মুভিরিভিউ – The Gods Must Be Crazy

দারুণ একটা মুভি। অনেকেই হয়তো এটা দেখে থাকবেন। যাই হোক মুভিটাতে ফানি কিছু এলিমেন্ট থাকলেও এর ভেতরের ম্যাসেজগুলো অতি সরল, সুন্দর ও পাওয়ারফুল।

মুভির ঘটনা হলো এরকম –

একটি আদিবাসী গ্রামে সবাই বেশ সুখে শান্তিতে বসবাস করে। সেথায় কোথায় কোন সমস্যা নেই, সবাই সবার মত প্রাকৃতিকভাবে জীবনযাপন করে। কিন্তু একদিন কী হল সেই আদিম লোকদের মধ্য থেকে একজন একটা বোতল কোকাকোলার বোতল পেল। বোতল পাওয়ার পেছনে কাহিনী হলো সেখানে একটা বার্গারের এড বানানোর শুটিং করার জন্য হংকং থেকে একটা কোম্পানি আসে। তো সেখানের একজন মহিলা কোকাকোলা খাওয়া শেষে বোতলটা ছুঁড়ে ফেলে দিলে তা গিয়ে ঘটনাক্রমে ওখানে যে আদিবাসীটি ছিল তার মাথায় গিয়ে পড়ে।

এরপর তার হুঁশ ফিরলে সে বোতলটি হাতে নেয় ও ড্যাবড্যাব করে লোকজনদের দিকে তাকিয়ে থাকে ও কিছুই বোঝেনা তারা কী বলছে ও তার কথাও লোকগুলো বোঝেনা।

অতঃপর মহিলাটি কোকাকোলার বোতলটিতে একটি পাখি পুরে লোকটিকে দেয়। লোকটি সেটি নিয়ে তার গায়ে ফিরে যায় ও বোতলটিকে ঘিরে তারা নৃত্য করে। কিন্তু সবার মনে হল এই বোতলের ভেতর পাখিকে মুক্ত করে দেওয়া উচিত। সেজন্য লোকটি আবার ঐ মহিলাটির কাছে যায় এ উদ্দেশ্য নিয়ে যে, মহিলাটি বোতল থেকে পাখি বের করে তাকে মুক্ত করে দিবে।

তাই সে মহিলাকে খুঁজতে খুঁজতে দেখে মহিলাটি শুটিং এরিয়া থেকে চলে যাচ্ছে। সেও তার পিছু নেয় ও এয়ারপোর্ট অব্দি পৌঁছে যায়।

কিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে আবার কোকাকোলার বোতল তার মাথায় পড়ে যায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়ে একটা ঝুড়ির মধ্যে পড়ে যায় ও তাকে তাকে প্লেনে চালান করে দেওয়া হয়। পরিণতিতে সে তার শান্তিপূর্ণ গ্রাম থেকে কোলাহলে ভরা শহরে এসে যেন এক নতুন দুনিয়া দেখে ও অদ্ভুত কান্ডকারখানা করে। একপর্যায়ে তার সাথে মহিলাটির দেখা হয় ও সে তাকে তার বাসায় থাকতে দেয়। কিন্তু বেচারা যতবারই বোতলটি দেখাতে যায় সে তাকে দেখাতে পারেনা। এছাড়া মহিলাও বিভিন্ন অফিশিয়াল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে তার জীবনেরও বারোটা বেজে যাচ্ছে। এভাবে ঘটনাটা এগোতে থাকে।

এখন শেষে গিয়ে কী আদিবাসী লোকটি পারবে বোতল থেকে পাখিটি মুক্ত করতে ও মহিলাটি কী বুঝবে সে কী বোঝাতে চায়….

এভাবেই লোকটির হাস্যকর কান্ডকারখানার মধ্য ঘটনাটা শেষ পরিনতিতে পৌঁছায়। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, লোকটির কর্মকাণ্ডে শহুরে লোকগুলো বিস্মিত হলেও সেও কী কম বিস্মিত হচ্ছে না! এতসব কল- কারখানা, গাড়ি, দালানকোঠা ও মানুষের ব্যস্ততা দেখে। যদি স্বয়ং গডও এ শহরে এসে যান কোনদিন সেও ক্রেজি হয়ে যাবে এরকম হালচাল দেখে।

যেখানে আদিম লোকটি বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগাবার জন্য উতলা হয়ে যায় সেখানে মহিলাটি তার গাড়ির হুড আটকে দেয় যাতে সে বৃষ্টিতে ভিজে না যায়। এটা আদিম লোকটিকে অবাক করে। যেখানে মাছরা সমুদ্রে ভেসে বেড়ায় সেখানে একুরিয়ামে মাছগুলোকে দেখে লোকটি অবাক হয়। যেখানে পাখি ও প্রাণীদের মুক্তভাবে আকাশে উড়ার ও ভূমিতে চলাচল করার কথা সেখানে সেগুলোকে খাঁচায় পুরে বিক্রি করা দেখে সে ক্রেজি হয়ে যায়।

একটা দৃশ্যে সে পাখিগুলো মুক্ত করে দিয়ে আনন্দ পেলেও তার আশেপাশের মানুষগুলো তা নিয়ে হাউকাউ জুড়ে দেয়। এসবের কিছুই যেন লোকটির মাথায় ঢোকে না। সেইসাথে তো তার বোতলে থাকা পাখিটিকেও মুক্ত করতে হবে।

কিন্তু সে পাখি কী আদৌ মুক্তি পাবে এ ক্রেজি বন্দিশালা থেকে?

মুভিটির শেষ দৃশ্য যেন হাস্যরসের মাঝে এই সূক্ষ্ম বিষয়টি আমাদের দেখিয়ে দিতে চায় আমরা আসলে কীভাবে আমাদের দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পারি। শেষ দৃশ্যের রূপকটা দারুণ লেগেছে। জানতে হলে আপনারাও দেখে ফেলতে পারেন মুভিটি “The Gods Must Be Crazy”.

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *