মনের সুইচ অন-অফ করা যায়

মনের সুইচ অন-অফ করা যায়

মানুষরা কী খেয়াল করে তারা সারাদিন কেবল কথাই বলে যায়, বাইরে বাইরে নয়, সে ভেতরেও নিজেকে নিজেই অনর্গল কথা শোনাতে থাকে, অথচ এভাবে যে তার এনার্জির অপচয় হচ্ছে অযথাই এবং এটার কারণে সে শান্তিমত সুস্থির হয়ে দুদন্ড বসতেও পারছেমা তাই-ই সে জানেনা।

আমি ভেতরে ভেতরে প্রতিনিয়ত নিজেকেই অনেক কিছু বলি, সে বলার ওপর চিন্তা, যুক্তি, বিচার চালাই আমার মত করে। এটা কোন সমস্যা না। সমস্যাটা হল কখন এই বাটনটা অন,অফ করতে হবে এটাই আমার জানা নেই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই জিনিসটা জীবনকে সুন্দরভাবে যাপন করার জন্য সবচেয়ে জরুরীতম স্কিল। এটা নিয়ে কোন জায়গায় আমাদের কিছুই শেখানো হয়না। আমাদের চিন্তা করতে শেখানো হয়, সুন্দর সুন্দর কথা বলতে শেখানো হয়, ভাবতে শেখানো হয়, কিন্তু কী করে অনর্গল, অনবরত মনের ভেতরে নিজেকে নিজেই গল্প শুনিয়ে যাওয়াটা কীভাবে থামাতে হয় তার কোন সেন্সমেকিং বা স্কিল শেখানোই হয়না বর পরিসরে।

আশ্চর্যের বিষয় হল এগুলোর শিক্ষা নাই এই কারণে যে, এগুলোও যে শেখার বিষয় হতে পারে এরকম কোন ধারণাই আমাদের সমাজে নাই। এসব বিষয়গুলো সমাজ থেকে উপেক্ষিত। তবে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্কিল বলে মনে হয় একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে। নিজেকে অনবরত বলতে থাকা এই কথার স্রোতধারার দিকে নজর দিলেই খেয়াল করা যায় যে, একটা গভীর নীরবতার মাঝে স্থির হয়ে যাবেন,, সেই অবস্থায় মনে হবে ভেতরে যেন অনেক কোলাহল ছিল কিছু সময়ের জন্য যেন তা থেমে গেছে। ব্যাপারটা এমন যে, আপনার আশেপাশে কোন মেশিনের ঘরঘর করা অনবরত আওয়াজ হঠাৎ করে থেমে গিয়ে স্বাভাবিক শব্দে ফিরে আসলে কিছু মুহূর্তের জন্য যেমন একটু শান্তি লাগে ব্যাপারটা ঠিক এমন।

আমাদের মনও একটা মেশিন এটাকে অনবরত আমরা চালাই ও এটা ঘরঘর আওয়াজ করে। কিন্তু যেই আপনি আপনার সাথে ভেতরে ভেতরে কথা বলা বন্ধ করে দিয়ে তার দিকে তাকাবেন, মুহূর্তেই সব নীরব হয়ে যাবে, সব ঠান্ডা নিস্তব্ধ, শুনশান আকাশে ছোট তারার নীরবতা যেন আপনাকে গ্রাস করবে, সমস্যা বলে সে অবস্থায় কিছু থাকবেনা, কেননা আপনার মেশিন বন্ধ। এই কিছু মুহূর্তের এই মেশিন বন্ধ করার জন্য আমরা এদিক-ওদিক দৌড়াই, পাহাড়ে, নদীর পাড়ে ঘুরতে যাই, গান শুনি, অন্য গ্রহে যাত্রা করি। অথচ আপনি এখন এই মুহূর্তে নিজের বলা কথাকে থামিয়ে দিতে পারেন, অনুভব করতে পারেন সেই নিঃসীম নীরবতাকে যার কাছে শতকোটি সংগীতের সুরও ব্যর্থ। এর এক ঝলকই পাল্টে দিতে পারে আপনার বাস্তবতাকে দেখার সকল দৃষ্টিভঙ্গি।

তাই মন নামক মেশিন চালনার শিক্ষার চেয়ে একে কখন ব্যাবহার করব ও কখন করবোনা তার শিক্ষাটা অতি জরুরী। কেননা এ দুনিয়ায় বলতে গেলে কাজ করা, কথা বলার মত খুব কম মুহুর্তই আছে। অনেক অবসর আছে যেখানে নিজের সাথে নিজের কথা বলার কোন প্রয়োজনই পড়েনা, কিন্তু আমরা বলে বলে কেবল নয়েজ বাড়াই। এজন্য তাও দর্শনে বলে কিছুই করো না। আসলেই তাই, দুনিয়াতে করার মত তেমন কিছুই নাই, যদি আমরা এই নয়েজগুলোকে কম করে সে অবস্থাটা অনুভব করতে পারি। তখন জীবন তাও-এর গতিধারায় বয়ে চলে, নদীর স্রোতের মত ফ্লো করে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *