যাখ্যা ও ব্যাখ্যাকারী মানুষটাকেই প্রত্যাখ্যান করাটা বেছে নিয়েছিলো। এবং সমাজের মানুষের দ্বারা যতভাবে সম্ভব ঠিক ততভাবে সে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো। তার সারাজীবন কেটে গিয়েছিলো একাকীত্বতা ও নিঃসঙ্গতায়।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *