স্পিনোজা দর্শন প্রসঙ্গ – ০৩

গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছিলাম স্পিনোজার দ্রব্য, প্রত্যংশ, ঈশ্বর ও জ্ঞানতত্ত্ব নিয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা স্পিনোজার শুভ ও অশুভ, আবেগ, বন্ধনমুক্তি এবং অমরত্ব নিয়ে আলোচনা করব।

শুভ ও অশুভঃ

স্পিনোজার শুভ ও অশুভ সম্পর্কে ধারণা বুঝতে হলে আমাদের একটু বৃহৎ ও সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে বুঝতে হবে।

আমাদের গতানুগতিক ধারার শুভ ও অশুভের ধারণার সাথে এটা মিলানো চলবে না। আমরা যেভাবে আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলিকে মোটাদাগে সেটা যদি আমাদের নিজের মঙ্গল আনে তা শুভ ও নিজের অমঙ্গল আনে তা অশুভ এটা ধরে নেই, সেটার ধারণা নিতান্তই আত্মকেন্দ্রিক ও ক্ষুদ্র গন্ডিতে আবদ্ধ। মানুষ তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলিকে তার ক্ষুদ্র গন্ডি দিয়ে বিচার করে কিন্তু স্পিনোজা এখানে সামগ্রিকভাবে তার এই ধারণাগুলোকে নেবার কথা বলেন।

স্পিনোজা বলেন যে, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের কর্ম ও আচরণ যতই শুভ বা অশুভ বলে বিবেচিত হোক না কেন, অনন্ততার প্রেক্ষিতে বিচার করা হলে এদের সবই সমানভাবে পরিপূর্ণ, পর্যাপ্ত ও বাস্তবসত্তার পরিপূর্ণ প্রকাশ বলে প্রতিভাত হবে। অর্থাৎ ঈশ্বরের অনন্ত সত্তায় নৈতিক বিচার বিবেচনার কোন স্থান নেই। মানুষের খন্ডিত দৃষ্টিকোণ থেকে যা শুভ বা অশুভ, ন্যায় বা অন্যায় ঈশ্বরের সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে থেকে তা সমানভাবে প্রকাশিত। যেমনঃ আকাশ থেকে ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। আমরা হয়তো বলে উঠবো, আহা! কী চমৎকার বৃষ্টি। কারণ আমাদের অনেকের কাছে বৃষ্টিকে সুখের কারণ হয়ে ওঠে বিধায় একে মনে হবে শুভ। কিন্তু ঠিক অন্যদিকে সেই একই বৃষ্টি কিছু মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিবৃষ্টির ফলে বন্যায় অনেকেরই ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। সুতরাং, তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বৃষ্টি অশুভ বলে প্রতীয়মান হবে।

তবে, বৃষ্টির ক্ষেত্রে কী আদৌ কোন শুভ, অশুভ এগুলো কোন অর্থ বহন করে, করে কী? বৃষ্টি তো শুভ-অশুভ ভেবে আকাশ থেকে ঝরে পড়ে না। বৃষ্টি কেবল আকাশ থেকে ঝড়ে পড়ে। তাই সবার ক্ষেত্রে এটা সমানভাবে বর্ষিত হয়।

তাই, এ উদাহারণের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাবো যে, স্পিনোজা এখানে শুভ-অশুভ ধারণার যে দ্বৈত চিন্তা রয়েছে তা অতিক্রম করে সামগ্রিক একটি দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলেছেন যেখানে সবকিছুই পরমশুভ (Absolute Good)। আর যে ব্যক্তি তার খন্ডিত দৃষ্টিকোণের সীমানা অতিক্রম করে এই পরমশুভের অবস্থাপ্রাপ্ত হয় তখন সে পরমশুভের ঐকতানের সাথে তাল মিলিয়ে তার প্রতিটি কার্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারে।

আবেগঃ

আবেগের ক্ষেত্রে স্পিনোজা আমাদেরকে বলেন আমাদের মাঝে ইন্দ্রিয়গত কিছু প্রবৃত্তি রয়েছে যার ব্যাপারে আমাদের সংযত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সংযত হতে হলেও তা জোরপূর্বক হবার কথা তিনি বলেননি। তিনি বলেছেন যে, আমাদের যেমন নেতিবাচক প্রবৃত্তি আছে তেমনি আমাদের মাঝে ইতিবাচকতাও রয়েছে। আর সেগুলোর মধ্য থেকে ভালোবাসা হলো সবচেয়ে উৎকৃষ্ট। এবং এ ভালোবাসার শক্তি দিয়ে আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়গত নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলোকে বশ করতে পারি। এখানটায় এসে স্পিনোজা ভালোবাসার ওপর যেভাবে জোর দিয়েছেন তাতে তাকে দর্শনের রুমি হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়।

বন্ধনমুক্তিঃ

অন্ধ ভাবাবেগ মানুষের প্রজ্ঞাসম্মত স্বভাব পরিপন্থী। এদের প্রভাবেই বহির্জগৎ মানুষের ওপর আক্রমণ চালায় এবং এরা মানুষের প্রজ্ঞাসম্মত জীবনযাপনের শক্তি বিনষ্ট করে। এখন প্রশ্ন হলোঃ এসব ভাবাবেগকে দমন করা যায় কীভাবে? কীভাবেই-বা মানুষ যথার্থ মহৎ জীবনের সন্ধান পেতে পারে?

স্পিনোজার মতে, প্রাজ্ঞিক ভ্রান্তি সংশোধন করা যতটুকু কঠিন, তার চেয়েও বেশি কঠিন ভাবাবেগসমূহকে দমন করা। প্রাজ্ঞিক ভ্রান্তি দূর হয় যথার্থ জ্ঞানলাভের মাধ্যামে। কিন্তু শুধুমাত্র নিছক জ্ঞানের সাহায্যে এ ভ্রান্তি দূর করা সম্ভব নয়। মাঝে মাঝে আমরা শুভ কাজ করার কথা বলে, বাস্তবক্ষেত্রে তা পালন নাও করতে পারি। তাই এক্ষেত্রে শুভ-অশুভ এবং ন্যায়-অন্যায় জ্ঞান ইত্যাদি থাকাও যথেষ্ট নয়। আমরা যে কর্মপন্থা অনুমোদন করি তাকে যদি অনুসরণ করতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদের একে নিজ থেকে স্বাধীনভাবে পছন্দ করতে হবে। এজন্য স্পিনোজা বলেন, শুভকে কামনা করা এবং অশুভকে ঘৃণা ও বর্জন করা আমাদের পক্ষে একান্তই দরকার। আমাদের মন যত শুভকে কামনা করবে তার ইচ্ছার দ্বারা এটি ততই তার দিকে আকর্ষিত হবে ও ফলস্বরূপ নেতিবাচক গুণগুলোকে বর্জন করতে হবেনা বরং তা আপনা থেকেই এর প্রভাব আমাদের ওপর থেকে কমে আসবে।

স্পিনোজার মতে, পরমসত্তাকে জানার বাসনা মানবসত্তার এক অলঙ্ঘনীয় দাবী। এরচেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোন জ্ঞান নেই, থাকতে পারেও না। এই সর্বোচ্চ জ্ঞানকে স্পিনোজা ঈশ্বরের জ্ঞান বলে অভিহিত করেছেন। এ জ্ঞান থেকে যে পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় তাতেই মানুষের মুক্তি নিহিত।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে, স্পিনোজা এখানে যে ঈশ্বরকে বুঝিয়েছেন তা কোন ধর্মীয় ঈশ্বর নয়, যদিও ধর্মে যে ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে গভীর অর্থেই বোঝানো হয়েছিল রূপক আকারে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় মানুষের ক্ষুদ্র দৃষ্টিকোণের কারণে তার আসল সত্তা বিনষ্ট হয়েছে। স্পিনোজা তার ঈশ্বরের মাধ্যমে এক গভীর আধ্যাত্মিক দিকের প্রতি আমাদের ইঙ্গিত দেন। তাই তাকে সাধারণ খোদা বা ঈশ্বর ধারণার সাথে গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

স্পিনোজা ঈশ্বর নিয়ে বলেন যে, “আমরা বস্তুকে যত বেশী জানি তত বেশী জানি ঈশ্বরকে। আর ঈশ্বরকে যতবেশী জানি, ততই ভালোবেসে থাকি। হিংসা, বিদ্বেষ, ঈর্ষা ঐশী জ্ঞানের পবিত্রতাকে কলুষিত করতে পারেনা। একই প্রেমের বন্ধনে আমরা যতবেশী সংখ্যক মানুষকে ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখি, ততই বেশী সুদৃঢ় হয় এ জ্ঞান। কোন মানুষের পক্ষে ঈশ্বরকে ঘৃণা করা কিংবা ভালোবাসা সম্ভব নয়। কারণ মানুষ ঈশ্বরেরই অংশ এবং অংশ হিসেবে সমগ্রকে ঘৃণা করা কিংবা এর প্রতি উদাসীন থাকা একটি অসম্ভব ও স্ববিরোধী ব্যাপার। তাই অংশ হিসেবে ঈশ্বরকে ভালোবাসাও যায় না কেবল সমগ্র হয়ে আমরা সেই ঈশ্বরত্বের ভালোবাসায় পরিণত হতে পারি ও তা উপলব্ধি করতে পারি। কেননা আমাদের খন্ডিত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আমরা যে তাকে ভালোবাসবো তা সদা স্বার্থযুক্ত। অথচ ঈশ্বর হলেন স্বার্থশূন্য। এর প্রতিদানে ঈশ্বর মানুষকে ভালোবাসবে – ঈশ্বরের জ্ঞানে এ ধারনার স্থান নেই। ঈশ্বরের কাছ থেকে প্রেম দাবী করার কোন অর্থ নেই। আর এ দাবী করার অর্থই হলো ঈশ্বরের অনন্ততাকে অস্বীকার করা। ঈশ্বরকে যদি সসীম বলে কল্পনা করা হয় তাহলে তা মানুষের জন্য সুখশান্তি বয়ে আনবে না।

স্পিনোজা এখানে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ঈশ্বর হলো নির্বিকার। আমাদের মতো ঈশ্বরের সমগ্র দৃষ্টিভঙ্গিতে কোন ভাবাবেগ নেই। সুখ-দুঃখের অনুভূতি বলেও তার কিছু নেই। তিনি সব জিনিসে পরিব্যপ্ত এবং সব জিনিসের ব্যাপারে সত্য। আর এজন্য তার ভালোবাসা অসীম, অনন্ত। তার ভালোবাসায় কোন স্বার্থপরতা নেই, এর ভালোবাসা সদা সবকিছুর মাঝেই প্রবাহিত হচ্ছে ও সদা বর্তমান। তিনি এমন এক শাশ্বত সত্তা যার দৃষ্টিতে সব দেশ ও কাল একত্রে বিরাজমান (simultaneous)। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সবজায়গাতেই তিনি সর্বত্র উপস্থিত।

সুতরাং, এ বোধে অবতরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের সসীম দৃষ্টিভঙ্গি বিসজন করে পরমদৃষ্টিভঙ্গিতে উপনীত হয়ে বন্ধনমুক্ততা লাভ করতে পারি ও প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে পারি।

অমরত্বঃ

স্পিনোজার মতে আমরা ঈশ্বরের অংশ। আমাদের মৃত্যু হয় কিন্তু সনাতন ও অনন্ত ঈশৃবরের কোন বিনাশ নেই। ব্যক্তির দেহ জাতিদেহের এক একটি কোষস্বরূপ। টিকে থাকা দেহের কাজ। এভাবে ব্যক্তিগত অস্তিত্ব নিয়ে দেহ যতদিন টিকে থাকে তার সঙ্গে সমান্তরালভাবে চলতে থাকে অভিজ্ঞতার এক প্রবাহমান ধারা। আমাদের মন বাস্তবসত্তার এমন একটি বিশেষ উপাদানের সঙ্গে যুক্ত, যা অন্যান্য পদার্থ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং অন্যান্য পদার্থ থেকে স্বতন্ত্র। এজন্যই যেসব জড়পরিবেশ তাকে পরিবেষ্টিত করে রাখে, অপরাপর বস্তু থেকে তাকে স্বতন্ত্র রাখে, তাদের বিনাশের সঙ্গে সঙ্গে তা-ও বিনষ্ট হয়ে যায়।

তবে দেহ ও মনের সমন্বয়ে গঠিত আমার আত্মসত্তার যদিও একটি শুরু ও শেষ রয়েছে তবুও আমার অস্তিত্বের ঘটনাকে কোনমতেই অস্বীকার করা যায়না, কোনকিছুই একে ধ্বংস করতে পারেনা। একটি বিশেষ সময়ে জন্মগ্রহণকারী, একটি বিশেষ জীবনযাপনকারী এবং একটি বিশেষ সময়ে প্রাণত্যাগকারী এই ‘আমি’ – কে একটি বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে কেউ সরাতে পারেনা। অসীম ঈশ্বরের অংশ হিসেবে আমিও অবিনশ্বর।

অনাদি অনন্তকাল ধরে আমি অনন্ত ঘটনারাশির এমন একটি ঘটনা যাকে কেউ স্থানান্তরিত করতে পারবে না। সুতরাং অনন্তকাল ধরে আমি টিকে থাকব।

স্পিনোজার মতে, আমি যদি নিজেকে মহাকালের প্রেক্ষিতে দেখি এবং পরমসত্তার অংশ হিসেবে দেখি তাহলে আমি আমাকে পরমসত্তায় সদা-বিদ্যমান একটি ঘটনা বলেন প্রত্যক্ষ করি। এ অর্থে আমার সসীম দেহ-মন সংযুক্ত অস্তিত্ব অমর হয়ে যায়।

প্রচলিত অর্থে অমরত্ব বলতে আমরা যা বুঝি, এ অমরত্ব ঠিক তা নয় যা কেবল বিশেষ ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে চিরকাল পৃথিবীতে অমর হয়ে রয়ে যান এমন নয়। কেননা সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে অমর হয়ে যাওয়া কর্মও আজ থেকে দশ কিংবা বিশ হাজার বছর পরে তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে বিলীন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যা সদা অস্তিত্বমান, সনাতন তার সাথে যে আমরা গভীরভাবে যুক্ত হয়ে রয়েছি সে বোধই হল অমরতা। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সবাই অমর।

আর ক্ষুদ্র অর্থে আমরা যে দৃষ্টিলাভ করি তাতে আমার ক্ষণস্থায়ী কালিক জীবনের সঙ্গে একটি মুহূর্তও সংযোজিত হয়না। তা আমাদের মৃত্যুকে স্থগিত রাখতে কিংবা রহিত করতে পারেনা। তা আমাদেরকে পার্থিব জীবনের নির্দিষ্ট স্থিতিকালের বেশী সময় বেঁচে থাকার কোন ক্ষমতা প্রদান করেনা। অথচ আমাদের কাছে এ স্থিতিকালই সব। তবুও সময়কে অতিক্রম করার এবং আমার সংক্ষিপ্ত জীবনকে সনাতনত্বের গুণ অর্জনের লক্ষ্যে মিয়োজিত করার এটিই যথার্থ সময়। পার্থিব জীবদ্দশায় পরমসত্য ও শুভের অনুশীলন দ্বারা কলুষযোগ্য হয়েও দেহ নিষ্কলুষ রূপ ধারণ করতে পারে, মরণশীল হয়েও অমরত্ব লাভ করতে পারে। এতক্ষণ অমরত্বকে যে অর্থে নেওয়া হয়েছে সেই অর্থে শুধু মানুষ নয় অন্যান্য জিনিসও অমরত্বের অধিকারী। অস্তিত্বকে যখন আমি সনাতনত্বের দৃষ্টি নিয়ে দেখি, তখন শুধু আমার মনই নয়, আমার দেহসহ অপরাপর জড়বস্তুকে ঐশী সত্তার এমন অংশ বলে দেখা যায় যাকে কেউ বদলাতে কিংবা মুছে ফেলতে পারেনা এবং যা স্বরূপতই কালাতীত ও মৃত্যুহীন।

তাই বলা যায় যে, মানবমনকে তার দেহের মত সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় না। দেহবিনাশের পরও এর মধ্যে এমনকিছু উপদান অবশিষ্ট থাকে যা শাশ্বত ও সনাতন। প্রকৃত অর্থে যিনি ঈশ্বরকে সামগ্রিক দৃষ্টি দিয়ে দেখেন ও ভালোবাসেন তার সসীম মন ঈশ্বরের চিরন্তন শাশ্বত সত্তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায় এবং তিনি তখন হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, হতাশা, অসন্তোষ প্রভৃতি অশুভ ভাবাবেগ থেকে মুক্ত হয়ে যায় যান বা বলা যায় এসব তাকে আর অতটা প্রভাবিত করতে পারেনা। তখন তিনি মৃত্যুকে আর ভয় করেন না। কারন তখন তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে, মৃত্যু পরমসত্তার অন্তর্গত একটি স্বাভাবিক ঘটনা যা স্বজ্ঞার সত্তাকে নষ্ট করতে পারেনা। এভাবেই মানুষ পাপমুক্ত হয়ে লাভ করে সেই সামগ্রিক পরমানন্দ, পরমজ্ঞান, পরমশুভকে। তখন তার মানবীয় বন্ধন থেকে উত্তরণ ঘটে চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম স্বাধীনতায়।

আর এ পর্যায়ে এসে স্পিনোজার মত করে বলতেই হয় যে,

“We feel and experience ourselves to be eternal.” – Baruch Spinoza (Ethics)

 

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *