যোগী কথামৃত

 

যদি প্রশ্ন করা হয় স্টিভ জবসের IPAD এ কোন বইটি ছিল?

তাহলে তার উত্তরে শুধুমাত্র একটি বইয়ের আসবে আর তা হলো “Autobiography of a Yogi“। আর এ বইটি স্টিভ জবস তার মৃত্যুর আগ মুহূর্তে তার পরিবার এবং বন্ধুদেরকে শেষ উপহার হিসেবে দিয়ে যান।

শুধু স্টিভ জবস নন বিটলস ব্যান্ডের জর্জ হ্যারিসন, পন্ডিত রবিশঙ্কর, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ আরো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনে প্রভাব রেখেছে এই আত্মজীবনীমূলক বই।

এ বই সম্পর্কে পন্ডিত রবিশঙ্কর মন্তব্য করেন যে,

” আমি যোগ সম্পর্কিত অনেক যোগীর বই পড়েছি; কিন্তু আমি কখনোও এতটা চমৎকৃত হইনি যেটা আমি এই বই পড়ে হয়েছি। এই বইয়ের মাঝে জাদু রয়েছে।”

তাছাড়া হারপারকলিনস পাবলিশার কর্তৃক তৈরী করা তালিকা অনুযায়ী বিংশ শতাব্দীর ১০০ টি আধ্যাত্মিক বইয়ের মধ্যে এটিকে গণনা করা হয়। এই বইটির ১০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৩৪ টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। আর এই বইটিকে সবচেয়ে শেয়ারকৃত বই হিসেবে ধরা যেতে পারে। আর এ থেকে অনুমান করে নেওয়া যেতে পারে এ বইটির যারা পড়েছেন বা পড়ছেন তাদের সংখ্যা প্রায় ৩০ মিলিয়নের কাছাকাছি হবে। এটা শুধু বই নয়, বরং বলা যায় বইয়ের থেকে বেশী কিছু। এখন আধ্যাত্মতায় পরিপূর্ণ এই বইটিতে কী আছে,,, চলুন তাহলে তাতে প্রবেশ করা যাক,,,

সময়টা ছিল ৫ই জানুয়ারী, ১৮৯৩। ভারতের গোরখপুর নামক স্থানে একটি ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে একজন সন্তানের জন্ম হয় যিনি কীনা বড় হয়ে একজন মহান যোগী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। আর তার নাম হলো পরমহংস যোগানন্দ। এ নামটি তাঁর গুরুর দেয়া নাম। ছোটবেলায় যোগানন্দের নাম ছিল মুকুন্দ। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ডানপিটে এবং কাউকে কিছু না বলে অনেকবারই তিনি হিমালয়ে সাধুদের সন্ধান পাবার উদ্দশ্যে বাড়ি থেকে পালিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। ছোটবেলা থেকেই বালক মুকুন্দের অাধ্যাত্মের প্রতি আগ্রহ জন্মে। তাই তিনি হুটহাট কাউকে কিছু না বলে তাঁর সঙ্গীসাথীদের নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন সাধু খোঁজার উদ্দেশ্যে। তাঁর বাবা- মা দুজনই ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ এবং তাঁরা দুজনই ছিলেন মহান যোগী শ্রী শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয়ের শিষ্য। শ্রী শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয় পরমহংস যোগানন্দের জন্মের ব্যাপারে তার পিতামাতার কাছে আগে থেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

ছোটবেলা থেকেই বালক মুকুন্দের সাথে অলৌকিক ঘটনা ঘটতে আরম্ভ করে। তিনি মনে মনে যা ভাবতেন তাই নাকী সত্যি হত অনেক সময়। এরকম তার ছোটবেলায় অনেক ঘটনা রয়েছে যা এই বইয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। বালক মুকুন্দের অল্প বয়সেই একটি দুঃজনক ঘটনা ঘটে যায় তা থেকে তাঁর অাধ্যাত্ম অনুসন্ধান আরও জাগ্রত হয়। এটি হল তাঁর মায়ের মৃত্যু। তাঁর মায়ের মৃত্যু তার ঐ বয়সে গভীরভাবে রেখাপাত করে। মুকুন্দের বাবা ছিলেন খুব কঠোর প্রকৃতির কিন্তু তিনিও বালক মুকুন্দের সাথে এই ঘটনা ঘটে যাবার পর তার প্রকৃতি নরম হয়ে আসে।

যোগানন্দজীর প্রিয় একজন গৃহশিক্ষকও ছিলো যার কাছে তিনি সংস্কৃত পড়তেন যার নাম স্বামী কেবলানন্দ। তিনি তার কাছ থেকে সংস্কৃতের বাইরে আরও অনেক বিষয় সম্পর্কে জানেন। এরপর এভাবে দিন গড়াতে থাকে। আর তার খোঁজ চলতে থাকে কোথায় পাবেন তিনি তার সদগুরুর সন্ধান।

এভাবে একদিন তার খোঁজের অবসান হয়। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। একটি সরু গলির মাঝখানে তিনি দেখতে পান তার পরম পূজনীয় গুরু তাকে ইশারা দিয়ে ডাকছেন আর তিনিও সে আকর্ষণে বিমোহিত হয়ে পা বাড়িয়ে দিলেন সমস্ত কিছু ভুলে। আর এই সদগুরুর নাম হল শ্রী যুক্তেশ্বর যার সাথে কিশোর মুকুন্দের শুরু হয় নতুন জীবনযাত্রা।

যোগানন্দজী গুরুগৃহে থাকতেন বেশী ও সেখানকার সমস্ত কাজ ও দায়িত্ব পালন করতেন। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছেন। কিন্তু পড়াশোনায় তার মন টিকত না। দেখা যেত সবসময় তিনি তার গুরুগৃহেই তার অধিকাংশ সময় পার করে দিতেন। পরীক্ষার সময় এলে টেনেটুনে পাশ করে যেতেন। এভাবে গুরুর সান্নিধ্যে থাকতে থাকতে ১০টি বছর কেটে যায়। আর একদিন চলে আসে সেসময়, শ্রী যুক্তেশ্বরজী তার শিষ্য যোগানন্দের হৃদয়ে মৃদু টোকা দিলেন ও সাথে সাথে তাঁর সমাধিপ্রাপ্তি ঘটে যায়। এই প্রথম তাঁর আত্মবোধ দেহের গন্ডি ভেদ করে সর্বত্র পরিব্যপ্ত হয়ে যায়। এরপর তিনি তাঁর সমাধির অনুভূতি নিয়ে একটি কবিতা রচনাও করেন। কবিতাটি অসম্ভব সুন্দর। এ যেন সেই পরমসত্তারই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

এরপর যোগানন্দজী সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। তারপর একদিন তিনি নিজের ভেতর থেকেই অনুভব করতে শুরু করেন তাঁর প্রবাসে যেতে হবে। আর সে অনুযায়ী গুরু শ্রীযুক্তেশ্বরজীর গুরুর গুরু মহাবতার বাবাজীর ইচ্ছায় পরমহংস যোগানন্দজী আমেরিকা গমন করেন। তারও আগে তিনি রাঁচিতে যোগবিদ্যালয় স্থাপন করেন ও সেখানে শিক্ষার্থীদেরকে ক্রিয়াযোগ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া শুরু করেন ও তাতে প্রভূত সাফল্য লাভ করেন। এরপর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথেও তাঁর শান্তি নিকেতনে সাক্ষাৎ হয় এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু মুহূর্তের বর্ণনাও রয়েছে। এরপর তিনি ক্রিয়াযোগ সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন। আর এই সূত্র ধরে এই ক্রিয়াযোগ ও আধ্যাত্বতার শিক্ষাকে পাশ্চাত্যে পৌঁছে দেওয়ার মহাদায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি আমেরিকা গমন করেন। স্বামী বিবেকানন্দের পর তিনিই পাশ্চাত্যের মানুষদের কাছে আধ্যাত্ম শিক্ষার বাণী সবচেয়ে সাফল্যের সাথে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন। তার কারণে পাশ্চাত্যে ধীরে ধীরে আধ্যাত্মতার পদ্ধতি হিসেবে ক্রিয়াযোগের কুঁড়ি মেলা আরম্ভ হয়।

পাশ্চাত্যের যেখানে তখন বস্তুবাদের প্রচার প্রসার সেখানে ক্রিয়াযোগ ও আধ্যাত্মতার বাণী প্রচার করা এত সহজ ছিল না। এ নিয়ে তাঁকে অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হয়। তবে তিনি সবসময়ই তার গুরুর কৃপা লাভ করেছিলেন। তিনি আমেরিকাতে ধীরে ধীরে এমন কতগুলো মানুষ ও সহযোগী পেয়ে যান, যারা পরে গিয়ে ক্রিয়াযোগের নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে আধ্যাত্মতার চরম উৎকর্ষ সাধনে সক্ষম হন।

এই বইয়ে তিনি তার গুরুর গুরু লাহিড়ী মহাশয়ের জীবন অনেক সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং সেইসাথে লাহিড়ী মহাশয়ের গুরু মহাবতার বাবাজীর অনেক অলৌকিক ঘটনাও এই বইয়ে বলা হয়েছে।
লাহিড়ী মহাশয়ের সাথে ঘটে যাওয়া একটি মজার ঘটনার কথা এ বই থেকে আমি এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করব। একদিন একজন ফটোগ্রাফার প্রতিজ্ঞা করলেন যে আজকে লাহিড়ী মহাশয়ের ছবি তুলেই ছাড়বেন। তাই যথারীতি তিনি লাহিড়ী মহাশয়ের বাড়িতে উপস্থিত হলেন এবং ছবি তোলার প্রবল চেষ্টায় রত হলেন কিন্তু বেচারা যত চেষ্টা করতে লাগলেন ততই তিনি দেখতে লাগলেন যে যতবারই তিনি লাহিড়ী মহাশয়ের ছবি তুলতে যাচ্ছেন ততবারই তিনি ছবি থেকে হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন। মানে ফটোগ্রাফে তাঁর কোন ছবিই নেই৷ তারপর অনেক জোড়াজুড়ি করার পর লাহিড়ী মহাশয় সেই ফটোগ্রাফারকে একটি ছবি তুলতে দিয়েছিলেন। ব্যাপারটা চমৎকার না!!

এছাড়াও লাহিড়ী মহাশয় ও তাঁর গুরু মহাবতার বাবাজীর সাক্ষাৎ এবং এ নিয়ে অনেক অলৌকিক ঘটনার কথা এ বইটিতে অনেক চমৎকারভাবে যোগানন্দজী বর্ণনা করেছেন।

শোনা যায় যে, মহাবতার বাবাজী ২০০০ হাজার বছর ধরে তার দেহকে ২৫ বছরের যুবক অবস্থায় যেমনটা দেখায় সেভাবে তিনি তার দেহকে অক্ষত অবস্হায় রেখেছেন ও বিশ্ব শান্তি ও মানবতার জন্য সূক্ষ্মভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এসব কথা অনেক অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে ও অতিরঞ্জিত বলে মনে হতে পারে৷ কিন্তু এ বইয়ে এমন অনেক অলৌকিক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে যা বইটির মর্যাদা কমায়নি বরং তা আরও সমৃদ্ধ করেছে। আজকে আমাদের কাছে যা অলৌকিক বলে মনে হয় পরবর্তীতে তা বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। এ বইয়ের একটি জায়গায় টেলিপ্যাথিক একটি ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। আর এখন বিজ্ঞান এ টেলিপ্যাথি নিয়ে গবেষণা করছে ও তার কিছু সাক্ষ্যপ্রমাণও দিন দিন উদঘাটিত হচ্ছে।

আর এ আধ্যাত্বচর্চার শাখায় “Occult Science” বলে একটা ক্ষেত্র আছে যারা এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে। এ কথাগুলো বলার একটাই কারণ এ বইয়ের এমন অনেক জায়গায় এরকম অনেক অলৌকিক ঘটনার বর্ণনা রয়েছে যা মনকে ভড়কে দিতে পারে, কিংবা আশ্চর্য হতে পারেন, এও কী সম্ভব! অথবা এগুলো গাঁজাখুরি নয়তো। কিন্তু এ ঘটনাগুলোর বিশ্বাস, অবিশ্বাস আপনার হাতে। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এ ঘটনাগুলো আমাদের এটাই মনে করিয়ে দেয় যে অনেক কিছুই আমরা জানি না৷ এমনকী আমরা বাইরের যতটুকু জানি তার থেকেও কম জানি আমাদের অন্তর সম্পর্কে। এইসব ঘটনা আমাদের ভাবায় ও এর বর্ণনার ভেতর এমন অভিনবত্ব ও ভালোবাসা রয়েছে যা অবিশ্বাসও করা যায় না ।

বিশেষ করে যোগানন্দজী যখন আমেরিকা যাওয়ায় পর যখন আবার অনেক বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন, তখন যোগানন্দজী ও শ্রীযুক্তেশ্বরজীর আবার দেখা হওয়া সে কাহিনীর বর্ণনা গায়ে কাটার দেবার মত। গুরু, শিষ্যের যথারীতি একে অপরের সাথে বহুদিন পর দেখা হয়, এ যেন বহুদিনের পথ চেয়ে বসে থাকা প্রতিক্ষার অবসান হবার মত অবস্থা; পরস্পরের দেখা হবার এই আনন্দঘন মুহূর্ত যেন প্রকৃতির আর পছন্দ হল না,,, যোগানন্দজী বুঝতে পারছিলেন যে তার গুরুর আর বেশী সময় বাকী নেই। এভাবেই একদিন তিনি যোগানন্দজীকে রেখে দেহত্যাগ করে চলে যান। এ ঘটনায় যোগানন্দজীর কোমল হৃদয় হুহু করে কেঁদে ওঠে। এর ঠিক কয়েকদিন পর যোগানন্দজী একটি হোটেলে তখন অবস্থান করছিলেন। এবং সেই হোটেলেই তার পরম গুরু তাঁকে সূক্ষ দেহে এসে সাক্ষাৎ দিয়ে যান।

যোগানন্দজী তাঁর গুরুর এহেন উপস্থিতিতে তাকে আনন্দে জড়িয়ে ধরেন,,,,, যুক্তেশ্বরজীও তখন হেসে হেসে তাঁর শিষ্যের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। শ্রী যুক্তেশ্বরজী তার নাছোড়বান্দা পরমপ্রিয় শিষ্যটিকে পরলোক সম্বন্ধে বিভিন্ন গভীর বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন। এ বইটির এই অংশটি পড়ে আমি খুব আন্দোলিত হয়েছিলাম। এই যে শ্রী যুক্তেশ্বরজীর সূক্ষদেহে ফিরে আসা ও যোগানন্দজীকে সাক্ষাৎ দেওয়া এ ঘটনা আমাদের ভাবায় এ দেহের কুঠিতে আবদ্ধ জীবনের উর্ধ্বেও আরও অনেক কিছু রয়েছে যা আমাদের সেই পরমসত্তার অনুসন্ধানে ব্যাপৃত করে।

এছাড়াও এ বইয়ে রয়েছে একজন মহিলার কথা যার নাম থেরেসা নোয়ম্যান। এই মহিলার সাথেও একটি নির্দিষ্ট সময়ে অদ্ভুত ঘটনা ঘটত। আর সে কারণে যোগানন্দজী সেই মহিলার সাথে সাক্ষাৎও করতে যান। অদ্ভুত ঘটনা হলো এই যে, যিশু খ্রিস্ট যেদিন ক্রুশবিদ্ধ হন, সেসময় আসলে ঐ মহিলাটিরও যিশু খ্রিস্টের শরীরের যে অংশগুলোতে রক্তপাত হয়েছিল ও গভীর দাগ হয়ে গিয়েছিল সেসব চিন্হ ও রক্তপাত তার শরীরেরও হতে দেখা যেত। আর এ ঘটনা ঘটার সময় তার স্বাভাবিক ওজন থেকে ১০ কেজি ওজন কমে যেত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো ঐ দিনটি অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তার শরীরের সেসব ক্ষতচিহ্নের লেশমাত্র আর থাকত না। তাঁর এ ঘটনা দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসত। এ সাধ্বী মহিলার ঘটনার কথার সত্যতা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে অসংখ্য তথ্য অনুসন্ধান করলেই আপনারা পেয়ে যাবেন। এ বইটিতে এরকম আরও অনেক অদ্ভুত,মজার ও চমৎকার সব ঘটনা সাবলীলভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তবে এ বইয়ে যত অলৌকিক ঘটনার কথা থাকুক না কেন যোগানন্দজী বারবার বলে গেছেন এসব আধ্যাত্বের মূল বিষয় নয়। মূল হল ভালোবাসা, সেই পরম ঈশ্বরের সাথে লীন হয়ে যাওয়া। আর এ সমাজের মানুষরা যাতে সেই পথে সহজে অগ্রসর হতে পারে তার জন্য তিনি প্রচার করেছিলেন তাঁর গুরুপ্রদত্ত ক্রিয়াযোগের বাণী।
পরমহংস যোগানন্দ ১৯৫২ সালের ৭ই মার্চ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্ণিয়া প্রদেশস্থ লস্-অ্যান্ঞ্জেলস্ শহরে, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয়রন্ঞ্জন সেনের সম্বর্ধনায় আমন্ত্রিত এক ভোজসভায় বক্তৃতা দেবার পর মহাসমাধিতে লীন হন।

এই বইয়ের মাঝে যে অনুভূতিগুলো ব্যক্ত হয়েছে তা সত্যিই চমৎকার। বইটিতে গুরু-শিষ্য পরম্পরার অপরূপ মেলবন্ধন সাধিত হয়েছে। প্রকৃতির বৈচিত্র্য, প্রেম, ভ্রমণকাহিনী, ভক্তি, জ্ঞান, ভালোবাসা এসবের এক স্পর্শ এ বইটি থেকে পাওয়া যায়।

সবশেষে যোগানন্দজীর নিজ বর্ণনা থেকে একটি ঘটনা দিয়ে এ ভিডিওটি ইতি টানবো।

একদিন সন্ধ্যাবেলা ক্লাসের একটি ছাত্র আমাকে প্রশ্ন করলো, “ঈশ্বর, দেহ ও আত্মার সংযোগসাধন করলেন কেন?সৃষ্টির এই বিবর্তনশীল বিশ্বনাট্যে প্রাথমিক গতিসংযোগ করার মধ্যেই বা তাঁর কী উদ্দেশ্য ছিল?” এরূপ ধরনের প্রশ্ন অসংখ্য লোকেই করেছে; দার্শনিকেরা কিন্তু বৃথাই তাদের পূর্ণ উত্তরদানের চেষ্টা করেছেন।
শ্রীযুক্তেশ্বরজী হেসে বলতেন, “ওরকম গোটাকতক রহস্যের সমাধান ‘মহাকালের’ জন্যেই থাক। মানুষের সসীম যুক্তিবল কী সেই ‘অবাঙ্মনসগোচর’ অজ, স্বয়ম্ভূ, পরম সত্তার দূরধিগম্য অভিপ্রায় বুঝতে পারে? মানুষের যুক্তি যা এই জড়জগতে কার্যকারণবিধির কঠিন নিগড়ে আবদ্ধ, তা অনাদি, কারণাতীত ঈশ্বরের রহস্যের কাছে একেবারেই নিষ্ফল হয়ে যায়। তথাপি, যদিও মানবমনের যুক্তি সৃষ্টিরহস্য ভেদ করতে অক্ষম, তবুও ভক্তের কাছে ভগবান স্বয়ং সকল রহস্যেরই একদিন সমাধান করে দেন।”
যাঁর জ্ঞানলাভের জন্য আন্তরিক ব্যাকুলতা আছে, তিনি জীবনের “আইনস্টাইন থিয়োরী” র নির্ভুল গাণিতিক রেখাচিত্র আগে হতেই দাবী না করে, সেই দিব্য আদর্শের কতকগুলি সরল নীতির অ,আ,ক,খ শিক্ষা করে তাঁর ঈশ্বরানুসন্ধানে উদ্যোগী হন।

 

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *