সত্য কোন বিশ্বাস নয়, অনুসন্ধানের দীর্ঘযাত্রা – ওশো

সত্য কোন শিল্প নয় যা কাউকে শেখানো যাবে; এটা হলো একটা অসুখের মতো যা কেবল একজনের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যখন তুমি এমন কারো সান্নিধ্যে থাকো যে সত্যকে জেনেছে হয়তোবা তখন তুমি এ অসুখে সংক্রামিত হয়ে পড়তে পারো।

এই পৃথিবীর সকল কালের সমস্ত রহস্যবাদীরা একটি ব্যাপারে একমত যে, সত্যকে কখনও ভাষার স্তরে নামিয়ে আনা যাবেনা। এদিকে সকল ধর্মতাত্ত্বিকেরা ঠিক এর বিপরীতটা করছে। সকল রহস্যবাদীরা একমত যে, সত্যকে প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ দেবার কোন পন্থা নেই কেননা এটা একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়। ভালোবাসার জন্য কী তোমার কোন প্রতিষ্ঠান আছে? আর ভালোবাসায় অন্তত দুজন মানুষ জড়িত থাকে, এটা আন্তঃসম্পর্কীয়।

ধর্ম সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত। এর সাথে তোমার ছাড়া আর কারও কোন সম্পর্ক নেই।

তোমাকে ক্যাথলিক, প্রটেস্ট্যান্ট, খ্রিস্টান, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ এসব ভীড়ের মাঝে শামিল হবার কোন প্রয়োজন নেই। এইসব ভীড় মানুষের সত্য অর্জনের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, কারণ তারা একটা ভ্রান্ত ধারণা দিয়েছে যে তোমার অনুসন্ধানের কোন প্রয়োজন নেইঃ “যিশু সব জানেন – আর তুমিও বোকার মত যিশুকে বিশ্বাস করে ফেলো, বুদ্ধ সব জানেন – আবারও তুমি তা বিশ্বাস করে ফেলো। তোমার কিছুই প্রয়োজন নেই।” তারা সত্যকে এত সস্তা বানিয়ে ফেলেছে যে পুরো বিশ্ব তা বিশ্বাস করে বসে আছে ও এর অন্ধকার কুঠরীতে বসবাস করছে। সেইসাথে তারা অজস্র মিথ্যার মাঝে হাবুডুবুও খাচ্ছে।

শুরুতেই বিশ্বাস করা হলো মিথ্যা। বুদ্ধের যে সত্যপ্রাপ্তি ঘটেছে তা তুমি কীভাবে বিশ্বাস করবে? তুমি কীভাবেই বা বিশ্বাস করবে যিশুর সত্যপ্রাপ্তি ঘটেছে? যেখানে তার সমসাময়িকেরা পর্যন্ত তাকে বিশ্বাস করতে চায়নি আর তুমি তো বিংশ শতাব্দী পরের ব্যাপার! তার সমসাময়িকেরা তাকে একজন পাগল ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেনি। তারা তার উপস্থিতি পর্যন্ত সহ্য করতে পারতো না। সেইসাথে তারা তার ধ্বংস হয়ে যাবার বাসনা অন্তরে পোষণ করতো। আর তুমি কীনা বলছো সে যে সত্যপ্রাপ্ত এ ব্যাপারে তুৃমি জানো? কীসের ভিত্তিতে তুমি এটা বলছো?

তোমার বিশ্বাস নিজেকে ধোঁকা দেবার উপায় ছাড়া আর কিছুই নয়। তুমি অনুসন্ধানের, খোঁজের, আবিষ্কারের কঠিন পথে অগ্রসর হতে চাওনা। এটা কঠিন কেননা তোমাকে তোমার সমস্ত কুসংস্কার ঝেড়ে ফেলতে হবে এবং তোমার মাঝে থাকা আরোপিত অতীতের শর্ত যা তোমাকে সত্য, তোমার নিজেকে জানা থেকে বিরত করে রেখেছে সেগুলোকে বিসর্জন দিয়ে নিজেকে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। কোন ধর্মীয় বিশ্বাস (Belief) তোমাকে সাহায্য করতে পারবে না, আর সকল ধর্মের ভিত্তিই হলো বিশ্বাস – এজন্য এগুলোকে বলা হয় বিশ্বস্ততা (Faith)। এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদেরকে বলা হয় বিশ্বস্ত (Faithful)

সত্য হলো অনুসন্ধান, কোন বিশ্বস্ততা নয়। এটা হলো খোঁজ, কোন ধর্মীয় বিশ্বাস নয়। এটা কোন প্রশ্ন নয়, একটা যাত্রা; আর তোমার এটিকে খোঁজার জন্য বহুদূর যাত্রা করতে হবে। এই দীর্ঘযাত্রা এড়ানোর জন্য তুমি অতিসহজেই ধোঁকা খেয়ে যাও। তুমি খুব সহজেই অন্যের ধোঁকায় পড়ে যাও যে তোমাকে ধ্বংস করার জন্য আয়োজন করে বসে আছে। তাছাড়া স্বাভাবিকভাবেই ভীড়ের মাঝে থাকতে বেশ আরামই লাগে। ৬০০ মিলিয়ন ক্যাথলিক রয়েছে, এটা বেশ আরামপ্রদ এবং তুৃমি এটা ভেবে ফেলো যে ৬০০ মিলিয়ন মানুষ ভুল হতে পারেনা। তোমার ভুল হতে পারে কিন্তু ৬০০ মিলিয়ন মানুষ তো আর ভুল হতে পারেনা। এছাড়া এই ৬০০ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে সবাই একই রকম ধারণা পোষণ করে। ৪০০ মিলিয়ন হিন্দু মনে করে তারা সঠিক; অন্যথায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ তাদের সত্যে বিশ্বাসই বা করবে কেন? মুসলিম, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষেরাও এরকমটাই ভাবে।

সত্যের অনুসন্ধান হলো একাকীত্ব থেকে একাকীত্বতার পানে ডানা মেলে দেওয়া।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *