রবীন্দ্রনাথ ও লিও তলস্তয়ের সূক্ষ্ম অহংকার – ওশোর ভাবানুবাদের ওপর একটি বিশ্লেষণ

রবীন্দ্রনাথ ও লিও তলস্তয়ের সূক্ষ্ম অহংকার – ওশোর ভাবানুবাদের ওপর একটি বিশ্লেষণ

আজকের এই লেখাতে ওশোর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কথা শেয়ার করবো। আর সেটার ভাবানুবাদের সাথে সাথে আমিও কিছু কথা বলব এবং লিও তলস্তয়কেও এর সাথে জড়াবো। আশা করি এই সবকিছুর মিশেলে এই লেখাটি অস্তিত্বের একটি গভীর জানালা আপনাদের সামনে উন্মোচন করবে। তবে আগেভাগেই বলে রাখছি এখানে ওশো যা বলেছেন তা খুবই সূক্ষ্ম এবং সাবজেক্টিভ, ব্যক্তিগত রহস্যের বিষয়-আষয় যা নিজস্ব অভিজ্ঞতার আলোকে আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা সম্ভব।

তাহলে লেখাটা শুরু করা যাক কী বলেন?

ওশো বলছেন –

ভয় সেই মুহূর্তে আসে যখন তোমার শেষ অংশটিকেও বিলীন করে দিতে হয়, কেননা তারপর তুমি একেবারে হারিয়ে যাবে, তুমি আর কখনও ফিরে আসতে পারবে না।

আমি তোমাকে অনেকবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চমৎকার সব কবিতার কথা বলেছি। কবি লক্ষ লক্ষ জনম ধরে ঈশ্বরকে খুঁজে চলেছেন। সে তাকে মাঝে মাঝে দেখেছেনও কিন্তু অনেক দূর থেকে, দূর থেকে নক্ষত্র যেমন দেখায় তেমনভাবে। দেখার পর সে সেদিকে ছুটতে আরম্ভ করেন, কিন্তু যেই মুহূর্তে তিনি সেখানে পৌঁছে যান তিনি দেখতে পান যে, ঈশ্বর অন্য জায়গায় চলে গেছে।

(এ সূক্ষ্ম অনুভূতির প্রকাশ মিলবে রবীন্দ্রনাথের এই গানটি থেকে –

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাইনা?
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাইনা?
ক্ষনিক আলোকে আঁখির পলকে
তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে ক্ষনিক আলোকে আঁখির পলকে
তোমায় যবে পাই দেখিতে
ওহে হারাই-হারাই সদা হয় ভয়
হারাই-হারাই সদা হয় ভয়
হারাইয়া ফেলি চকিতে
আঁশ না মিটিতে হারাইয়া
পলক না পড়িতে হারাইয়া
হৃদয় না জুড়াতে
হারাইয়া ফেলি চকিতে
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাইনা?
মাঝে মাঝে তব দেখা পাই
চিরদিন কেন পাইনা?

রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরের, পরমের ঝলক দেখেন, কিন্তু তা ক্ষণিক মুহূর্তকালীন। বিদ্যুৎ চমকের আলো খেলার মতন। তারপর যেই ধরতে যান, তিনি আবার তাকে হারিয়ে ফেলেন, চোখের নিমিষে পরম অন্য জায়গায় তাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায়।)

ওশো আবারও বলছেন –

কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরকে খুঁজেই চলছেন – এবং সে খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঈশ্বরের বাড়ি খুঁজে পাবার ব্যাপারে। তবে চরম বিস্ময়ের বিষয় এই যে, একদিন তিনি সত্যিকার অর্থে একটি বাড়ির সন্ধান খুঁজে পান যার দরজায় লেখা ছিলঃ “ঈশ্বরের ঘর।”

(রবীন্দ্রনাথের এই অনুভূতিটিও তার আরেকটি গানে আঁচ করতে পারা যায়। গানটি হল –

খোলো খোলো দ্বার, রাখিয়ো না আর
বাহিরে আমায় দাঁড়ায়ে।
দাও সাড়া দাও, এই দিকে চাও,
এসো দুই বাহু বাড়ায়ে

কাজ হয়ে গেছে সারা, উঠেছে সন্ধ্যাতারা।
আলোকের খেয়া হয়ে গেল দে’য়া
অন্তসাগর পারায়ে

তরি লয়ে ঝারি এনেছ কি বারি,
বেঁধেছ কি চুল, তুলেছ কি ফুল,
গেঁথেছ কি মালা মুকুলে।
ধেনু এল গোঠে ফিরে, পাখিরা এসেছে নীড়ে,
পথ ছিল যত জুড়িয়া জগত
আঁধারে গিয়েছে হারায়ে

ঈশ্বরের ঘরে তার প্রবেশ হবে এই আনন্দে, উল্লাসে রবীন্দ্রনাথের আকুতি পরমের তরে ঝরে পড়ছে যেন এই জায়গায়। কিন্তু তিনি তখনও টোকা দেননি। দেবার আগ মুহূর্তের উচ্ছ্বাস এটি।)

ওশো ফের বলছেন –

তুমি নিশ্চয়ই মালুম করতে পারছো তার উল্লাস, তার চরমানন্দের ব্যাপারটি। সে দৌড়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠে যেইনা দরজায় টোকা দিতে যাবে ওমনি হঠাৎ করে তার হাত বরফের মত হীমশীতল হয়ে গেল। তার মাঝে এক চিন্তার উদয় হলঃ “যদি এটা সত্যি সত্যিই ঈশ্বরের ঘর হয়, তাহলে তো আমি শেষ, আমার অনুসন্ধান সব পন্ড হয়ে যাবে। আমি তো আমার অনুসন্ধান নিয়েই এতদিন পড়ে ছিলাম, ওটাই তো আমার সব ছিল; এটা ছাড়া তো আমি আর কিছু জানতাম না। যদি দরজাটা খুলে যায় ও আমার সাথে ঈশ্বরের সাক্ষাৎ হয়, তাহলে আমি একেবারেই বিলীন হয়ে যাবো – আমার অনুসন্ধান সব শেষ হয়ে যাবে।

তারপর কী হবে?

তারপর এই অনন্তকালের একঘেয়েমিতা – নিরানন্দ, আবিষ্কারের উন্মাদনা, নতুন চ্যালেন্ঞ্জ এসবকিছুই চলে যাবে; কেননা ঈশ্বরের থেকে বড় কোন চ্যালেন্ঞ্জ তো নেই।”

(হ্যাঁ, ঠিকই, তাকে পেয়ে গেলে আমি খেলব কাকে নিয়ে, আমার সব খেলার ঘর এক নিমিষেই চূর্ণ করে দিবে হতভাগা ঈশ্বর। আমি তাকে চাই, কিন্তু তাকে চাইনা, আমি তার ছায়াকে চাই তার সত্যিকারের চেহারাকে নয়, ওরকম কুৎসিত চেহারা আমি দর্শন করতে চাইনা।)

ওশো পুনরায় বলছেন –

সে ভয়ে কাঁপতে আরম্ভ করলো, পা থেকে তার জুতো খুলল এবং মার্বেল পাথরে খোদাই করা চমৎকার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলেন। রবীন্দ্রনাথ তার জুতোটা খুললেন এই কারণে যে, যাতে করে নেমে আসার সময় কোনপ্রকার আওয়াজ না হয়। তিনি এতটাই ভীত ছিলেন যে, তার পায়ের সামান্য আওয়াজ…ব্যস ঈশ্বর হয়তো দরজা খুলে দিবেন, অথচ তিনি তখনও তার দরজায় টোকাই দেননি।

অতঃপর সে পড়ি কী মরি করে এমন দৌড় লাগালেন যা তিনি জীবনে কখনও দৌড়াননি। তিনি ভাবতেন যে, সে ঈশ্বরের খোঁজে যতটা দ্রুত পারা যায় ছুটে চলেছেন, কিন্তু আজকে, হঠাৎ করে সে এতটা জোর পেয়ে গেলেন যা আগে তিনি কখনও অনুভব করেননি। সে এমনভাবে দৌড় লাগালেন যেন তিনি আর কোনদিন দৌড়াতেই পারবেন না।

(তার এই ক্রমাগত অনুসন্ধান করে যাবার আকুতির অনুভূতিটিরও একটু ছোঁয়া আমরা পাবো তার এই কবিতায় –

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শিষের উপরে
একটি শিশিরবিন্দু।)

ওশো বলছেন –

তার কবিতা শেষ হয় এভাবে, “আমি এখনও ঈশ্বরকে খুঁজে চলেছি।” আমি তার বাড়ি চিনি, তবুও আমি তাকে উপেক্ষা করে অন্য সকল জায়গায় খুঁজে চলেছি। এই খুঁজে চলার উন্মাদনা পরম আনন্দের, এ থেকে পাওয়া চ্যালেন্ঞ্জ অতি আনন্দময়; আর এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে আমি আমার অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব। ঈশ্বর খুব বিপদজনক – কেননা তার পাল্লায় পড়লে তিনি আমাকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলবেন। কিন্তু যেহেতু আমি পালিয়ে এসেছি, তাই ঈশ্বরকেও আমি আর এখন ভয় পাইনা, কেননা আমি তার বাড়ি চিনি। সুতরাং, তার বাড়ি বাদে আমি মহাবিশ্বের অন্য সকল প্রান্তে তাকে খুঁজে বেড়াবো। এবং অন্তরের অন্তস্থল থেকে আমি এও জানি যে, আমার অনুসন্ধান ঈশ্বরের নয়; আমার অনুসন্ধান হল আমার অহমকে পরিতৃপ্ত করার।

এই কথাটি সিরিয়াস মনে হলেও, খুবই গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। নিজেকে খোঁজার যাত্রায় অহংকারের শিকড় কত গভীর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে। অহম ও ঈশ্বরের মাঝে খুব চুলচেরা তফাৎ থাকে, কিন্তু এ তফাৎই বিশাল বড়। তবে এখানে এই অহম খুব করুণ, একটু টোকা দেবার প্রয়োজন কেবল, সাথে সাথে ঈশ্বর তার দরজা খুলে কবিকে অস্তিত্বের অসীম পানে ডুবিয়ে দেবেন। এই অভিজ্ঞতা একইসাথে খুব ভয়ানক। যাকে প্রাচ্যের ঋষিরা বলেছেন মোক্ষভীতি। এখানে এসেই একজনকে তার চরমতম আবেগের রূপের সম্মুখীন হতে হয়। ব্যাপারটা এমন যে, আপনি উঁচু খাঁদের কীনারে দাড়িয়ে ভাবছেন ঝাপ দেবেন কী দেবেন না। এখানে এসে মনুষ্য ভালোবাসার সীমা শেষ হয়ে যায়, তখন স্বয়ং ভালোবাসা এসে যদি অন্ধ করে দিয়ে না যায় তাহলে ঝাপ দেওয়া যায়না।

ভালোবাসা অন্ধ হয়না, অন্ধ করে দিয়ে যায়, নাহলে ভালোবাসায় ডোবা যায়না। এইযে, অস্তিত্বের কড়াল গ্রাস, ভয়াবহতা এখানে এসে রবীন্দ্রনাথের মত লিও তলস্তয়ও দিশেহারা হয়ে যান। সবকিছু ছেড়েছুঁড়ে উদভ্রান্ত হয়ে যান। মনে হতে পারে বেচারা পাগল হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই পাগলামী বড় মূল্যবান। ব্যক্তির ভেতরে যে প্রবল সুনামী চলে তা সে দেখে ও তার মনের ইমারত ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকে। কী হবে? ঝাপ দিবো কীভাবে? অথচ মেনে নেবার পর খেলার সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু বলা আর সেই প্রবল অভিজ্ঞতার মাঝে পড়া দুটি এক নয়। যার হয় সে বোঝে তার তার ক্রাইসিসের লেভেল অনুযায়ী।
যখন প্রবল ভাবের ঝড় আসে তখন দ্বিতীয় সুযোগ থাকতে পারে এমনটি মনে হয়না, এটা মনের কাছে একেবারে বাস্তবরূপেই আসে। মৃত্যু অতি আসল রূপেই আসে। এজন্যই এত ভীতি, সবচেয়ে ভয়ানক ভয়, সংকট সম্ভবত এটি। এ ভয়ই হল আমাদের জীবনে অন্যান্য সকল ভয়ের জন্মদাতা।

এখানে রবীন্দ্রনাথের যে ক্রাইসিস তা বড় মিষ্টি, ভয়ানক, প্রেমপূর্ণ, সূক্ষ্মতা ও গভীরতা সম্পন্ন। নাহলে এভাবে অস্তিত্বকে অবলোকন করা যায়না। তবে তার এ ক্রাইসিস ইতিবাচকভাবে তিনি সামলে নিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার প্রেমপূর্ণ মানসিকতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে রেহাই দিয়েছিলো। তিনি ব্যাকুল হলেও তাতে ছিলো প্রেমের সুধা, প্রেমের রস, নমনীয় জ্যোতি।

অন্যদিকে তলস্তয়ের কনফেশন পড়লে মনে হবে তিনি অসহায় হয়ে এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছেন, দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। তার এই ক্রাইসিস নেতিবাচক। কেননা এখানে কাব্যিকতার থেকে তার বিষয়গুলো দার্শনিকতার প্রাধান্য ছিল। আর বুদ্ধি সবসময় তার অস্তিত্ব গ্রাসের আশঙ্কায় উন্মাদের মত আচরণ করে। তবে এই উন্মাদনা গতানুগতিক উন্মাদনা নয়, এটা অনেক গভীর। সবারই এই উন্মাদনায় আসতে হবে কোন না কোন দিন।

এদিকে, রবীন্দ্রনাথ তার প্রেম, ভালোবাসা ও প্রগাঢ় হৃদয়শক্তির কারণে ব্যাপারটিকে ইতিবাচক ক্রাইসিসে নিয়ে ফেলতে পেরেছিলেন। তার প্রেমের স্ফুরণের প্রেরণা ছিল পরমকে ধরি ধরি করে তাকে ধরতে না চাওয়া।

অন্যদিকে তলস্তয়ের জীবন পরিক্রমায় তার যে আত্ম দাঁড়িয়েছিল তাতে নেতিবাচকতার ছোঁয়া ছিল ও ক্রমে ক্রমে তা ধরেই সেই ঐ পাহাড়ের শেষ চূঁড়ায় উপনীত হয়েছিলেন।

চূঁড়ায় ওঠা ও ভয়াবহতা সামাল দেবার ব্যাপারে রবীন্দ্রনাথ ও তলস্তয় এক ও অভিন্ন, কিন্তু পথ, অবস্থা, প্রকাশ, জটিলতা আলাদা।

এছাড়া আমরা মীরা, কবির দাস এদের যদি দেখি তাদেরও প্রবণতা ছিলো হৃদয়ভিত্তিক। তবে তারা নিশ্চুপ সাগরে ডুবে গিয়েছিলেন।

এজন্য হয়ত আনন্দই সবটা নয়। পরমের দুয়ার যত কাছে আসতে থাকে আনন্দের বন্যায় প্লাবিত হতে থাকে হৃদয়। এটা এতটা প্রচন্ড একটা অভিজ্ঞতা, মনে হতে পারে এটাই শেষ।

কিন্তু না,

পথ আরও বাকী। অন্যরূপ কল্পনা করে তাকে প্রেমিক বা প্রেমিকা মনে করে আনন্দের জোয়ারে ভাসা যায়, স্বর্গীয় রসে প্লাবিত হওয়া যায়, সোমরস পান করা যায়। কিন্তু সেও যে একটা অভিজ্ঞতা। তারপর সাথীকে বিদায় জানিয়ে, একলা পড়ে থেকে কেবল শুদ্ধ “আমি” কেই চিনতে হয়। এভাবে দুইজনের ফানার মিশ্রণ থেকে উৎপন্ন আনন্দ ত্যাগ হয়ে গিয়ে আমি পড়ে থাকে। তারপর সেই চরম পরিচয়টাও বিলীন হয়ে বাকাবিল্লায় পৌঁছে যায়। যেখানে কিছুই নাই, শুনশান নীরবতা, অতল গহ্বরে প্রবেশ করে যায় সবকিছু।

রবীন্দ্রনাথের অনাহত চক্রের অভিজ্ঞতা হতে পারে। হৃদয়ের চক্র যখন খুলে যায় তখন প্রবল প্রেমধারা সর্বশরীরে ক্ষরিত হয়। আর শক্তি যখন এই হৃদয়চক্রে আসে তখন সেখান থেকেই কাব্যিক রস আসে, ভাব আসে, কবিতা তখন ঘোরে থেকে লেখা সম্ভব হয়।

কিন্তু এই রসই সব নয়। পথ আরও লম্বা। তবে এই চক্রের পর পথ চলাটা একটু সহজ হয়। তারপরও আরও দীর্ঘ যাত্রা আছে।

একজন ব্যক্তি যখন তার ভেতরে এতবড় বিশাল অস্তিত্বের ভয়াবহ চিত্র দেখে তখন সসীম মনের ভয় হওয়াটা, পালানোটা স্বাভাবিক, তবুও কখন যে কে ঝাঁপ দিবে তা কে বলতে পারে! এটা কেউ জানেনা, জানা সম্ভবও না।

এজন্যই হয়তো পথ চলাতেই আনন্দ, মন্ঞ্জিলে পৌঁছবার পর কোন আনন্দ নেই। আনন্দের জন্য মনের পরিশুদ্ধি প্রয়োজন। আর ঈশ্বরকে পাবার জন্য মনের অনুপস্থিতি প্রয়োজন।

জীবনে আর কিছু না হোক রবীন্দ্রনাথ, তলস্তয়ের সংকটে পড়াও অতি মধুর, গতানুগতিক জীবনযাপনের থেকে। অন্তত আমি ঈশ্বরের ঘরটাকে তো চিনলাম। এখন এটা ঈশ্বরের ব্যাপার তিনি তার সন্তানকে ডেকে নিবেন কীনা! আই ডোন্ট কেয়ার!

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *