সত্য – একটি দুঃসাহসিক অভিযাত্রা । ওশো

সকল ধর্ম তোমাকে ভীড়ের অংশ করে রেখেছে, ভীড়ের ওপর নির্ভর করে রেখেছে। তারা তোমার ব্যক্তিস্বতন্ত্রতা কেড়ে নিয়েছে, তারা তোমার কাছ থেকে তোমার স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তারা তোমার বুদ্ধিমত্তাকে কেড়ে নিয়েছে। আর এগুলোর পরিবর্তে তারা তোমাকে দিয়েছে কতগুলো ফালতু বিশ্বাস যার কোন অর্থই নেই।
আমি সুনির্দিষ্টভাবে কোন ধর্মের বিরোধী নই, আমি সকল ধর্মের বিরোধী। আমার সিদ্ধান্ত হলো ধার্মিক হওয়াটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয়। একজন বুদ্ধ হয়তো সত্য জেনে থাকতে পারে কিন্তু যেই মুহূর্তে বুদ্ধ মারা যায় সত্যও সুগন্ধি নির্যাসের মতো উধাও হয়ে যায়। এটা তখন মহাবিশ্বের গভীরে প্রবেশ করে।
সবারই সত্যকে বারবার খুঁজে বের করতে হবে, ব্যাপারটা বেশ ভালো; অন্যথায় সত্য একটি বিরক্তিকর ব্যাপারে পরিণত হতো। এটা হলো একটা দুঃসাহসিক অভিযাত্রা ও পরমানন্দ এবং এটা সর্বদা এমনই দুঃসাহসিক অভিযাত্রা হয়েই থাকবে, কারণ এটাকে কেনা যায়না, এটাকে ধার করা যায়না, এটাকে চুরি করা যায়না, এটাকে বিশ্বাসও করা যায়না। তাই একে অনুসন্ধান ও খোঁজ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
অনুসন্ধানের ব্যাপারটাই অত্যন্ত চমৎকার। এর প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দের কেননা প্রতিমুহূর্তে তোমার জীবন থেকে কিছু ঝরে পড়ছে৷ আর এদিকে আমরা মিথ্যা দ্বারা ঘিরে রয়েছি৷ প্রতিটি পদক্ষেপে কিছু মুখোশ খুলে খুলে পড়ে ও তুমি তোমার আসল রূপের সাথে পরিচিত হও। এবং যখন তোমার কাছ থেকে সমস্ত মিথ্যা মুছে যায় তখন তুমি নিজেই একটি আলোকে পরিণত হও, আর এই মুহূর্তই হলো ধর্মপ্রাণতা (Religiousness)।
আমি চাই এই সমগ্র বিশ্ব ধর্মপ্রাণময় হয়ে উঠুক – কিন্তু কোনপ্রকার প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের অংশ হিসাবে নয় বরং একটি মুক্ত অনুসন্ধানরূপে যা ব্যক্তির স্বাধীনতা থেকে জাগরিত হবে। তখনই তোমার কাছে থাকবে কর্তৃত্ব। একমাত্র তখনই তুমি কিছু বলো আর নাই বলো এমনকী তোমার নীরবতাও হয়ে উঠবে প্রবচন, তোমার অঙ্গভঙ্গিগুলির মাঝেও থাকবে ঐশ্বরিকতা। যারা সংবেদনশীল তারা সাথে সাথে বোধিপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি একধরনের প্রবল টান অনুভব করবে, তার চোখ ও উপস্থিতির মাঝে থাকা চৌম্বকীয় আকর্ষণ তারা অনুভব করতে পারবে।
কাউকে ধর্মান্তরীত করার কোন প্রয়োজন নেই; সকল প্রকার ধর্মান্তরীতকরণ নোংরা। যখন তুমি কোন সত্যপ্রাপ্ত ব্যক্তির সামনে আসবে তুমি তার প্রেমে পড়ে যাবে। এটা কোন ধর্মান্তরীতকরণ নয়, সহজভাবে বলতে গেলে তুমি এখানে আর কোনকিছুই করতে পারবে না। তুমি থাকা সত্ত্বেও কিছু একটা তোমাকে নতুন একটি দিকে, নতুন একটা মাত্রার দিকে আকর্ষণ করতে থাকবে৷
মূলত আমি সত্য অনুসন্ধানের জন্য ব্যক্তি স্বাধীনতার পক্ষে। দূর্ভাগ্যবশত এই কারণে আমাকে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিরোধ করতে হচ্ছে। কিন্তু এটা মোটেই আমার কাছে আনন্দপূর্ণ নয়, এটা কেবল একটা নোংরা কাজ যা আমাকে বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে।
0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *