শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত – ওশো

শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত – ওশো

আমরা খুব সৌভাগ্যবান যে আমরা এই ছোট্ট পৃথিবীটাতে বসবাস করতে পারছি। এটা এ মহাবিশ্বের অন্যতম ছোট একটি গ্রহ কিন্তু এত কিছুর পরও এত বিশাল বিশাল নক্ষত্ররাজি একজন আলবার্ট আইনস্টাইন বা একজন যিশু কিংবা একজন ইয়েহুদী মেনহুইনকে নিজেদের বলে ঘোষণা করতে পারলো না। এটা খুব আশ্চর্যের বিষয় যে এই বিরাট মহাবিশ্বে অস্তিত্ব কেবল এই ছোট্ট গ্রহটিতে একটু জাগরুকতা, একটুখানি জীবন সৃষ্টি করতে পেরেছে। এখন এটা নিতান্তই আমাদের হাতে এই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র অবস্থা থেকে অসীম উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছানো যার সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে এবং যা আমাদের জন্মগত অধিকার৷

এখন পর্যন্ত শিক্ষা সঠিকখাতে প্রবাহিত হয়নি। এটা মানুষকে বেহুদা ইতিহাস, ভূগোল পাঠ এসব দিয়ে অত্যাচারে জর্জরিত করেছে। যদি কারও কোন বিষয়ে আগ্রহ থাকে তবে সে বিষয় পড়ানোর ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। যদি কেউ কনস্টান্টিনোপল সম্পর্কে জানতে আগ্রহী থাকে তাহলে সেটা তাকে জানাবার ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। আর যদি কেউ চেঙ্গিস খান, তৈমুর লং এদের ব্যাপারে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করে তাহলেও তাকে তা জানানো যেতে পারে। কিন্তু সবাইকে ধরপাকড় করে বাধ্যগতভাবে এসব আবর্জনা, অতীতে ঘটে যাওয়া কাহিনীর অর্থহীন প্রলাপ শোনানোর তো কোন প্রয়োজন নেই। এটা সম্পূর্ণরূপে মূর্খামি ও নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ একটি কাজ।

চেঙ্গিস খান, নাদির শাহ, তৈমুর লং, আলেক্সান্ডার এদের ব্যাপারে মানুষদেরকে শিক্ষা দেওয়া হল তাদের আপন সত্তার বেঠিক দিকগুলোর ব্যাপারে শিক্ষা দেওয়া।

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ নিয়ে ক্রমাগত সংগ্রাম করেছি, “কেন তোমরা আমাকে সক্রেটিসের ব্যাপারে শেখাও না? কেন তোমরা আমাকে চুয়াং তাজু’র বিষয়ে বলোনা? কেন তোমাদের এখানে বোধিধর্মকে নিয়ে আলাপ নেই…কেন?” এটা হল জাগরুকতা, সচেতনতার সঠিক দিক। ভুল মানুষের ইতিহাস শিক্ষা ও তাদের বিষয় আষয় তোমাকে এই ধারণা প্রদান করে যে, তুমিও যদি ভুল করো তাহলে তা একেবারে ঠিক আছে। যদি তুমি চেঙ্গিস খান হতে চাও তাহলে এটা একেবারে ঠিক। এতে করে তুমি নতুন কিছুই করছো না, মানুষরা বরাবর এগুলোই করে এসেছে।

আমাদের ইতিহাসকে পরিমার্জিত করতে হবে। এখান থেকে সকল অবিবেচক মানুষদেরকে ছাঁটাই করে ফেলতে হবে এবং মানুষরা যে অদ্যবধি কাল ধরে যুদ্ধ, হানাহানি, প্রতিযোগিতা, লোভ ছাড়া আর কিছুরই চর্চা করেনি এগুলোর দ্বারা কন্ডিশনড হওয়া থেকে আমাদের শিশুদেরকে রক্ষা করতে হবে। আমাদের শিশুদেরকে এ পর্যন্ত কী হয়েছে তা শিক্ষা দেবার বদলে কী হওয়া সম্ভব তার শিক্ষা দিতে হবে – আমাদের শিশুদেরকে অতীত নয়, ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা দিতে হবে। কেন সেইসকল বিষয়গুলো পড়িয়ে শক্তিক্ষয় করতে হবে যেগুলোর বাস্তবে, অস্তিত্বশীল জীবন যাপনে কোন তাৎপর্য নেই। আর যে বিষয় সম্পর্কিত শিক্ষা শিক্ষার্থীদেরকে ভালোবাসার শিল্পকলা, জীবনকে যাপন করার শিল্প, অস্তিত্বের অর্থপূর্ণতা, মৃত্যুর জন্য আনন্দের সাথে প্রস্তুত থাকা, নীরবতা ও ধ্যানমগ্নতা এসবের বিষয়ে বিন্দুমাত্র দিক নির্দেশনা প্রদান করতে সক্ষম নয় সে বিষয়য়াদি শেখানোর প্রয়োজনীয়তাটাই বা কী। প্রচলিত শিক্ষায় এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো অনুপস্থিত। আর যে বিষয়গুলো একেবারেই ফালতু, অপ্রয়োজনীয়, ময়লা-আবর্জনা সেগুলোকেই শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে জোর করে চাপানো হয়।

তারা বলে ইতিহাসের নাকী পুনরাবৃত্তি হয়। ইতিহাসের কখনও পুনরাবৃত্তি হয়না; এটা হল আমাদের বলদামি যা আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই জিনিস তাদেরকে শিখিয়ে যাই। ওই একই ধাঁচের মহান বীরদের অনুকরণ করার দ্বারা অসহায় শিক্ষার্থী কন্ডিশনড হয়ে যায়। এবং তাদের এই মহান বীররা বীর হওয়া তে দূরের কথা, এরা ছিল একেকজন ক্রিমিনাল। কেবলমাত্র চেঙ্গিস খান একাই চল্লিশ মিলিয়ন মানুষকে হত্যা করেছে। শিক্ষা থেকে এইসব মানুষদের ব্যাপারে যা যা তথ্য রয়েছে তা বাতিল করে দেওয়াটাই ভালো। শীবের নৃত্যকলা, কৃষ্ণের বাঁশি নিয়ে শিক্ষা দেওয়া যেতে পারে। যা কিছু সৌন্দর্যময় এবং ভালো শিক্ষার্থীদেরকে সেগুলোই শিক্ষা দাও যাতে করে তারা এতে অভ্যস্ত হতে পারে যে যা কিছু ভালো তা স্বাভাবিক, এবং খারাপ হল অস্বাভাবিক – যেন এতে মনে হয় খারাপ কখনও ঘটেনা, কখনও ঘটেইনি ও ভালো হল একেবারেই স্বাভাবিক। আলোকপ্রাপ্ত হওয়াটা কোন পাগলামি কিংবা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতিটি শিশুকে এটার শিক্ষা দিতে হবে যে, আলোকপ্রাপ্ত হওয়াটা একেবারেই সাধারণ একটি ঘটনা। বোধসম্পন্ন যে কেউই আলোকপ্রাপ্ত হতে পারে।

তুমি আলোকপ্রাপ্ত মানুষ হয়ে উঠতে যাচ্ছো – শিক্ষা ও শিক্ষাব্যাবস্থায় এই মহাবিপ্লব ঘটতেই হবে। অন্যথায় মানুষ কেবল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েই যাবে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *