মাইন্ড ইজ দ্যা রিয়েল রেসিস্ট

মাইন্ড ইজ দ্যা রিয়েল রেসিস্ট

মনের ডুয়ালিস্টিক ন্যাচার যদি আমরা বুঝতে পারি তাহলে আমরা দেখতে পারব যে, এর কাঠামোটাই হলো রেসিস্ট প্রকৃতির। এটি সবকিছুকেই ‘আমরা বনাম ওরা’, ‘আমি বনাম সে’ এরকম ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে ফেলে। এটা কেবল যে ব্যক্তি পর্যায়ে থাকে এমন নয়। বস্তুর বেলায়ও ঘটতে পারে। একটা উদাহারণ দিলে ব্যাপারটা বোঝা যাবে।

যেমনঃ গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ নিয়ে আমি এটা নিয়ে কত ভালোবাসার কাব্য লিখে ফেলি, নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করি; কিন্তু অন্যান্য ফুলকে নিয়ে কেনো নয়। গোলাপকে আমরা বানিয়েছি ফুলের রাণী অন্য ফুল কেন নয়? তাকেই আমরা মধ্যমণী করে রেখেছি৷ এছাড়াও পাখিদের ভেতর কাক কুৎসিত, কর্কশ… কেনো তার প্রতি এত অবহেলা যা অন্যান্য পাখির বেলায় করা হয়না।

আমরা সুন্দর খুশবুর ঘ্রাণকে রুচিকর বলি ভাবি কিন্তু নর্দমার গন্ধ খারাপ। অথচ খুশবুর ঘ্রাণ আর নর্দমার ঘ্রাণ তো সেই এটমেরই তৈরী। তাহলে একটা সুঘ্রাণ বলে অন্যটার ওপর নাক সিটকে যাওয়া এটাও তো একপ্রকার রেসিজম হয়ে গেলো না! কিছু জিনিসের গন্ধকে শ্রেষ্ঠত্ব ও রুচিকর বলে অন্যটিকে অরুচিকর আখ্যা দেওয়া। এটা মনের বস্তুর ওপর ডুয়ালিস্টিক আরোপণ। ঠিক একই কারণে আপনার আমার মনের  কাছে মনে হয় আমার জাতি শ্রেষ্ঠ অন্য জাতি না।

এখন অনেকের কাছে দেখবেন দুর্গন্ধ কোন বিষয় না, এরা এসবের সাথে অভ্যস্ত। কেননা মনের একটা প্যাটার্ন আছে যে এটা কোনকিছুর সাথে প্রতিবার থাকতে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। যেমনঃ মাছের বাজারে গেলে দেখবেন যারা মাছ নিয়ে সারাক্ষন ধান্দা করছে তাদের কাছে মাছের গন্ধ কুরুচিপূর্ন নয় বরং তারা তাতে অভ্যস্ত। এভাবে আপনিও হয়তো বাজার করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন এ গন্ধের সাথে তাই এক্ষেত্রে হয়তো এ রেসিজম আপনার না থাকতে পারে৷ তবে রেসিজমের ন্যাচার আপনার চলে যায়নি; বরং এটা আছে, খালি আপনার এই রেসিজমের সাথে একটা মধ্যস্থতা হয়ে গেছে ও পরবর্তীতে আরও অনেক কিছুর হাত ধরে অন্য কোন ধরনের রেসিজম আপনার মন দাড় করিয়ে ফেলবে।

আসলে কোনকিছু তার মূলগত দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ও নোংরা হয়না। আমাদের মন এর ওপর যা আরোপ করে তার মাধ্যমে কোন বস্তু, ব্যক্তি, জাতি ইত্যাদির ভেতর থেকে আপনি ওই বিষয়টিই দেখতে পান। এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমার মন যদি একটা গোলাপ ফুল থেকে দুর্গন্ধতা আরোপন করে তা থেকে তো আমি দুর্গন্ধতা পাবো না। হ্যাঁ, আপনি পাবেন না, কারন এই কাঠামো একদিনের তৈরী নয় বহু বছরের বিবর্তন ও ধারনার মধ্য দিয়ে এসেছে। তাই সহসাই আপনি, আমি চাইলে এটা ঘুরিয়ে দিতে পারছি না।

তাহলে রেসিজম কী নির্মুল করা সম্ভব নয়?

মন যতদিন আছে রেসিজমকে ওইভাবে নির্মুল করা যাবে না। এটার একপ্রকার নির্মুল হয়ে অন্যপ্রকারের রেসিজম আসবে তথা বিবর্তন হবে। তবে আশার ব্যাপার এই যে, এটা যত বিবর্তিত হবে এটা তত সূক্ষ্ম হয়ে আসবে। বর্বরতার রেসিজম থেকে এটা সভ্য রেসিজমে চলে আসবে। একমাত্র মনের ডুয়ালিস্টিক প্যাটার্ণের বাইরে গিয়ে মনকে অবজার্ভ করতে পারলে এ ধারাটা বুঝে আসবে। আর যখন এটা বুঝে আসে তখন মনের যে বিভাজনের নীতি সবকিছুতে এটাকে আমি ব্যাবহারিকভাবে কাজে লাগাবো অর্থাৎ কোনকিছুকে কাজের সুবিধার জন্য আলাদা করে দেখার সুবাদে। কিন্তু মনের ভেতরে থাকা যে অহংকার রয়েছে সেটাকে এ বিভাজনের মাঝে চড়ে বসে একটাকে অন্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে দিতে দিবো না৷

আরেকটা প্রশ্ন জাগতে পারে যে, তাহলে কী নর্দমার পানি গায়ে লাগিয়ে ঘুরে বেড়াবো?

না, তা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু মনের ভেতর যে, বিভাজনের নীতিজনিত যে, অহংকারের খেলা চলছিলো তখন ওটাকে আপনি আর পাত্তা দেবেন না। মন থেকে একটা সতর্ক ভাব থাকবে। মনে তখনও রেসিজমের প্রবনতা থাকবে; কিন্তু এর মাত্রা কমে আসবে। আর মাত্রা কমে আসলে রেসিজমের ব্যাপারটা অত মেজর ইস্যু হয়ে দাড়াবে না। কেননা আমাদের শরীর সুস্থ্য থাকলেও সেখানে অসুস্থ্য করার মত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এগুলো চলে যায় না; বরং থাকে তবে যেহেতু অসুস্থ্যতা মাত্রা এতই কম যে তা হিসেবের বাইরে রাখা যায়।

তাই মনের এই ডুয়ালিস্টিক প্রবণতার ওপর চড়ে বসা অহংকারের ওপর সতর্ক হলে এর মাত্রা কমে যায়। প্রকৃতপক্ষে আমরা মনের এই সূক্ষ্মস্তরের রেসিজমের ন্যাচারের প্রতি সচেতন হই না বলে তা ক্রমশ ঘনীভূত হয়ে যখন স্থূল হয়ে আমাদের চোখের সামনে এর পরিণামরূপে ধরা দেয় তখন আমরা এর বিরুদ্ধে হইহল্লা করা শুরু করি। অথচ গোড়া থেকেই তা অধরা হিসেবে রয়ে যায় কেননা তা অতটা স্পষ্ট নয় আমাদের কাছে।

কেননা মনের ইলুসিভ ন্যাচার তো রয়েছেই যার কারণে এটা ঘোলা হয়ে থাকে। এবং আমরা পরিণামের অপেক্ষা করি। কিন্তু গোড়াটা দেখতে পারলে এটার গতি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব তথা এ জগতে একটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হতে পারে। বরং একে বলা যায় সম্ভব হয়ে যায়। আর যদি এর উর্ধ্বে ওঠা যায় তাহলে ডুয়ালিটি, রেসিজম, অহংকার এগুলো সব নাশ হয়ে গিয়ে আমরা যেদিকে তাকাই সবার মাঝে সেই একই রকম শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারব।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *