সদগুরু – আধ্যাত্বিকতার পথে সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে আলোচনা

সদগুরু এখানে আধ্যাত্বিকতার পথে সূক্ষতার ব্যাপারে কথা বলছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন কেন কিছু মানুষ তাদের পরমসত্য লাভের পথে হতাশাজনক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়। তিনি আমাদেরকে বলেন যে কীভাবে একজন আধ্যাত্ব পথে কোন অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা সৃষ্টি না করে তার নিজের সত্যানুসন্ধান জারি রাখতে পারে। 

সদগুরুঃ

আধ্যাত্বিকতা কঠিন কিছু নয়। এটা  এমন যে এতে সূক্ষ্ম কিছু ব্যাপার রয়েছে যা মানুষরা ধরতে পারে না। হতাশার ব্যাপার হলো যে তুমি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবার জন্য যে চেষ্টা করছো সেটিও একটি কর্ম। তোমার বৃদ্ধি হবে না যদি না তুমি আকাঙ্খা তৈরী করো, “আমি চাই আমার বৃদ্ধি হোক, আমি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে চাই।” একইসাথে যদি আকাঙ্খা চলতে থাকে যা নিজেই একটি কর্ম – এটি তখন নতুন কর্ম সৃষ্টি করতে থাকে।

যাই হোক, যদি তুমি এমন একটি অবস্থায় পৌঁছতে পারো যেখানে তুমি তোমার জীবনকে  অত্যন্ত গভীরভাবে জড়িত ও  প্রবলতার সাথে পরিচালনা করতে পারো এবং এরপরও তুমি যদি এর ব্যাপারে উদাসীন থাকো তাহলে এটা খুবই সহজ।

তোমাকে অবশ্যই গভীরভাবে সংযুক্ত থাকতে হবে, তোমাকে এমনভাবে কার্যগুলো করতে হবে যেন মনে হয় এর উপর তোমার জীবন নির্ভর করছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তোমার কাছে এটা আসলে কিছুই নয়। তুমি যাই করো না কেন, এটা হতে হবে এমন যেমনটা অবস্থা নির্দেশ করে; এর বেশীও নয়, কমও নয়। যেই মুহূর্তে তোমার কাছে এটা কিছু বলে মনে হবে, সেই মুহূর্তে এটা তোমার কাঙ্ক্ষিত স্বার্থে পরিণত হয়ে যাবে।

এটা যাই হোক না কেন তোমার সন্তুষ্টি, সুখ, টাকা অথবা তোমার স্বর্গে যাবার বাসনা যেই মুহূর্তে তুমি এর পিছনে কোন উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করবে সেই মুহূর্তে তুমি এটাকে কাঙ্ক্ষিত স্বার্থে পরিণত করবে। এবং যে মুহূর্তে তুমি  একটি কাঙ্ক্ষিত স্বার্থে একে পরিণত করবে সে মুহূর্তে তোমার মাঝে কোন আধ্যাত্বিকতা থাকবে না।

মানুষরা বলে থাকে যে, “কর্মের ফল আশা করো না” এবং তারা এটার ভুল অর্থ করে যেন “ফলাফল কোন বিষয় নয়।” ফলাফলের ভূমিকা রয়েছে। যখন আমরা কোন কিছু করি তখন এই ভেবেই করি যেন তা কাজ করে, তাই নয় কী? যখন তুমি কোন কর্ম করো তখন তুমি এর বিষয়ে ভাবো এবং প্রতিনিয়ত তা প্রয়োগ করো যাতে এটা কাজ করে।

এটা এমন যে ব্যক্তিগতভাবে তোমার কাছে এটা কোন বিষয়ই নয়। তুমি এর থেকে কিছু লাভও করো না এবং কিছু হারাও না। তুমি এটা করো যদি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজন হয় তখন। আর যদি এটা প্রয়োজন না হয় তাহলে তুমি তোমার সকল জিনিসপত্র গুটিয়ে নাও এবং চুপচাপ বসে থাকো। একবার যদি তোমার ভেতরে এরূপ স্বাধীনতা তৈরী হয়ে যায় তখন তোমার কর্ম একটি সচেতন বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়ে যায়।

যদি তোমার জানতেই হয় কোন কিছুর সাথে গভীরভাবে জড়িত থেকেও সে বিষয়টি তোমার কাছে অর্থহীন মনে হবে সে সম্পর্কে, তাহলে এটি একমাত্র সম্ভব হবে যদি তোমার ভেতরে কোনকিছুর সাথে সম্পর্কযুক্ত হবার ব্যাপারে কোন ভয় কাজ না করে।

এরজন্য হয় তোমাকে পাগল হতে হবে নাহয় পরমসুখ দ্বারা পরিপূর্ণ থাকতে হবে অথবা এমন কাউকে গভীরভাবে ভালবাসতে হবে যার জন্য অন্য সবকিছুর প্রতি তোমার ভেতরে একটি উদাসীনতা কাজ করবে। এই তিনটি গুণের অন্তত একটি না থাকলে এটা খুব কঠিন হয়ে দাড়ায় কোন কাজ অত্যন্ত গভীরভাবে সম্পৃক্তার সাথে করা এবং এরপরও এরপ্রতি উদাসীন মনোভাব রাখা।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *