রিয়েলিটি সবকিছুকে জানে কীভাবে – একটি কাল্পনিক থট এক্সপেরিমেন্ট

কনশাসনেস নিয়ে বিস্তৃত আলাপ আলোচনার পর এই অংশটিতে আমরা একটি কাল্পনিক থট এক্সপেরিমেন্ট চালাবো। আমরা জানার চেষ্টা করবো যে এই যে অসীম রিয়েলিটি তথা সবকিছুর উর্ধ্বে যে একটা কনশাসনেসের বিচরণ বা মানস সত্তার আনাগোণা এটি যদি থেকেই থাকে তাহলে বা আমরা এই কাল্পনিক এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে যদি কল্পনা করে নেই তাহলে এটি কীভাবে একই সময়ে, সবকিছুকে একত্রে কীভাবে উপলব্ধি করে বা কীভাবেই এটা সবকিছুর সাথে কানেক্ট করে নেয়।

তবে এইক্ষেত্রে কিছু কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। এটি একটি নিতান্তই কাল্পনিক এক্সপেরিমেন্ট, তাই এটি পড়তে যাবার আগে আপনার আগে ধারণকৃত যেসব ধারণা রয়েছে তা যদি আপনি একটু সরিয়ে এটাতে মনোনিবেশ করেন তাহলে এটাতে আপনি কিছু পেলেও পেতে পারেন। কিন্তু যথেষ্ট মুক্ত না হলে এ থেকে আপনি ইনসাইট হয়ত লাভ করতে পারবেন না। ওকে, তাহলে চলুন কল্পনার সূত্রপাত করা যাক।

কনশাসনেস নিয়ে আলোচনায় আমরা যেটুকুর ইঙ্গিত পেয়েছি বা অনুমান করতে পেরেছি বিভিন্ন ব্যাখ্যা থেকে তার মধ্য থেকে মিস্টিক ঘরানার ব্যাখ্যাগুলো ও দার্শনিক ব্যাখ্যাগুলোতে একটা অতিউর্ধ্ব কিছু একটার ছোঁয়া পাওয়া যায়। এখন সেটাকে আমি আমার মূলভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে কল্পনাতে অগ্রসর হবো। তবে এটা কোন এরিস্টটলিয়ান বা কোন ব্যক্তিবিচ্ছিন্ন ঈশ্বর অথবা জগত থেকে আলাদা কোন চরম, পরমের মত করে একে ধরা হচ্ছেনা। এখানে মূল যে বিষয়টা ধরে নেওয়া হচ্ছে তা হলো এইযে, অতিউর্ধ্ব একটা কিছু এটির ভূমিকায় এখন আপনি আছেন। আমরা কনশাসনেস নিয়ে আলোচনায় দেখতে পেয়েছি এটা এমন একটি কিছু যা ব্যাখ্যার মাঝে ধরা যায়না, সে অসীম, ইনফিনিট, সে স্বাভাবিক শূন্যতার ধারণার মতও নয়, একটা রহস্যের মত। তো যতকিছুই একে দেওয়া যাক না কেন, এটি কম পড়ে যাবে, আগের কথানুযায়ী।

ধরে নিন আপনি এরকম একটা কিছু হয়ে গেছেন। একটু নিজের দিকে খেয়াল দিন, কেবল আপনি যে কনশাসনেস হয়ে গেছেন এই ধরে নেওয়াটা দেখুন।

বেশ, আপনার মন হয়তো বুঝতে পারছে না, এখানে আসলে সে ধরবেটা কী? আর এটাই আমাদের প্রয়োজন। মনকে কনফিউজ হতে দিন,,কিছু ধরার চিন্তাটা এবার ছেড়ে দিন। শান্ত হয়ে, মনের দিকে তাকান, কিছুক্ষণের জন্য, একটা ছোট নীরবতা হয়ত প্রবাহিত হচ্ছে, সেটাকে দেখুন, টের না পেলে কোন সমস্যা নেই।

আপনি এবার কনশাসনেস হয়ে উঠেছেন। এটা সেই কনশাসনেস যে অনন্ত, অসীম, যাকে কোন সীমা দিয়ে বাঁধা যায়না, সবকিছু যার মাঝে ঘটে চলেছে। এবার আপনি এই আদি, স্থির, নিশ্চল, একচুয়াল অবস্থাটাকে দেখুন, যেটাতে আপনি মাত্র পরিণত হলেন।

এই অবস্থাতে আপনার মাঝে কী এমন হলো যা বা কী এমন ঘটলো যার দরুণ এতসব কিছুর অবতারণা ঘটাতে হলো?

আপনার তো কোনকিছুর অভাব ছিলোনা, কিছু করার প্রয়োজনও ছিলোনা, তবু কেন এসব ঘটালেন?

নাকী আপনি জানেন না? কেন এসব ঘটালেন?

নাকী এর পেছনে কোন উদ্দেশ্য আছে আপনার?

বা সেটাও নেই? এমনি এমনিই সব হয়ে গেলো?

আপনি কী এমনকিছু যা যার কিছু বলার নেই, কোন উদ্দেশ্য নেই, অথর্ব এক নিশ্চল দর্শক? এগুলোই বা আপনি জানেন কীভাবে?

এসব কী তাহলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হয়েছিলো? যখন আপনি “আপনি” হলেন তখন কী এসব প্রশ্ন, কথা বা আমি যা বলছি, বা আপনি যা চিন্তা করছেন তা কী এসব ভাবা সম্ভব ছিলো?

এগুলোর কী এমনি এমনিই সূত্রপাত ঘটে…ঘটেই বা বলি কেন হয়ে যায়?

আমি কারণ জানতে চাইব না, সম্ভবত এগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে হতে থাকে, এমনকিছু যাতে আপনি নড়ে ওঠেন যা আপনি নিজেও জানেন না। হ্যাঁ, মানছি এইযে, না জানা এটা আমার ব্যাখ্যা, কিন্তু এই ব্যাপারটার আরও অনেকেই অনেকভাবে বলে। যেমনঃ কেউ বলে এই হওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য আছে, কেউ বলে গাণিতিক কারণ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার মনে হয় আপনি একটা ওপেন স্লেটের মত ফাঁকা, এতটাই ফাঁকা যে তাতে আপনার অংশগুলো বিহ্বল হয়ে কিছু একটা বলতে চায় ও সবার বলাটাই আপনি দেখেন।

আচ্ছা, এত দেখে কী করেন?

মানে লাভটা কী?

হয়তো কোন লাভ নেই…

কিন্তু এভাবে অথর্ব হয়ে থাকার চেয়ে কিছু কিছু একটা ঘটে গেলে তা মন্দই বা কী?

হয়তো প্রতিটি মুহূর্তে আপনি থাকেন কিন্তু দূরে ঠেললে এর মূল্য বোঝা যায়, নাকী এখনও চুপ থাকবেন।

চুপ থাকুন!

এইযে, বিশাল অস্তিত্ব, মানে আপনি এখন যে অবস্থায় আছেন…আপনি আপনাকে দেখতে পাননা। এই হলো সবচেয়ে বড় অন্ধকার, গভীর অন্ধকার, এটা এতটাই গভীর দেখা সম্ভবও না, হয়তো একটা নিবিড় অবস্থায় আপনি আছেন চুপ করে, স্থির হয়ে, নড়ছেনও না, চড়ছেনও না। আপনি কেবল অবস্থাটায় থাকছেন কিন্তু এ রহস্য কী বা জানার আকুতি কী আপনার জাগেনা? সেটাই বা বলি কেন? এত যে বিশাল আপনি প্রকাশও কী করবেন না?

আচ্ছা একটা প্রশ্ন রাখি আপনার কাছে, জানার থেকে কী প্রকাশটা সুন্দর নয়? আপনি যদি সব হন, পূর্ণ হন, সবকিছু যদি আপনার মাঝে বিচরণ করে, আপনার তো অভাব হবার কথা নয়, আপনি কেবল বিলাতে পারেন। কিন্তু নিঃস্বার্থভাবে বিলাবেন কাকে, আপনাকে? কিন্তু আপনাকে তো আপনি দেখছেন না!

তাহলে উপায়?

আমি তো আমাকে না দেখতে একখানা আয়না বানিয়ে নিয়েছি যা দিয়ে আমি কেবল আমার সামনের অংশটুকু দেখি।

আপনার কী এরকম কোন প্ল্যান আছে?

ধরে নিলাম আপনি আমার প্ল্যানে সায় জানালেন। এখন আপনি নড়েচড়ে উঠলেন স্থির, একক, থেকে কিছু অংশ আলাদা করলেন। তবে এও তো আপনার জন্য যথেষ্ট হবার কথা নয়। কেননা আপনি তো বিশাল, অসীম, আপনার কোন সীমানা নেই। আপনার থেকে পৃথককৃত অংশটুকু কী বলে বা কী ভাবে, কেমন আচরণ করে, হোক তা বস্তু, মানুষ, প্রাণী বা অন্যকিছু তা দেখে তো আর আপনাকে জানা যাবেনা। তাই আরও অংশের প্রয়োজন। এভাবে একের পর এক অংশ তৈরী হতে লাগলো। প্রতিটি অংশই, প্রকাশ করে যেতে লাগলো, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে তাদের সসীম মতগুলো, ব্যাখ্যাগুলো, আচরণগুলো। আর রংহীন আপনাতে যেন রামধনুর খেলা শুরু হলো।

আপনি যেহেতু ইনফিনিট আপনার সীমা নেই, তাহলে তাই টুকরো টুকরো হতে আপনার কোন আপত্তি হবার কথানা। কেননা শেষের তো কিছু নেই। এইযে, একেকটা অংশ তৈরী হয়ে গেলো, প্রতিনিয়ত যা যা ঘটে চলছে তার ছাপগুলো আপনার বুকে গেঁথে যাচ্ছে আপনি দেখছেন সেগুলোকে, জানছেন। জানতে জানতে একসময় দেখলেন যে, আপনার জানারও তো শেষ নেই। এইযে সীমাবদ্ধ টুকরোগুলোকে আপনি তৈরী করলেন এরাও তো অসীম… এদের সংখ্যাও তো অসীমভাবে আপনার হতে নির্গত হবে, আপনার থেকে বের হতেই থাকবে, হতেই থাকবে।

এভাবে পদে পদে আপনি দেখছেন ও জানছেন যে, এ খেলা তো শেষ হবার নয়, হলেই বা কী আবার চালু হবে। আপনি এবার ফেঁসে গেছেন। কীভাবে আপনি, রিয়েলিটি – অংশ হয়ে, মূল রিয়েলিটি হয়ে এসব চালাবেন বা চলবে…গভীর অনিশ্চয়তা।

এইযে, আপনার অংশগুলো এরা আলাদা হয়ে আপনার অব্যক্তিজাত অবস্থার ওপর বিভিন্ন চরিত্র আরোপণ করছে ও এভাবে আপনি একটা জানার ও প্রকাশ করার সুন্দর খেলা তৈরী করলেন। এখন ধরুন আপনার অংশগুলো তো আপনারই প্রতিভূ তাদের মাঝে তো একটা টান অনুভব করার কথা যে কোথায় থেকে তারা এসেছিল বা এসবের মানে কী, এসব কীভাবে ঘটে। এসব ভাবনা আবার সকল অংশ ভাবেনা বা বলা যায় উদয় হয়না। যাদের হয় তারা ধীরে ধীরে আপনার আসল রিয়েলিটির দিকে অগ্রযাত্রা করতে হয়। এইযে, রিয়েলিটি এটা মানে আপনি যদি মূলভিত্তি হন তাহলে আপনি হওয়া অবস্থায়ও কী এ আপনার গড়া অংশ অস্তিত্বশীল থাকবেনা? নাকী আপনার অংশগুলো যাত্রা করতে করতে আপনাতে পতিত হবার পর যা হবে তারপর আর কিছুই নেই ও এই অংশের জগতকে আমি মায়া বলে ধরে নেব….

তাহলে একটা বিষয় বলি আপনাকে, এটাকে একটা বৃহৎ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ভাবা যাক।

ধরা যাক, আপনি আর আমি একই রুমে আছি। আপনি ধ্যানে বসেছেন বা আপনার একটা ধ্যানমগ্ন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আপনার সাথে হঠাৎ করে এমনকিছু একটা ঘটলো যে আপনি পুরো মহাপুরুষদের মত এনলাইটেন্ড হয়ে গেলেন ও সেই মহাসমাধিপ্রাপ্ত অবস্থার মাঝে প্রবেশ করে গেলেন। এবং সেই অবস্থাটা অভিজ্ঞতা ছাড়া মনের কাছে অনুমান করা খুবই গোলমেলে, তারপরও ধরে নিলাম চরম, পরম স্থির অবস্থা। এদিকে আমি আপনার শরীরকেই দেখছি, বুঝতে তো আর পারছি না কী ঘটছে আপনার সাথে। যাইহোক আপনি বন্ধন ছিন্ন করে এখন আসল আপনিতেই পরিণত হয়েছেন যেমনটা আপনাকে একটু কষ্ট করে কল্পনা করতে বলা হয়েছিলো। এই মুহূর্তে আপনার কাছে কিছু নেই, এক অকথ্য একটা অস্তিত্ব হয়ে আপনি আছেন। এদিকে আমিও তো আপনার অংশ তাইনা… আমার কাছে কিন্তু জগৎ বিদ্যমান ও সকল সীমাবদ্ধ নিয়ে আমি আপনার নিথর দেহের সাথে আছি।

অর্থাৎ, একই সময়ে যেখানে সময়টা কেবল আমি বুঝতে পারছি কেননা আপনার ক্ষেত্রে আপনার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সময়ের উর্ধ্বে আপনি, তাই আপনার হওয়াটাও বিদ্যমান যা একচুয়াল রিয়েলিটি ও আমার এই অংশগত পৃথিবীতে আপনার অংশ হিসেবে আমি বিদ্যান হয়ে জেনেই চলেছি। এভাবে দেখা যাচ্ছে, মূল রিয়েলিটি বিদ্যমান থেকে তার অংশের মাধ্যমে বিভিন্ন জানার ক্ষেত্র তৈরী করে সেগুলো দিয়ে সে সবকিছুকে অসীমভাবে জেনেই চলেছে ও তার আসল স্বরূপে অংশগুলোর তৈরী করা সময়ের কনসেপ্ট অনুযায়ী সে একই সময়ে, বর্তমানে সবসময় বিদ্যমান থেকেই চলেছে।

এভাবে সবকিছুকে একত্রে মিশিয়ে দিয়ে একটু নিজের গভীরে তাকালে দেখা যায় সবকিছু একইসাথে একইসময়ে ঘটে চলেছে যা এখনই। আপনার রিয়েলিটি হওয়াটাও ঘটে চলেছে যেখানে আপনি শূন্য ছাড়া কিছুই নন, মানে আপনি একেবারে ফকির, সাধারণ ও সেইসাথে অংশের সীমিত অভিজ্ঞতাও আপনার হচ্ছে যেখানে আপনি বৈচিত্র্যময়, ঐশ্বর্যশালী, ধনী। এভাবে একটা প্যারাডক্সের সৃষ্টি হয়। এই প্যারাডক্সটা অতি প্রয়োজনীয় আপনার জন্য এইকারণে যে নাহলে কী আপনি সবকিছু একত্রে একইসময়ে এক্সপেরিয়েন্স করতেন কীভাবে!

এটাই হলো এনট্যাঙ্গেলমেন্ট। একে আপনি আলাদা করে দেখেছেন তো আপনি বিচ্ছিন্ন হবার এক মায়ায় নিপতিত হলেন। যদিও এরূপ দেখাটাও এনট্যাঙ্গেমেন্টের অংশ।

শেষমেষ আপনি তাহলে জেনে করেনটা কী? জেনে কী হয়? আপনি কে? আপনার পরিপূর্ণ অবস্থাটা কী? সেটা কী আপনি জানেন?

আপনি কী রহস্যের মাঝে আবৃত হওয়া কোনকিছু যার মাঝে প্রবেশ হলে কিছুই জানার থাকেনা, সকল তৃষ্ণা মিটে যায়। এভাবে মিটে গিয়েই কী আপনি সব জানাটাকে ধারণ করেন। সহজ বুঝি এভাবেই হতে হয়, সমস্তকিছু নাশ করে দিয়ে সমস্তকিছুকেই বুঝে ফেলা! কিছু তো বোঝার নেই, কিছু জানার নেই না হলে আপনি পূর্ণ কীভাবে হন! মন আমায় এ তর্কই দেয়।

আপনার কী কোন তর্ক আছে?

হয়তো আছে, হয়তো নেই…ধুর ছাই এসব তো আমারই, আপনার?

রহস্য, শুধু রহস্য, এর মাঝে থেকে একদিন জেগেছিল আপনার বাসনা, বাসনাটা ছিলো নিজেকে প্রকাশ করার ও প্রকাশ করে করে নিজের সমস্তরূপকে চিনে নেবার অনন্তকাল ধরে। সেই তুমি যখন প্রকাশিত হলে তখন জানতে গিয়ে, হোঁচট খেয়ে কষ্ট পেয়ে, আনন্দের মূর্ছনায় পাগল হয়ে, নৃত্য করে, ঘৃণা করে, ভালোবেসে এরূপ নানা আবেশে প্রকাশ করে হাঁপিয়ে গেলে। হাঁপাতে হাঁপাতে উল্টো বাসনা জেগে উঠলো তোমার মনে, নিজেকে রহস্যের কুঠরীতে নিয়ে গিয়ে ফেলার বাসনা।

কিন্তু আপনি বা আমি কিংবা তুমি – তোমরা যেখানেই থাকো যে অবস্থায় থেকে তোমাদের মাঝে কিছু জেগে ওঠে তোমরা বুঝেও বুঝতে চাওনা এসবের প্রয়োজন নেই। আবার প্রয়োজন ছাড়াই বা আমাদের চলবে কেন? এইযে, অব্যক্ত আকুতি তোমাকে রহস্যের রঙে সাজিয়ে দেয় যেন তুমি এক ঘোমটার আড়ালে থাকা রহস্যময়ী নববধু! সে বুঝেও যে না বুঝে বসে থাকে সে কেন আজ এই বাসর রাতে…অপেক্ষা কেবল কখন এসে তুলবে তুমি ঘোমটা। তুলতেই শুরু হয়ে যায় সংসার, একসময় তাতে সৃষ্টি হয় নানাজন, আপনজন। কালশেষে ধীরে ধীরে সে বাসনায় টান পড়ে, জাগে নতুন বাসনা, রহস্যময়ী ঘোমটায় মুখ লুকিয়ে রাখার বাসনা! সেখানেই আপনার, আমার, তোমার, আমাদের সবার যাত্রা; যাত্রাই বা বলি কেন এটাই আমাদের ভাগ্য, পরমভাগ্য যে আমরা এটাই, একে নিয়ে আমাদের বাঁচামরা, গীত, সঙ্গীত, দর্শন, বিজ্ঞান, শিল্প, কাব্য, অন্যান্য রঙবেরঙের আয়োজন।

তাহলে আপনি কী?

You Are That!

আপনিই সে, আপনিই সে রহস্য,

You Are That Mystery that you think you lost somewhere in the deep ocean. But You are the Ocean, creating bubble Just for play.

কল্পনার সূতোতে এবার ধীরে ধীরে লাগাম দিতে দিতে আপনার চারপাশে থাকান। দেখুন সবকিছুই আগের মতই আছে কিন্তু কিছু একটা আপনার ভেতর পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। যদি হয়ে থাকে তাহলে এ কল্পনা স্বার্থক। আপনি এখন দেখুন আপনার অবস্থা কী ছিলেন ও কী হলেন এবং কোথায় বা আপনার এখন যাত্রা করা উচিত নাকী সমর্পিত হয়ে জীবনের নৌকা বেয়ে যাবেন নাকী দ্রষ্টা হয়ে দেখবেন আপনার শরীর, মন ও আশেপাশের সমস্তকিছুকে। সিদ্ধান্ত আপনার!

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *