হিরাক্লিটাস – সজীব গতিশীলতা ও নতুনত্বতা

“একই নদীতে দুইবার গোসল করা যায়না।” – হিরাক্লিটাসের একটি প্রসিদ্ধ উক্তি এটি। তার এই উক্তি নিয়ে যতবারই ভাবি নতুন করে কিছু একটা আবিষ্কার করি ও তার প্রতি আমার শ্রদ্ধাবোধ চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তেই থাকে। এ পৃথিবীর সবকিছুই গতিশীল ও এ কারণে কোনকিছুকেই পুরনো বলার জো নেই। যেই নদীতে গোসল করতে গেলাম সেই নদীতে পুনরায় গোসল করতে গিয়ে দেখলাম সে পানি আর আগের পানিতে নেই, সবটাই বদলে গিয়ে নতুন নদীতে পরিণত হয়েছে।

বস্তুত এটাকে আমরা যদি একটি দৃষ্টিভঙ্গীরূপে দেখি ও ধারণ করার একটা কল্পনা করি তাহলে একটা চমৎকার ম্যাজিক সৃষ্টি হবে আমাদের আচরণে। আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের ভেতরে প্রতিসময় কিছু না কিছু ভাবের অবস্থার উঠানামা হয়। সেই অনুযায়ী একেক সময় একেক ধরনের আবেগ, উচ্ছ্বাস এসব প্রকাশ পায়। যেমনঃ রাগ, ঘৃণা, ক্রোধ, ভালোবাসা, দয়া, ক্ষমা ইত্যাদি। আমরা নিত্যদিনকার আচার-আচরণে একজনের সাথে আরেকজনের যে ব্যবহার সেখানে কেউ যদি কারও সাথে বিরূপ আচরণ করে থাকে তাহলে সেই আচরণের রেশ আমরা সহসা মন থেকে চলে যেতে দিতে পারিনা। যার ফলে আবার সে ব্যক্তির সাথে দেখা হলে তার পরিবর্তিত অবস্থা বুঝে আচরণ করতে পারিনা, অতীতে তার কাছ থেকে পাওয়া বিরূপ ব্যাবহার বারবার এসে তাকে সেই পুরনো ব্যক্তি বানিয়ে আমাদের চোখের সামনে উপস্থাপন করে।

এ অবস্থায় যদি আমরা হিরাক্লিটাসের মতকে অনুসরণ করি, তাহলে আমরা যে মুহূর্তে লোকটি আমার সামনে যেমনটি রয়েছে তার সাথে আমি তেমনটিই ব্যাবহার করতে পারবো ও প্রতি নতুন সাক্ষাতে তাকে নতুনভাবে দেখার দৃষ্টি আমার খুলে যাবে। সে যদি আমায় এক সাক্ষাতে গাল দিয়েছে, হয়তো তার সবকিছু ঠিকঠাকভাবে চলছিলো না। কিন্তু আরেক সাক্ষাতে যখন তার সাথে আমার দেখা হলো সে তো হাসিমুখেও থাকতে পারে কেননা এতদিনে নিশ্চয়ই সেও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, আর আমিও পরিবর্তন হয়ে গিয়েছি। এভাবে দুজন নতুন দুটি মন নিয়ে বার্তালাপ তো করা যেতেই পারে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা পুরনোকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই, প্রতিমুহূর্তে জীবনস্রোতের নতুনত্বে গা ভাসাতে চলতে ভয় পাই। আমরা বুঝতে পারিনে যে, আমাদের চারপাশটা সবসময় আগের মত থাকেনা, প্রতিমুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। আমি দেখতে সেই ছোট্ট শিশুটি নই যে এখনও হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটে, সে এখন বড় হয়েছে ও এই বড় হওয়াটাও ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলাফল। তাহলে সবাই যদি এ ক্রমাগত পরিবর্তনের স্রোতে চলে তাহলে আমরা আমাদের ভেতরে থাকা মানসিক আবেগজনিত অসুবিধাগুলোকে গাছ যেমন তার পাতাগুলোকে ঝরে দিতে যায় তেমনি করে সম্পূর্ণরূপে ঝরে পড়ে দিতে পারবো।

এরকমভাবে আমরা শিশুদের মত মন খুলে যেমন ঝগড়াও করতে পারবো তেমনি পরমুহূর্তেই হাসতে হাসতে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবো। আমাদের প্রতি সাক্ষাৎ হয়ে উঠবে সজীবতায় ভরপুর, প্রেমিকের পাঁকাচুল, প্রেমিকার বয়সের ভারে কুন্ঞ্চিত মুখাবয়বের মাঝেও আবিষ্কার করতে পারব সেই শিশুমনের পরিষ্কার শুভ্রতা বরং তার থেকেও পরিপক্ক শুভ্রতার। কেননা এ সেই শুভ্রতা যা শিশুমনের সাথে প্রজ্ঞাকেও ধারণ করে আছে, আর তা হলো নিত্যনতুন সজীব দৃষ্টিভঙ্গী যেখানে কিছুই পুরনো নয়, সবকিছুই সদা নতুন, সদা গতিশীল।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *