সাইকেডেলিক – পর্ব ০৩

সাইকেডেলিক – পর্ব ০৩

সময়টা ছিল তখন ১৯৬০ সাল। আমেরিকাতে তখন হিপি(Hippie) আন্দোলন চলছিল। এই আন্দোলনের মূলে ছিল সাইকেডেলিক। সারাক্ষণ কর্ম করে পাশ্চাত্যের আধুনিকতার তোরণ নির্মাণে সবকিছু উজ্জ্বল হয়ে উঠলেও কিছু যেন হতাশা, অবসাদের ছায়া সেখানে দানা বেঁধে উঠেছিল। অর্থসম্পদ তো অনেক হল কিন্তু শান্তি, কোথায় সে শান্তি মিলবে!

এভাবে তখন ধীরে ধীরে সাইকেডেলিকের বিপ্লব ঘটতে শুরু করে। আলবার্ট হফম্যানের হাত ধরে LSD -এর প্রত্যাবর্তনে তখনকার পাশ্চাত্য সমাজের একটি অংশের মানুষেরা এটা নিয়ে আগ্রহী হয়ে পড়ে। কেবল তাই নয়, আরও অনেক সাইকেডেলিকের সন্ধান বের হতে গোপনে গোপনে যা পরবর্তীতে সাইকেডেলিকের বিপ্লব ঘটাতে থাকে।

এরই সূত্র ধরে অ্যাপল আবিষ্কার হয়নি তখনও, স্টিভ জবসের হাতে তখন বেশ ডলার জমেছে। একদিন সে তার বন্ধু ড্যানিয়েল কোটকে কে বলল যে চলো ভারতে যাই। ড্যানিয়েল কোটকের যদিও তেমন অর্থ ছিল না। তবুও স্টিভ জবসের আশ্বাসে দুই বন্ধু বেরিয়ে পড়ে ভারত ভ্রমণে যেথায় তারা যাবে একজন ভারতীয় সাধুর মন্দিরে যিনি ইতমধ্যেই গত হয়ে গিয়েছেন।

অন্যদিকে রিচার্ড আলপোর্ট নামক একজন হার্বাট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর তার মাতৃবিয়োগের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। ঠিক তখন তারই এক বন্ধু যার পরবর্তীতে নাম হয়েছিল ভগবান দাস বললেন যে চলো হিমালয়ে তোমাকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। প্রচুর অনিচ্ছাসত্ত্বেও তার বন্ধুর পিড়াপীড়িতে রিচার্ড যেতে বাধ্য হন তার বন্ধুর সাথে হিমালয়ে।

ভগবান দাস ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার ভারতে যাতায়াত করেছিলেন। যার ফলে তার রাস্তা বেশ ভালোই চেনা ছিল। তারা রাতের বেলা হিমালয়ের ছোট মন্দিরটিতে যেথানে তাদের যাবার কথা সেখানে যাবার আগে একটি বাড়িতে রাতে থাকার জন্য থামলেন। রাতের বেলা যেখানে অজস্র তারার ঝিকিমিকি তার টানে রিচার্ড আলপোর্ট বাড়ি থেকে বের হয়ে আসেন ও বিশাল মহাকাশে তারাগুলোকে দেখতে দেখতে তার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। মাত্র ছয় মাস হয়ে গেছে তিনি মাতৃহারা হয়েছেন। এগুলো ভাবতে ভাবতে সকাল হয়ে আসে। তারা তখনও তাদের গন্তব্য থেকে ১০০ মাইল দূরে ছিলেন।

যথারীতি যখন তারা দুইজন তাদের গন্তব্য, হিমালয়ের সেই ছোট মন্দিরটিতে পৌঁছলেন, তারা দেখতে পেলেন যে একজন সাধু টাইপের একজন লোক বসে আছে ও তাকে ঘিরে রয়েছে বেশ কয়েকজন লোক। সেই লোকগুলো তার পা ছুঁয়ে প্রণাম করছে ভারতীয় রীতি অনুযায়ী সাধু সন্তদের এভাবেই শ্রদ্ধা জানানো হয়। ভগবান দাস গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম জানালেন। কিন্তু রিচার্ড তখন পকেটে হাত দিয়ে রয়েছেন, তার ইতস্ততা বোধ হচ্ছে, আফটার অল তিনি একজন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর বলে কথা তিনি কীভাবে এই অদ্ভুত কর্মটি করবেন।

একটু পর সাধুটি হাত দিয়ে রিচার্ডকে ইশারা করে বললো, “এসো, এসো, এদিকে এসো, বসো এখানে। গতকাল রাতে তুমি ঘর থেকে বেরিয়ে আকাশের তারা দেখতে দেখতে তোমার মাকে স্মরণ করছিলে তাই না,,, আর তোমার মা প্লীহাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। এই ছোট কয়েকটি কথা সাথে সাথে তখন হার্ভার্ড প্রফেসর রিচার্ডের বিচার-বিশ্লেষণ যুক্ত মনকে থামিয়ে দিল। মুহূর্তের মাঝে তার সমস্ত আইডেনটিটিতে যেন জোরে একটা ধাক্কা লেগে গেল।

আর যিনি এই ধাক্কাটা দিলেন রিচার্ডকে ও যে সাধুর মন্দিরের সন্ধানে হিপি হয়ে স্টিভ এবং তার বন্ধু ড্যানিয়েল কোটকে বেরিয়েছিলেন তার নাম হল নীব কারোলি বাবা। এই সাধুর সংস্পর্শে এসে সাইকেডেলিক নিয়ে গবেষণা করা হার্ভার্ড প্রফেসর রিচার্ড আলপোর্ট পরিণত হন রাম দাসে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *