সব

ঘরের ভেতর আর বাইরে কোথাও কোনও পার্থক্য নেই,
তুমি যেখানে সেখানে তুমিই, তোমার ঘর, ভেতর, বাহির, সব একসাথে।
যে মনে করবে সে ঘরের বাইরে তার ভেতরে আসতে হবে সে কোনদিন ঘরে ঢুকতে পারবে না।
যে মনে করবে ঘরের বাইরে যাবে সে কোনদিন ঘরের বাইরে যেতে পারবে না।
কে কোথায় কোনদিন কবে, কোনসময়, কীভাবে বাইরে গিয়েছে কিংবা গেছে ভেতরে!
নিথর খেলা চলছে এথায়, কোনখানে?
তুমি যেথায় সেইখানে!
আমি কোথায়?
ভেতরে না বাইরে?
না ভেতরে, না বাইরে…
তাহলে কোথায়?
ভেতরে, বাহিরে একসাথে,
প্রবাহিত হয়ে তুমি করছো চলাচল।
কীসের ওপর দাড়িয়ে আছো?
আমার ওপর,
সে জায়গাটা কেমন?
নিথর, স্থির, থেমে যাওয়া ঘড়ির মত।
কেউ কোথাও যায়নি কেন?
যাওয়া কখনো সম্ভব নয় বলে,
আমি যাই, তুমি যাও; তাহলে কীভাবে?
স্বপ্নে যাই, স্বপ্নে আসি!
স্বপ্নে দেখি বাইরে যাই, আবার ফিরে ভেতরে আসি;
কিন্তু কোথাও কী গিয়েছি,
না! এখানেই আছি, সবার সাথে, একসাথে;
আমি নড়িনি, নড়েছে আমার ইচ্ছা,
হয়েছে এসব –
ভেতর ও বাহির, তুমি, আমি, সব।
কী অসহ্য! ফিরে যেতে, যেতে চাই ঘরের ভেতর।
একই ভুল, করে সৃষ্টি বারবার, ঘুরতে থাকে চক্র, সৃষ্টি করে জাল, এক মাত্রা থেকে দুই, দুই থেকে তিন, তিন থেকে চার এবং আরও অনেক।
ঘরে আসতে চাইলে, ঘরে আসা হয়না,
কেননা তোমার ঘর নেই, বাড়ি নেই,
সবাই তোমাকে ঘরে ফেরার মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়েছে,
তাহলে বাইরে কী কাটাবো সারাজীবন?
তুমি কী বাইরে?
দেখো তো একবার,
তুমি কোথায়? কোনদিকে? কোনখানে? কীভাবে?
তুমি ঝুলে আছো, যার না আছে তল, না আছে উচ্চতা;
একেবারে স্থির বিন্দু! কিংবা সেটাও নয়!
কিছু নড়ল তো, সৃষ্টি হলো,
হলো ভেতর এবং বাহির,
ভাবো তোমার ভেতরে আসা, কেবলই ধোঁকা;
ভেতরে আসতে তুমি চোখ বন্ধ করো, দুর্বল প্রচেষ্টা;
চোখ খুলে বাইরে তাকিয়ে দেখো,
বন্ধ চোখে যা দেখেছো তাই তোমার বাইরে দাঁড়িয়ে,
তাহলে ভেতর কোথায়, আর কোথায় তোমার বাহির!
তুমি এক মাস্তুলবিহীন ছেঁড়া পালওয়ালা নৌকা,
কখনও এখানে, তো কখনও করে করে তোমার যাত্রা শেষ, গন্তব্য নেই,
কেননা ঘর নেই, ঠিকানা নেই, কিছুই নেই;
তবুও থাকো তুমি কিছুর মাঝে, অন্তর্লীন হয়ে,
নিত্যছন্দ জড়িয়ে রয় তোমার পরতে পরতে।
সহসা বুঝে উঠাটাও যেন ছন্দ, নৃত্য, তোমারই কারসাজি কিংবা আমার!
কে জানে?
বলবে কে?
তুমি না আমি?
যেথায় যেথায় আমার পা চলে যায়,
সেথায় সেথায় গড়ে ওঠে রাস্তা;
যদি এদিকে যাই, বদলে যায় সময় ও এর নিশানা,
এভাবে আমি জানি অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ।
আমি টুকরো, বৃহৎ এর সাথে যুক্ত হলে, সমস্তকে জুড়ে দেই আমার সাথে, তোমার সাথে, সবার সাথে;
সবার সদা সন্ঞ্চরীণশীল পথনির্দেশনা আমাকে দিশা দিয়ে নিয়ে চলে সামনে কিংবা পেছনে,
অথচ দেখো আমি কিছুই জানি না, অজ্ঞ, সনাতন, যেথায় ছিলাম আছি সেখানে;
তবু আমি জানি সবাইকে, সবকিছুকে।
আমি নই বিচ্ছিন্ন,
আমার ভেতর সবার চলাফেরা
তৈরী করে পথ, ঘর, বাড়ি সব;
সবাই যা করে তাই ঠিক।
এভাবে তোমার পরিণতি তুমি নির্ণয় করো নিজে,
আমি কেবল দেখি, আমি তা জানি,
এভাবে আমি জানি, বুঝি ভাগ্যকে,
যা যায়না এড়ানো কোনভাবে।
এসব কী তাহলে, রহস্য, ঠাট্টা, অসহায়ত্ব;
তুমি অস্থির হয়ে আছো,
শান্ত হওনি এখনো,
এখনও জানার জন্য তোমার অস্তিত্ব ব্যাকুল,
যাও বই পড়ো গিয়ে, বানাও তবে ম্যাপ, তৈরী করো পদ্ধতি, সাজাও পাশার গুটি,
আমি খেলবো তোমার সাথে,
আর তুমি খেলবে আমার সাথে।
তোমাকে শিখাবো কীভাবে কাটতে হয় গুটি একের পর এক, তারপর তোমায়, নিজেকে;
যখন খোয়া যাবে গুটি সব
চারদিকে তাকিয়ে দেখবে সব সরব, নীরব;
ঘর ভেঙ্গে গেছে,
ভেতর মিলছে, বাহিরের সাথে,
বাহির মিলছে ভেতরের সাথে।
তুমি মিলছো আমার সাথে,
আর আমি মিলছি তোমাতে।
এরপর বলো কোথায় তোমার প্রশ্ন, খোঁজ, অন্বেষা, রহস্য!
সমস্ত পর্দা খুলে দিয়েছি, নগ্ন হয়ে এসেছি তোমার সামনে,
বলো এখনও কী ডুববে, তলাবে না আমাতে
নাকী আরও চালবে পাশা গুটি,
হেরে হবে কুটিকুটি!
সভ্যতা এগোবে সামনে, আরও সামনে; সেইসাথে আমাকে বোঝার রাস্তা হবে প্যাঁচালো,
এগুলোই তোমার ব্যস্ততা, অলীক সমীক্ষণ, পর্যবেক্ষন;
রাখো এসব, থাকো এখানে আজীবন,
মেনে নিয়ে সব, রাজি হয়ে একসাথে, সবাইকে নিয়ে, একইসুরে, সমতানে, ভালোবেসে মগ্ন হয়ে, আঁখি ভিজিয়ে, হেসেখেলে, রাগে, ক্ষোভে, ঈর্ষাতে, সবমিশিয়ে একসাথে, বিষ-অমৃত সহযোগে, অদ্ভুত অনুভবে, শো শো, চিন, চিন আওয়াজে, প্রতিক্ষণে, প্রতিরাতে, প্রতিদিনে, এখানে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *