রিলিজিয়াস ম্যাটেরিয়ালিজম – ধার্মিক ও অধার্মিকের ভণ্ডামি

রিলিজিয়াস ম্যাটেরিয়ালিজম – ধার্মিক ও অধার্মিকের ভণ্ডামি

এই ম্যাটেরিয়ালিজমের আধিপত্যে ধর্মটাও যেন ম্যাটেরিয়েলিস্টিক। বস্তুবাদীরা যেটা এই দুনিয়াতে পাবার জন্য অস্থির সেটাই ধার্মিকেরা পরকালে পেতে ব্যস্ত। যেহেতু মানুষের কল্পনার বড় একটা লেন্স আছে সেটা দিয়ে সে ইচ্ছেমত রং চড়াতে পারে। ম্যাটেরিয়েলিস্টিকের কল্পনায় যে অসীম ভোগবাসনা তা সে এই দুনিয়াতে পুরোপুরি পাওয়া যাবেনা, এরপরও তারা আশায় অস্থির হয়ে ভোগের আশায় দৌড়ে দৌড়ে সুখী হতে গিয়ে সুখটাকেই পানসে করে ফেলে। অন্যদিকে ধার্মিকেরা পরকালের কল্পনা করে কেননা তারা ভদ্রবেশে ম্যাটেরিয়েলিস্ট হতে চায়। তাই ধর্মীয় বিভিন্ন মোড়কের আড়ালে ম্যাটেরিয়েলিস্ট যা চায় তাই পেতে চায়। কিন্তু তারা আবার ম্যাটেরিয়েলিস্টদের মত সরাসরি ম্যানিউপুলেশন, নীতি-নৈতিকতার মাথা খেয়ে উদ্দেশ্য সিদ্ধি করতে লজ্জা পায়। যার ফলে তলে তলে চেপে যাওয়া বাসনাগুলো থেকে গন্ধ ছড়াতে থাকে ও আরও বিশ্রী হয়ে যায়।

ম্যাটেরিয়েলিস্ট যখন সুখের পিছে দৌড়ায় সে বস্তুগত সুখকেই কল্পনা করে একটা ছবি মানসপটে একে তারপর তা হাসিল করতে রওনা দেয়। এখন ধার্মিকদের হয়েছে মারাত্মক জ্বালা বুক ফাঁটে তবু মুখ ফোঁটেনা। বস্তুগত সুখই তার পেতে হবে, কিন্তু তা ভদ্র স্টাইলে নীতি-নৈতিকতার ছদ্মবেশে হওয়া চাই। পরকাল, জান্নাত, জাহান্নাম এসবের যে একটা রূপক ব্যাখ্যা তা তাদের বোধে আসেনা। বরং এগুলোর কথা আসলেই একটা চমৎকার দুনিয়াবী, বস্তুগত চিত্রই ফুটে ওঠে মনের পর্দায়। মানে আমার কামনার লক্ষ্য হল বস্তুকে পাওয়া, সুখভোগ করা। তফাত কেবল এটুকুই যে, বস্তুবাদীরা দুনিয়াতেই গরম গরম সিঙ্গারার স্বাদ নিতে চান, আর ধার্মিকেরা পরকালে গিয়ে বস্তুবাদীদের থেকে লক্ষগুণ বেশী সিঙ্গারা খাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এটা আসলে দূর্বল মনেরই পরিচায়ক।

ম্যানিউপুলেশন, উচ্ছৃঙ্গল ভোগসর্বস্বতা, অঢেল পুঁজি এগুলো হল ভন্ড ধার্মিকতা থেকে বের হয়ে আসার হ্যাংওভার। মানুষ যে আইডেন্টিটি তৈরী করে তার চারপাশে তাকে কেন্দ্র করেই তার সবকিছু গড়ে ওঠে। যেহেতু ধর্মীয় অনেক মহৎ কথা, পরজগৎ, পরকালের আলাপ থাকলেও মানুষ হিসেবে আমাদেরকে জগতেই সার্ভাইব করতে হয়। তাই জগতের বিষয় আষয়ের প্রতি কামনা থাকবেই। সেটাকে বোঝার পর নিজের আইডেন্টিটি ভাঙ্গার সাহস করলে তখন একটা ইতিবাচক ভাবে অগ্রগতি হবার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু একে ভয় পেয়ে চেপে যেতে থাকলে, নিজের কাছেই বারবার মিথ্যা বলতে থাকলে তা বড় প্রগাঢ় হয়ে ওঠে তখন একসময় তা জলামুখীর মত জ্বলে ওঠে৷ এটাই রিলেজিয়াসদের ম্যাটেরিয়ালিস্টিক ক্রাইসিস।

অন্যদিকে যারা ম্যাটেরিয়ালিস্ট তারা হয়তো অনেকেই আধুনিক দেশে জন্ম হবার দরুণ বা পারিবারিক সূত্রে শিক্ষাদীক্ষা থাকার দরুণ এটাতেই স্বভাবগতভাবে চর্চা করে থাকে। তাদের ক্ষেত্রে এটাই আবার তাদের ধর্ম। যার ফল হল ম্যাটেরিয়ালিজমের পজিটিভ দিকগুলো এড়িয়ে এর শর্টকার্ট সুখের দিকে উচ্ছৃঙ্খল দৌড়ে চলার কালচার। এটাও একটা ডগমা। তবে তা রিলেজিয়াস থেকে অপেক্ষাকৃত উন্নত ও সূক্ষ্ম স্কেলের ডগমা। এটা হলো আপনি আপনার ভন্ডামিকে স্বীকার তো করে নিয়েছেন কিন্তু এরপর যা অবদমন ছিল তাতেই ডুবে আছেন, এর পরের ধাপে আপনার চিন্তা করার ইচ্ছা নেই বা আগ্রহ নেই।

এজন্য যেটা হয় সেটা হল রিলেজিয়াস ম্যাটেরিয়ালিস্ট ও নন-রিলেজিয়াস ম্যাটেরিয়ালিস্টদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই থাকে। এরা একে অপরের পরিপূর্তি সাধন করে। কেননা এদের মতাদর্শ ভিন্ন থাকলেও এদের লক্ষ্য সেই পুঁজি, ম্যাটেরিয়াল। তাই একজন হল একটু লাজুক লাজুক ভাব ধরে খেলাধুলা করে, আরেকজন পুরা নির্লজ্জ বেহায়ার মত খেলাধুলা করে। দিনশেষে আবার দুজনের স্বার্থ এক হলে খুব একচোট গলায় গলা মিলিয়ে নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমোতে যায়।

তাই ম্যাটেরিয়ালিস্টের ট্রামকার্ড হলো রিলেজিয়াস ম্যাটেরিয়ালিস্ট। কেননা সে ম্যানিপুলেশন জানে ও নাচাতে জানে। অন্যদিকে পরকাল, পরজীবন, স্বর্গ, নরকের স্বপ্ন ও মনের সুখে বস্তুবাদীদের গাল পেরে তারা নেচে নেচে ম্যাটেরিয়ালিস্টদের স্বপ্ন সার্থক করে ঘুমিয়ে পড়ে। এ যেন স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক। প্রয়োজনে হাত মেলায়, উপরে উপরে রাগ, তলে তলে লেনাদেনা, সাতখুন মাফ।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *