মতাদর্শের গোঁড়ামি – সব মতাদর্শ কেন গোঁড়ামিতে পরিণত হয়ে যায়?

ইগো নিয়ে বিভিন্ন থিওরী আলোচনার পূর্বে ইগো ও এর বিভিন্ন ফন্দীফিকির নিয়ে আলোচনা করে ধীরে ধীরে আমরা এর ডেভেলপমেন্টাল থিওরীগুলোর দিকে এগোনোর চেষ্টা করবো। এর ধারাবাহিকতায় আজকে আলোচনা করবো মতাদর্শ তথা আইডিওলজির গোঁড়ামি নিয়ে।

মানুষ সমাজের সবার মঙ্গলের কথা ভেবে ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন উৎকর্ষের কথা ভেবে নানাধরনের মতাদর্শ উত্থাপন করে কিংবা গোষ্ঠীগতভাবে বা একক ব্যক্তির ওপর কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের মতাদর্শের দিকে মানুষ ঝুঁকে পড়ে। এসব মতাদর্শগুলোর মজার ব্যাপার হলো প্রায় প্রতিটি মতাদর্শই কিছু না কিছু মঙ্গল বা ভালোর দিকে ফোকাস করেই গড়ে ওঠে। আসলে আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের সবার মনের গভীর এক কোণায় মঙ্গল, ভালোত্ব এসব চাওয়াটা গ্রথিত হয়ে রয়েছে। কিন্তু সমস্যাটা হলো আমাদের এই ভালো চাওয়াটাকে কেন্দ্র যা কিছু সৃষ্টি হয় ও এ থেকে ইগো নামক ফোর্সটি এইসকল ভালো ভালো কল্যাণমূলক মতাদর্শের মাঝে যে গিট্টু তৈরী করে তা আমরা আমাদের একেকজনের মতাদর্শিক স্ট্যান্ডপয়েন্টকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে ফেলার দরুণ এর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ইগোর অন্ধকার দিকটি সম্পর্কে আমরা জাগরূক হতে পারিনা।

প্রকৃতপক্ষে, ইগো মনের এমন একটি সূক্ষ্ম মেকানিজম যা নিজেকে লুকোতে জানে ও সুযোগ বুঝে এটা সুবিধা বুঝে জাগরিতও হতে পারে। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো এটি কখন জাগরিত হচ্ছে ও কখন চলে যাচ্ছে এটা আপনি ধরতে পারবেন এমনকী অনুভব পর্যন্ত করতে পারবেন যদি আপনি ধীরে ধীরে আপনার কনশাসনেস বৃদ্ধি করতে পারেন তবে। যখন আমরা কোন মতাদর্শ সম্পর্কে জানি, বোঝার চেষ্টা করি ও বুদ্ধি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করি এবং এরপর নির্ণয় করি যে, আচ্ছা এই মতাদর্শে আমি সমর্থন জানাচ্ছি। এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই আছে। কেননা কিছু মঙ্গলজনক কিছু করতে গেলে একটা মতাদর্শকে আঁকড়ে ধরে কিছু না কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে না হলে ইগোর ফোর্স আসে ও কাজও হয়না। তবে যখন দেখা যায় কোন মতাদর্শের অনুসারী হয়ে কিছু ভালোর নিশানা আপনি দেখতে পেলেন সাথে সাথে নিজের ভেতর জাগরূক দৃষ্টি না থাকার ফলে আপনার মন সেই মতাদর্শকে সুরক্ষা করার চেষ্টা করবে। একে ঘিরে সে একটা প্রাচীর বানানোর চেষ্টা করবে৷

আর আমরা তো একটা কথা জানি যে, প্রকৃতি সদা পরিবর্তনশীল। কিন্তু একবার যখন আমাদের ইগো কোন মতাদর্শকে ঘিরে প্রাচীর বানানো শুরু করে দেয় তখন সে ভুলে যায় যে মতাদর্শ কোন এক সময় কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে সফল হয়েছিল, কল্যাণ করেছিল তা কালের স্রোতে পরিবর্তিত হয়ে ঐ একই উপায়ে কাজ নাও করতে পারে। কিন্তু ইগো সেটা মানবে না। আপনি যদি তার মতাদর্শকে আক্রমণ করে বসেন সে এটা রক্ষা করার প্রাণপণ চেষ্টা করবে। কেননা এটার একটা ফাংশন হলো কোন মত কিংবা আদর্শ সেটা যাইহোক না কেন তাকে হাত করে এর পাশে প্রাচীর বানানো ও মজার বিষয় আপনি এটা টেরও পাবেন না। এভাবে সে একটা প্যারাডাইমের সৃষ্টি করে যার ভেতরে মানুষরা তার সুনির্দিষ্ট মতামত নিয়ে লক হয়ে যায়। এটাই হলো প্যারাডাইম লক।

এখন মতাদর্শ কী সবসময় ভালো, খারাপও তো হতে পারে…

হ্যাঁ, খারাপও হতে পারে। কিন্তু ভালো, খারাপের বিষয়টা আপেক্ষিকভাবে কাজ করে। এই আপেক্ষিকতার বিষয় পরে কোনদিন আলোচনা করা যাবে। আপাতত মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করা যাক। মানুষ যখন কোন একটা মতাদর্শে ঝুঁকতে চায় তখন সে তার সাবজেক্টিভ দিক অনুযায়ী ভালোটার দিকে আগাতে চায় মানে যার যার দৃষ্টিকোণ থেকে ভালোর দিকে বা ভালো মনে করে সে মতাদর্শে বিশ্বাস করতে চায়। এখন আপনি, আমি হয়তো সে ব্যক্তির মতাদর্শকে একটু সরে এসে উপর থেকে দেখছি বলে তার খুঁতগুলো দেখতে পারছি কিন্তু সে ব্যক্তি দেখতে পাবেনা। কারণ, ইতোমধ্যেই সে ব্যক্তির মনের কোণে ঘাঁপটি মেরে থাকা ইগো তাকে সে মতাদর্শের ভালো দিকগুলো দিয়ে আইওয়াশ করে ফেলেছে। আবার আপনি, আমি যে দেখতে পাচ্ছি তারটা, আমরা কিন্তু আবার আমাদেরটা দেখতে পাচ্ছিনা। কেননা আমরা মনে করছি তার মতাদর্শে খুঁত রয়েছে, আমাদের মতাদর্শে নেই, আমাদেরটাই ভালো!

এভাবে বিভিন্ন মানুষের ইগো বিভিন্ন মতাদর্শ নিয়ে একটা কমপ্লেক্স কনফ্লিক্টের সৃষ্টি করে৷ মতাদর্শের মাঝে যদি সুস্পষ্টরূপে খারাপের ব্যাপার থাকতই তাহলে প্রথমত মতাদর্শগুলো জনমানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকতো না। ইগো কখনই খারাপ কিছুকে আইওয়াশ করেনা। এটা করলে এটা হবে তার স্ট্র্যাটেজিক ভুল। ইগো সবসময় ভালোটাকে টার্গেট করে। মতাদর্শ যত ভালো ও শক্তিশালী এটা সেটাকেই টার্গেট করে ও ধীরে ধীরে এটাকে নষ্ট করতে থাকে। আসলে নষ্ট করতে থাকে বললে ভুল হবে। ইগো মূলত পরিবর্তনশীলতার সূত্রকে অগ্রাহ্য করে এটাকে রক্ষা করতে চায় আর এটা করতে গিয়ে সে তার আশেপাশে গড়ে তোলে রক্ষণশীলতার দেয়াল। যে কারণে সে যেমন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে তেমনি একই কারণে সে ভীতুও বটে। কারণ কোনকিছুকে রক্ষা করতে হলে আপনি সেই ত্রিসীমানায় কাউকে ঘেঁষতে দিবেন না। ফলে আপনি হয়ে উঠবেন আগ্রাসী ও প্রতিসময় আতংক নিয়ে বসবাস করবেন। তার পাশাপাশি আপনি কাউকে বিশ্বাসও করতে পারবেন না। যার ফলে আপনি হয়ে পড়বেন একা। এজন্যই দেখবে যে মানুষের মাঝে আপনি ইগোর দেখা বেশী পাবেন সে নিজের মাঝে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে একা হয়ে পড়ে। এভাবে মানসিক রোগেরও সৃষ্টি হয়।

ইগো কখনও সমপূর্ণ মিথ্যা নিয়ে কাজ করেনা। এটি সবসময় আধাসত্য, আধামিথ্যা এরমাঝে মিলিয়ে মিশিয়ে একটা দেখতে সত্য, ভেতরে মিথ্যা এরকম টাইপের একটা ভ্রান্তি তৈরী করে। এখানেই তার ব্রিলিয়ান্সী!

ইগোকে আমি এখানে যেভাবে ব্যাখ্যা করছি এতে আপনাদের মনে হতে পারে ইগো বাহিরে থাকা কোন একটা শত্রু যে সমস্ত দুনিয়ার আকাম-কুকামের জন্য দায়ী। এটাকে একপ্রকার কন্সপিরেসী থিওরীর মত মনে হতে পারে। তবে এটা যদি আপনার মনে উঁকি দিয়ে থাকে তাহলে বুঝে নিবেন এটাও একটা ইগোর চাল! ইগো বাইরে নয় বরং ইগো আপনার, আমার ভেতরে, আর আমি সেটার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছি। এটা ভালো না খারাপ, আপাতত এ বিচার একপাশে সরিয়ে রেখে একটু গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে এর খেলাটা আপনি আপনার মনে ধরতে পারবেন।

আবার মতাদর্শে ফিরে আসা যাক।

এখন আমি মতাদর্শগত কিছু উদাহারণ দিয়ে ব্যাপারটি আরেকটু পরিষ্কার করার চেষ্টা করব।

১৯৮৯ কী ৯০-এর দিকে যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হলো তখন থেকে কমিউনিস্ট মতাদর্শের ব্যাপক বারোটা বাজানো হয়েছে। তার পর থেকে ক্যাপিটালিজমই চলে আসছে। এখন কথা হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই ভয়াবহ দৃষ্টান্ত দেখার পর মানুষের মনে একপ্রকার প্রাচীর তৈরী হয়ে গেছে যে সমাজতন্ত্র মানেই আসলে সেই স্ট্যালিনীয় ব্যাপার স্যাপার। তো এরকম প্যারাডাইমে যখন কেউ লক খেয়ে থাকবে তখন পরিবর্তনশীলতার স্রোত অনুযায়ী যদি পরবর্তীতে অন্যকোন ভাবে সমাজতন্ত্রেরও যে ইতিবাচক একটা দিক তৈরী হয় সেটার ব্যাপারে সে অন্ধ থাকবে। কেননা কমিউনিজম যে খারাপ সে ঐ একটা ঘটনা দিয়ে মেপে ফেলেছে ও তার এই মতাদর্শ তৈরী হয়ে গিয়েছে। এখন এটাকে কেউ যদি প্রশ্ন করতে আসে সে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবে। এমনটা তো বাধ্যতামূলক নয় যে পরবর্তী যে সমাজতান্ত্রিক ধারা তা স্ট্যালেনীয় ফরম্যাটেই হবে।

আবার, অন্যদিক দিয়ে দেখলে দেখা যাবে যে, যারা কমিউনিস্ট যারা তারা বর্তমানের পুঁজিবাদের ভয়াবহতা দেখে এটা নিয়ে সমালোচনা করে তাদের যে মতাদর্শ তাকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করবে। কিন্তু পুঁজিবাদেরও যে ইতিবাচক দিক রয়েছে তা তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে যদি তাদের কমিউনিস্টিক মতাদর্শে ইগোর খুব শক্ত প্রলেপণ কাজ করে থাকে তবে৷

এখন মজার বিষয় হলো যে, দুইটি মতাদর্শেরই কিন্তু ভালো ভালো দিক রয়েছে ও উভয় গোষ্ঠীই তার দিক থেকে তাদের মতাদর্শের ভালো দিকগুলো দিয়ে তাদের পক্ষ টানার চেষ্টা করবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে কেউ নিজেরটাও সমালোচনাও করতে পারে এটা দেখাতে যে, দেখো আমি মতাদর্শিক দিক থেকে কতটা ডিসেন্ট তোমরা তো তাওনা! এটাও নিজের মতাদর্শিক স্ট্যান্ডপয়েন্ট জাস্টিফাই করার একটা ইগোয়িক টুলস। এভাবে উভয়েই ভালোটা টানার চেষ্টা করবে ও একটা কনফ্লিক্টের সৃষ্টি করবে।

যখন কেউ এই এই উভয় বিষয় একটু নিজের মতাদর্শিক এটাচম্যান্টকে সরিয়ে রেখে ওপর থেকে দেখতে পারবে তখন তার এই মতাদর্শিক প্যারাডাইম ভঙ্গ হবে। তখন সে বিষয়টা দেখতে পাবে। এ জগতে বাইনারীভাবে পুরো বিষয়টা বুঝে আসেনা বা সমস্যার সুরাহা হয়না। যারা একে অপরের মতাদর্শ নিয়ে লড়ে তাদের লড়াইয়ের মাঝে একধরনের ইগোয়িক স্যাটিসফেকশন কাজ করে। এটার মায়া ত্যাগ করে ওপরে এসে ব্যাপারগুলোকে ক্রিটিক্যালি দেখা ও বোঝার চেষ্টা করা এবং নিজের মতাদর্শিক বায়াস, ইগোয়িক শ্যাডো এটা দেখাটা ইমোশনালি বেশ কঠিন। তারচেয়ে নিজের মতাদর্শ নিয়ে অপরের সাথে তর্কবিতর্ক করাটাই উত্তম মনে হয়।

এভাবে আপনি দেখবেন কনজারভেটিভ, লিবারাল মতাদর্শের মাঝে কনফ্লিক্ট, আস্তিক, নাস্তিকের মাঝে কনফ্লিক্ট ইত্যাদি। কেবলমাত্র এ কয়েকটা মতাদর্শ নয়, যেকোন প্রকার মতাদর্শ সেটা স্পিরিচুয়াল কমিউনিটিভিত্তিক মতাদর্শও ইগোর খপ্পরে পড়ে যায়। এছাড়াও ইগালিটারিয়ানিজম নামক মতাদর্শের কথাই ধরা যাক, এ মতাদর্শনুযায়ী সবাই সমান, সবারই সমান অধিকার রয়েছে, সবার সমান সমান সবকিছু পাবে। এখন কথা হলো সবাই সমান এ ধরনের মতাদর্শে একটা আপাত কল্যাণজনক অনুভূতি পাওয়া যায়। তা বেশ, তা বেশ। ভেজাল হলো এ মতাদর্শের যারা অনুসারী তারা আবার এ মতাদর্শ যারা মানে না তাদের মতাদর্শকে খাটো করে দেখে। তাহলে সবাই যে সমান হবার কথা এটা কীভাবে হয় তাহলে? তারা তাদের মতাদর্শের বাইরে তাদেরকে তো সমানভাবে দেখছে না বা তীর্যকভাবে দেখছে।

এখানেও আমরা ইগোর আরেকটি ফাংশন দেখতে পাবো যে, ইগো ঐক্যকে ভয় পায়, এটা কোন জিনিসকে খন্ড করা ছাড়া দেখতে পারেনা। তাই সবাই সমান এই মতাদর্শও নিজেই একটা ইগোয়িক প্রাচীরে ঘিরে অন্যথেকে আলাদা হয়ে একটা দ্বন্দ্বে চলে যায়।

যেখানে ক্ষমতা রয়েছে ইগো সেখান থেকেই কুঁড়ি মেলা আরম্ভ করে। দেখা যায় যে, শুরু শুরুতে সব মতাদর্শই মঙ্গল করার স্বপ্ন দেখায় ও সে অনুযায়ী কাজও সংঘটিত হয়। কিন্তু সময় যত সামনে গড়াতে থাকে এর ওপর ইগো তার আস্তরণ ছড়াতে থাকে। একপর্যায়ে নিজের মতাদর্শকেই সবকিছু মনে করে এটাকে ধ্রুবসত্য বলে মনে করে তার মতাদর্শকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার সিংহাসনে বসে পড়ে। আর সে ক্ষমতায় থাকা কর্মকান্ডের ওপর কেউ আঙ্গুল তুললে এটা যথাসাধ্য দমন করার চেষ্টা করে। এজন্য সে বিন্দুমাত্র নিজের কর্মকান্ডকে যাচাই করেনা বা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝে ও অন্য মতাদর্শকে আমলে রেখে পরিবর্তনের কথা বিবেচনাও করতে চায়না। এভাবে যেকোন মতাদর্শই কালের অগ্রগতিতে গোঁড়া হয়ে যায়। এ গোঁড়ামি উচ্ছেদ করে নতুন একটা মতাদর্শ এলে ওটাও গোঁড়া হয়ে যায়। এমনকী প্রগতিবাদী মতাদর্শ যা সতত পরিবর্তনশীলতার মাঝে দিয়ে পরিবর্তনের কথা বলে এটাও প্রগতিশীল গোঁড়ামিতে পরিণত হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনকিছু নিয়ে অতিমাত্রায় এটাচড হয়ে পড়লে ইগো ওটাকে ঘিরে বাবল তৈরী করতে থাকে ও এ বাবল রক্ষার জন্য সে অন্যান্য বাবলওয়ালা ইগোর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এজন্য কোনকিছু ধরে তাকে মেনে নেওয়া নয় বরং তা আসলে হয়ে উঠতে হয়। আর হয়ে ওঠার পেছনে নিছক কোন মতাদর্শিক অবলম্বন কাজ করেনা বরং অন্তর্নিহিত একটা সংগ্রাম কাজ করে যা সেই ইগোকে ক্রমাগত পুড়িয়ে পুড়িয়ে নরমালাইজ করতে থাকে।

যে মতাদর্শ যতবেশী ক্ষমতাশালী হবে ততই ইগো সেটাকে আঁকড়ে ধরবে। ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এই চারটা ধর্ম নিয়ে গন্ডগোল আছে। কিন্তু এটা ছাড়াও জরথুস্থ্রিয়ান ধর্ম ছিলো। কিন্তু সে ধর্মের লোকসংখ্যা সর্বসাকুল্যে ১ লাখের মত হওয়ায় কালেকটিভলি ইগো অতটা চড়াও হয়নি কেননা ইগোর এখানে কোন ফায়দা নেই।

ইগোর দুটি অপারেশনাল দিক রয়েছে একটি হলো ইনভিজুয়াল দিক তথা ব্যক্তিগত দিক ও অপরটি হলো কালেকটিভ দিক।

এই দুটি দিকেই নানারকম মতাদর্শ দানা বেঁধে উঠে মানুষকে গোঁড়ামিতে নিপতিত করে দিতে পারে। এবং গোঁড়ামিতে পড়লেই এটা একজনকে মুক্তভাবে কোনবিষয় পর্যবেক্ষণ করতে দেয়না। কালেকটিভ ইগোর বিষয়াদি সূত্রপাত ঘটে ইনডিভিজুয়াল দিক দিয়ে। তাই সর্বপ্রথম নিজের ইগোর ব্যাপারে জাগরূক হওয়াটা আসলে দরকার। কেননা এখান থেকেই বিভিন্ন দিকে আপনি, আমি ধাবিত হই ও নিজের ভেতরের এই সূক্ষ্ম ব্যাপারের ওপর জাগরূক দৃষ্টিক্ষেপণের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে সমাজে ধীরে ধীরে উন্নত মানবের আবির্ভাব হওয়া সম্ভব।

বিবর্তনিক ধারার সুঁতো ধরে, সবকিছু বিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের ইগোরও বিবর্তন হয়ে চলেছে। এসব নিয়ে করা গবেষণামূলক থিওরীতে বলা হয় এই ডেভলপমেন্ট বা বিবর্তন হয় হলো পিরামিড আকারে অর্থাৎ ভার্টিকাল ডেভেলপমেন্ট। এ ডেভলপমেন্ট যত হতে থাকবে ইগোর প্রতি জাগরূকতা বৃদ্ধি ঘটে, কনশাসনেসের বৃদ্ধি ঘটে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, সকল মতাদর্শেই যদি ইগোর কারণে গোঁড়া হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে সব মতাদর্শই ভেজাল। কিন্তু সে ভেজালত্বের মাঝে গুণগত তফাৎ আছে। আর এইসব নানামাত্রার, নানারঙের ইগোর খেলা নিয়ে আপনি, আমি, এই সমাজ। যার প্রতিটি মাত্রায় রয়েছে কিছু ভালো, কিছু খারাপের বাইনারী। তাই এই ব্যাপারগুলোকে বোঝা ও নিজের অবস্থান চিন্হিত করে নিজেকে ধীরে ধীরে উন্নত করে তোলা ও সহমর্মী হয়ে সমাজে অন্যের অবস্থা বোঝা এবং তাদেরকে অনুকম্পার সহিত সাহায্য করার কাজে এই থিওরীগুলো বেশ কাজে আসবে।

এজন্য ইগো নিয়ে ডেভেলপমেন্টাল থিওরীগুলোর আলোচনায় প্রথমে আমি যেটা অধিকতর দিক দিয়ে ইনভিজুয়াল ইগোর দিক দিয়ে ফোকাস করেছে তা নিয়ে আলোচনা করব। এরপর কালেকটিভ মডেলের দিকে অগ্রসর হব।

আশা করি, সব মতাদর্শ কেন গোঁড়ামিতে পরিণত হয়ে যায় একটা ধারণা পেয়েছেন। সামনে Ego Develpomental Theory তথা “EDT” মডেল নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু ধারণামূলক আলোচনা করব। ধন্যবাদ।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

2 Responses

  1. rejaurrahman500@gmail.com' Rejaur says:

    খুব চমৎকারআলো ফেলেছে। এমন একটা বিষয় নিয়ে যেটা বিস্তারিত কাজ হয়নি। ইগো কি ইটসেলফ কোন ফোর্স? নাকি মনের কো প্রশাখা? ইগোর ট্রিক ত টিকে থাকার একটা প্রেরণ। আমার খুব ভালো লেগেছ।

    • নাজিউর রহমান নাঈম says:

      ইগো আসলে আমার অনুভবে যা মনে হয় একটা ভ্রম। কেননা এটা সুযোগ বুঝে মানুষের মনে জাগ্রত হয়।
      মানে আপনি কোনকিছুতে অতিজড়িত হয়ে পরলে এর একটা অনুভূতি আপনি পাবেন। এর প্রতি সজাগ হলে এর মাত্রাটা
      একটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়। আর এটা ভ্রম বলে হয়ত একে ধরাও যায়না তবে গভীরভাবে খেয়াল করলে এর আর খোঁজ পাওয়া যায় না।
      কিছুটা মরীচিকার মত বলতে পারেন। সচেতনভাবে এর খেলায় প্রবেশ করলে সমস্যাটা কম হয়। কেননা সমস্যা তো ইনিই সৃষ্টি করে!
      টিকে থাকার প্রেরণা মনে করে একে আবার অতি প্রাধান্য দিয়ে ফেললে জীবনটা বেশ সিরিয়াস হয়ে যায়। অথচ আমরা তো একটু খেলতে চাই এই দুনিয়ায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *