পিতমাতা ও সন্তানের ইগো

পিতমাতা ও সন্তানের ইগো

ছবির এই উক্তিটি একার্ট টুলে’র “A New Earth” বইটি থেকে উৎসরিত।

একার্ট টুলে “Be Here Now” বইটির লেখক রাম দাসের এই উক্তি দিয়ে বলেন যে, সন্তান যখন বড় হয়ে যায়, তখন আমাদের পিতামাতারা সন্তানদের উপর তখনও কর্তৃত্ব দেখানোর চেষ্টা করেন। তারা বুঝতেই চান না যে তার সন্তান এখন বড় হয়ে গেছে, তাদের নিজস্ব কিছু ইচ্ছা, চাওয়া-পাওয়া রয়েছে। কিন্তু তারা তাদের সন্তান বড় হয়ে যাবার পরও ভাবেন যে, তার সন্তান সেই আগের ছোটটিই রয়ে গেছে। এভেবে তারা সন্তান কী করবে না করবে এসব ঠিক করে দেন। এমনকী কী ক্যারিয়ার গ্রহণ করবে সেটাও। এটার আসলে কারণ কী?

এটার কারণ হল ইগো। ইগো আইডেনটিফিকেশন পছন্দ করে। সে চায় কোনকিছুকে আকড়ে আঁকড়ে ধরে রাখতে। তাই পিতামাতা যে সন্তানের ওপর কর্তৃত্ব করে তা সে সহজে ছাড়তে পারে না কেননা এতে তার তৈরী করা আইডেনটিটি লস হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সন্তান যদি তখন তার পিতামাতার বিরুদ্ধে কথা বলে তখন অবস্থা আরও খারাপ হয়। তাদের ইগো আরও পরিপুষ্ট হয়। তারা তাদের আইডেনটিটিকে বাঁচানোর তাগিদে আরও জোর প্রয়োগ করে।

এক্ষেত্রে সন্তান যদি পিতামাতার করা কাজটি ঠিক হয়নি বলে সে বুঝতে পারে এবং তাদেরকে জোর করে বোঝাতে যায় যে, তোমরা আমার সাথে যেটা করেছো সেটা ঠিক করোনি এবং নানারকম যুক্তিও দেখায় এতে আসলে বরং তারা তো বুঝবেই না, উল্টো রিয়েক্ট করবে।

আর সন্তান যদি এটা খেয়াল করে থাকে যে, যখন সে তাদেরকে না বোঝাতে পেরে অস্থির হয়ে যাচ্ছে, রাগে ফেটে পড়ছে; এটাও তার ইগো!! কারণ সে তার জ্ঞানকে বা যা বোঝাতে চাচ্ছে বারবার সে ওটার সাথে আইডেনটিফাইড। তাই পিতামাতার ওপর রাগ, ক্ষোভ, হতাশা এগুলো ইগোর বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে চলে আসছে। এখন তাহলে সন্তানের কী করা উচিত?

এক্ষেত্রে একার্ট টুলে বলেন যে যখন এরকম পিতামাতা কিছু বলে তুমি দেখার চেষ্টা করো তোমার মনে কী কী চিন্তা আসছে, কী কী ইমোশন আসছে যা তুমি অতীতে তোমার পিতামাতার জন্য ধরে রেখেছিলে। একারণে তুমি দেখতে পাবে যে তুমি যখন বড় হয়ে পিতা বা মাতার ভূমিকা পালন করবে তখন তুমিও যেন তোমার পিতামাতার মত আচরণ করা শুরু কর।

এজন্য যখন তারা কিছু বলে যেটা প্রকৃতপক্ষে দুঃখজনক তখন তোমার মনে আসা তাদের প্রতি ঘৃণা, ক্ষোভ, হতাশা, রাগ ইত্যাদি দেখো এবং যখন তুমি তা দেখা শুরু করবে তখন তুমি বর্তমানে এসে পড়বে। তোমার সে কথার প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানো কমে যাবে। একটা শান্তি কাজ করবে।

এতে করে তোমার এই প্রতিক্রিয়া না দেখানো তাদেরকেও ধীরে ধীরে শান্ত করে তুলবে ও তাদের সাথে সম্পর্কে জটিলতা কমে যাবে। আর তুমি যদি ঘনঘন তুমি তাদের সাথে তর্ক করতে থাকো তারা তাদের ইগোকে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে। ফলস্বরূপ অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে।

এবং তুমি যদি সে মুহূর্তের সময় সজাগ থাকো তাহলে এটা তোমার আত্মিক উন্নতিতে কাজে আসবে। তাই তোমার পিতামাতার আচরণ যত তোমার কাছে বিতৃষ্ণ লাগবে ততই বুঝবে তোমার আরও জাগরূক হতে হবে।

এজন্যই একার্ট টুলে ‘রাম দাস’-এর এ উক্তিটি দেন। তোমার আত্মিক উন্নতিতে তোমার পিতামাতার নেতিবাচক দিকও কাজে লাগতে পারে। তাই তোমার যদি মনে হয় তুমি খুব আলোকিত হয়ে গেছ, যাও নিজের পিতামাতার সাথে সময় কাটাও, এবং দেখো তুমি কতক্ষণ বর্তমান মুহুর্ত ও তোমার চিন্তাকে অবলোকন করতে পারো।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *