মনসুর-আল-হাল্লাজ ও রাবিয়া বসরী প্রসঙ্গে ওশো

মনসুর-আল-হাল্লাজ ও রাবিয়া বসরী প্রসঙ্গে ওশো

মনসুর-আল-হাল্লাজ

আল-হাল্লাজ কয়েকটি বক্তব্য বরং বলা যায় ঘোষণা করা ছাড়া কোন বই লেখেনি। হাল্লাজের মত মানুষেরা শুধুমাত্র ঘোষণা করতে পারে কোন প্রকার অহংকার ছাড়া – তাদের কোন অহংকার নেই। একারণেই তারা ঘোষণা করে, “আনাল হক্ব!”

আনাল হক্ব! হল তার ঘোষণা এবং এর অর্থ হলো “আমিই খোদা, এবং আর অন্য কোন খোদা নেই।” মুসলিমরা তাকে ক্ষমা করতে পারেনি; তারা তাকে হত্যা করেছিল। কিন্তু তুমি কী আল হাল্লাজকে হত্যা করতে পারবে? এটা অসম্ভব! এমনকী যখন তারা তাকে মেরে ফেলছিল তখনও সে হাসছিলো।

কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তুমি হাসছো কেন?”

জবাবে সে বলেছিল, “কারণ তুমি আমাকে মারছো না, তুমি কেবল এই শরীরকে হত্যা করছো, এবং আমি বারবার বলেছি যে আমি আমার শরীর নই। আনাল হক্ব! আমি নিজেই খোদা।”এখন এই মানুষগুলো হলো আদর্শ মানুষ (Salt of earth)

আল হাল্লাজ মনসুর কোন বই লেখেনি; কেবলমাত্র তার কিছু ঘোষণা তার অনুরাগী ও বন্ধুরা সংগ্রহ করে রেখেছিল। এমনকী আমি তাদের অনুসারীও বলবো না, কারণ আল হাল্লাজের মত মানুষেরা অনুসারীদেরকে তথা নকলবাজদের গ্রহণ করে না। তারা কেবল প্রেমী ও বন্ধুদের গ্রহণ করে।

 

রাবিয়া আল-আদাবিয়া

সে হলো একজন সুফী; তার নাম রাবিয়া আল-আদবিয়া। আল-আদাবিয়া’র অর্থ হলো ‘আদাবিয়া গ্রামের’। তার নাম হলো রাবিয়া, আল-আদাবিয়া হলো তার ঠিকানা। এভাবেই সুফীরা তার নাম দিয়েছিলঃ রাবিয়া আল-আদাবিয়া। রাবিয়া যখন বেঁচে ছিলো তখন গ্রামটি প্রায় মক্কায় পরিণত হয়ে গিয়েছিলো। সারা পৃথিবীর ভ্রমণকারীরা, অনুসন্ধানীরা এখানে আসত রাবিয়ার কুঁড়েঘরের খোঁজে। সে সত্যিই হাতুড়ি হাতে যে কারও খুলি ভেঙ্গে দিতে পারে এমনতর ভয়ানক রহস্যবাদী ছিল। প্রকৃতপক্ষে সে অসংখ্য খুলি টুকরো টুকরো করেছিলো এবং সেখান থেকে আসল সত্তাকে টেনে বের করেছিলো।

একদা হাসান তার খোঁজে এসেছিলো। একদিন সকালে তার ঘরে অবস্থানরত অবস্থায় সে তার সকালের প্রার্থনার জন্য তাকে কোরআন দেবার জন্য বলে৷ রাবিয়া তার নিজের কোরআনটি তাকে দিলো। হাসান হতভম্ব হয়ে একপা পিছিয়ে গেল; সে বলল, “এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কে এই কাজ করেছে? রাবিয়া কোরআনকে সংশোধিত করেছিল! সে কোরআনের বিভিন্ন জায়গার বাণী কেটে দিয়েছিল। এমনকী কয়েক জায়গায় সে পুরো আয়াত পর্যন্ত কেটে দিয়েছিল। হাসান বললো, “এটা নিষিদ্ধ। কোরআনকে সংশোধন করা যাবে না। কে খোদার শেষ পয়গম্বর, রাসূলকে সংশোধন করতে পারে?” একারণেই মুসলিমরা তাকে শেষ পয়গম্বর বলে – কারণ মুহম্মদের পরে আর কোন পয়গম্বর আসবে না, সুতরাং কার ক্ষমতা আছে তার বাণী সংশোধন করার? সেই-ই সঠিক এবং অসংশোধনীয়।

রাবিয়া হাসতে লাগল এবং বলল, “আমি পরম্পরার ধার ধারি না। আমি খোদাকে মুখোমুখি দেখেছি এবং আমি কোরআনকে আমার অভিজ্ঞতার দ্বারা সংশোধন করে নিয়েছি। এটা আমার কোরআন।” সে আরও বললো, “তুমি কোনপ্রকার আঙ্গুল তুলতে পারো না এ ব্যাপারে। এটা একান্তই আমার। তোমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত যে আমি এটি পড়ার জন্য তোমাকে অনুৃমতি দিয়েছি। আমার অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আমার নিজের কাছে সত্যবাদী থাকতেই হবে, অন্যকারো কাছে নয়।”

এই-ই হলো রাবিয়া, অসাধারণ একজন নারী। আমি আমার তালিকায় তাকে শামিল করেছি। সে ম্যাডাম ব্লাভাটস্কির জায়গায় স্থান পাবার জন্য যথেষ্ট। বরাবরের মতই রাবিয়ার বাণীগুলো তার নিজের হাতে লেখা নয়, তার শিষ্যদের দ্বারা লিখিত; ঠিক দেবগীতের (Devageet) নোটের মত। রাবিয়া কোন প্রস্তুতি ছাড়াই কথা বলে উঠতো – কেউই তার কথার কোন মাথামুন্ডু বুঝতে পারতো না; হঠাৎ করে সে কিছু বলে উঠতো এবং এটা লিখে ফেলা হতো।

তার সাথে উপাখ্যানগুলোর মিল রয়েছে এবং উপাখ্যানগুলোই তার নিজ জীবনে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছিলো। আমি এটা ভালোবাসি। মীরা চমৎকার, কিন্তু লবণ ছাড়া, কেবল মিষ্টি। রাবিয়া হলো বেশ নোনতা। যেমনটা তুমি জানো যে আমি একজন ডায়াবেটিক, এবং আমি মীরাকে খুব বেশী খেতে কিংবা পান করতে পারবো না -দেবরাজ (ওশোর ফিজিশিয়ান) এটার অনুমতি দিবে না৷ কিন্তু রাবিয়া ঠিক আছে। আমি আমার ইচ্ছেমতো লবণ খেতে পারবো৷ প্রকৃতপক্ষে আমি চিনিকে ঘৃণা করি ও আমি স্যাকারিন, (বিশেষ করে বানানো ডায়াবেটিকদের জন্য বানানো কৃত্রিম চিনিকে) এর চেয়েও বেশী ঘৃণা করি। কিন্তু আমি লবণকে ভালোবাসি।

যিশু তার শিষ্যদেরকে বলেছিলোঃ তোমরাই হলো এ পৃথিবীর আদর্শ। আমি রাবিয়াকে বলতে পারিঃ এ পৃথিবীতে যত নারী রয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে রাবিয়া তুমি তাদের আদর্শস্বরূপ। (Salt of earth)

Source : Osho – Books I have loved

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *