ফ্রী উইল ও ভাগ্যের ব্যাবহারিকতা

ফ্রী উইল ও ভাগ্যের ব্যাবহারিকতা

ফ্রী উইল ও ভাগ্যের দুটি দিক ভাবতে ভাবতে একটা বিষয় মাথায় আসলো যে, ফ্রী উইল আছে নাকী ভাগ্য এটা খোঁজার কারণ হলো একটা নির্দিষ্ট উত্তর পেয়ে বিষয়ের একটা সুরাহা করা। কিন্তু কথা হলো অদ্যবধি থেকে আজ পর্যন্ত এর কোন সুরাহা হলো না… আর ভবিষ্যতেও হবে বলে মনে হয়না। যে উত্তরই দেওয়া হয়না কেন তা একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি।

অথচ এই দুটিই মানুষ ব্যাবহার করেছে ও এ অনুযায়ী ফলাফলও পেয়েছে। কেউ ভাগ্য নিয়ে মেতেছে কেউ ফ্রী উইল নিয়ে। আমি বলি কী দুইটাই ঠিক আছে তবে এটা প্রকৃত উত্তরের ক্ষেত্র হিসেবে বলছি না, বলছি এর ব্যাবহারের ওপর ভিত্তি করে। আমাদের তর্কের সূত্রপাত এই কারণে যে, কেউ ফ্রী উইলের কথা বলে বারোটা বাজিয়েছে তো কেউ ভাগ্যের কথা বলে বারোটা বাজিয়েছে। তাই কালের পরিক্রমায় আমাদের এ দুটির মধ্যে কোনটা আসলে এর উত্তর অনুসন্ধান চলেছে। এবং এ থেকে নানা মতভেদ তৈরী হয়েছে। এ দুটির সমন্বয়ও কেউ কেউ হয়তো করেছেন।

কিন্তু সমন্বয়ী উত্তর পাবার পর একটা প্রশ্ন আসে, আমি এখন করব কী? কীভাবে কাজে লাগাবো একে?

প্রকৃতপক্ষে উত্তর অন্বেষণের চেয়ে এ দুটির ব্যাবহারিক দিক নিয়ে আমরা ভাবতে পারি ও দেখতে পারি কীভাবে এই দুটি বিষয় ইগোর হাতিয়ার হিসেবেও কাজ করেছে –

উল্লেখ্য যে, ইগোর পলায়নপর ফাংশনটি এক্ষেত্রে মাথায় রাখা আবশ্যক –

১. যখন আমি বলি ভাগ্য আছে, সবকিছু ভাগ্য দ্বারাই পরিচালিত হয়, তখন ইগো এটাকে একটা পলায়নপরতায় রূপ দিয়ে ফেলে। এখন যদি আপনি এটা মনে করেন তাহলে আপনি এটা কাজে লাগিয়ে আপনার দায়িত্ব নির্দ্বিধায় এড়িয়ে চলতে পারেন। কেননা সব ভাগ্যের হাতে। ইগো এ জায়গায় স্বেচ্ছাচারী কর্মকাণ্ড করে ভাগ্যের উপরে সব চাপিয়ে দিতে পারে। যা মোটেই কাম্য নয়।

২. স্বাধীন ইচ্ছা থাকলে অর্থাৎ এটির সুনিশ্চিততা পেয়ে ইগো স্বাধীন ইচ্ছাবলে যা মন চায় তাই করতে পারে। অনেক ট্রিকি উপায়ে এটা অনেক কিছুকে বৈধ করে দেখে স্বাধীন ইচ্ছার নামে নিজের করণীয় সম্পর্কে বিস্মৃত হতে পারে।

এখন বলা যেতে পারে এ ভাগ্য ওরকম নয়, এ স্বাধীন ইচ্ছা ওরকম নয়…. হ্যাঁ অনেক মতভেদ আছে তবে ওগুলোর বিস্তারিত তাত্ত্বিক দিক আপাতত বাদ দিয়ে যদি দেখা যায়, এই যে এ দুটিকে ভুল পথে পরিচালিত করা যায়, এ দুটিকে কিন্তু সঠিক পথেও টুল হিসেবে ব্যাবহার করা যায়। যেমনঃ

১. যখন বলি সবকিছু ভাগ্যের হাতে, ভাগ্য দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তখন আমাদের যে ইগোবেষ্টিত মন সবসময় ‘আমি’র আধিপত্য চালায় সে একটু নির্ভার হয়। একটা কিছুর ওপর সমস্ত কিছু ছেড়ে দিয়ে নির্ভার হয়ে থাকা যায়, শান্ত হওয়া যায়। এবং এর পাশাপাশি কর্ম করার সময়ও যদি পেছনে একটা ভাব থাকে সব ভাগ্যই করাচ্ছে তাহলে সে কাজের পেছনে ইগোটা কম হয়, একটা স্বস্তি আসে। কিন্তু ভেজালটা হয় তখন যখন মানুষের ইগো একে ট্রিক খাটিয়ে এটাকেই তার নিজের হীন কাজের স্বার্থে লাগানো শুরু করে দেয়।

২. স্বাধীন ইচ্ছাকে কোন চ্যালেন্ঞ্জিং কাজের ব্যাপারে কাজে লাগানো যায়। যেখানটায় মনে হলো ইগো পলায়ন করতে চাচ্ছে, কিংবা বলে উঠছে “ভাগ্যে থাকলে হবে না থাকলে হবে না” এটার দুটি ভাবগত দৃষ্টিভঙ্গী আছে প্রথমটা ভালোদিক, দ্বিতীয়টা খারাপ দিক। প্রথমটা হল ১নং এর সাথে সামন্ঞ্জস্যপূর্ণ যে আপনি কাজটি করার মনোভাব রাখেন কিন্তু কাজটি যদি ঠিকমতো নাও হয় এতে আপনি তা মেনে নেওয়ার ভাব রাখেন অর্থাৎ এক্ষেত্রে ভাগ্য আপনাকে টেকনিক্যালি সাপোর্ট দিচ্ছে।

দ্বিতীয়টি হল, এটা বলে আপনি নিজেকে কাজটি করা থেকে ভেতরে ভেতরে পলায়ন করতে চাচ্ছেন তাই ভাগ্যকে টেনে আনছেন। এখানটায় এসে স্বাধীন ইচ্ছাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। যে ইচ্ছার দ্বারা ইগোর এই পলায়নবাদিতা রুখে দেওয়া যেতে পারে।

এজন্য আমাদের ইগো কোনদিকে তত্ত্বগুলোকে টেনে নিয়ে কী করাতে চাচ্ছে তার ব্যাপারে সজাগ হয়ে আমরা এ দুটিকে প্রয়োগ করতে পারি।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে এই প্রয়োগের জন্য তো স্বাধীন ইচ্ছা লাগবে। তাহলে তো স্বাধীন ইচ্ছারই জয় হল। এখন একেবারে গোড়া থেকে ধরলে অনেক কিছুই ধরা যায় ও এ আলোচনার শেষ নাই। তাই জয় স্বাধীন ইচ্ছারই হোক কিংবা ভাগ্যের কীভাবে তা ব্যাবহার হচ্ছে এটাই মূখ্য, এর ইগোয়িক এসকেপিজম ও ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সচেতন থাকতে পারলে দুটো থেকেই উৎকর্ষ সাধন করা সম্ভব। আর মনে রাখা ভালো যে, দুটোরই পজেটিভ নেগেটিভ ব্যাবহার রয়েছে ইগোর খায়েশ মোতাবেক।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *