দ্য পাওয়ার অফ ভিশন

আমাদের জীবনে ভিশন থাকাটা খুবই জরুরী। আমরা আমাদের আশেপাশের মানুষের জীবনের দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, রুটিনমাফিক সেই একই জীবনের গন্ডীর মধ্যে তারা ঘুরপাক খাচ্ছে। এভাবে হয়তো আমরা জীবনে আরাম ও নিরাপত্তা খুঁজে পেতে পারি কিন্তু সে জীবন বড্ড জড় ও অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার জন্য আমাদের এমন ভিশন থাকা প্রয়োজন যা আমার থেকে কয়েকশ গুণ বড়। যার জন্য আমি আমার নিজের জীবনকেও বাজি রাখতে পারি। এরকম ভিশন আমাকে প্রতি মুহূর্তে প্রেরণা দিবে নতুন কিছু করার, নতুন সমস্যা সমাধান করার, নতুন কিছু চিন্তা করার। আমাদের এরকম ভিশন থাকা প্রয়োজন যা আমাদেরকে ও আমার আশেপাশের মানুষদেরকে হাসিখুশি রাখতে সহয়তা করবে।

এখন ব্যাপার হলো ভিশন দেখা ও তা বাস্তবায়ন এর মাঝে তফাৎ অনেক। আর ভিশন দেখাও সহজ কথা নয়। এরজন্য অনেক কাঠখোর পোড়াতে হয়। ভিশন জিনিস টা কী? ভিশন হলো এমন একটি প্রেরণা যা সবসময় একজন ব্যক্তিকে তাড়িত করে ও অনুপ্রাণিত করে এবং অন্যদের মাঝেও তা ছড়িয়ে দেয়। এভাবে একজন একক ব্যক্তির ভিশন দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে সকলে অনুপ্রাণিত হয় এবং একটা সমাজ বা আদর্শ গড়ে ওঠে।

এখন ভিশনের যে শক্তি তা ভালো ও খারাপ দুদিকেই প্রবাহিত হতে পারে। যেমনঃ হিটলার ছিলেন একজন ভিশনারি তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ছিল মারাত্মক কিন্তু তিনি তা ভুলখাতে প্রবাহিত করে মানবজাতির সর্বনাশ করে ছেড়েছিলেন। অন্যদিকে আব্রাহাম লিঙ্কন, মার্কিন লুথার কিং, জন এফ কেনেডি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এরাও ছিলেন ভিশনারী কিন্তু তারা মানবজাতির অগ্রসরমান ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে গেছেন।
ভিশনের মাঝে এক ধরনের গভীর আবেগ মেশানো থাকে যা আমাদেরকে কোন কিছু করার শক্তি দেয়। সকালে উঠে আসলে আমাদের আসলে কোনকিছু করতে মন চায় না কেন বা কেনই বা আমরা অলস হয়ে বসে থাকি? এর একমাত্র কারণ হল আমাদের জীবনে বড় কোন ভিশন নেই। আর থাকলেও তা অতটা শক্তিশালী নয় কিংবা এতই ছোট যে যার জন্য আমরা জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত নই। ভিশন মানে আরাম কেদারায় বসে হাওয়া খাওয়া নয় যে ভিশন দেখলাম তারপর সবশেষ,,, আমাকে আর কিছুই করতে হবে না!

এমনটি মোটেও নয়। ভিশন মানে প্রতিনিয়ত চড়াই উৎরাই পার হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। তবে আগে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোন শক্তি আপনার ছিল না। কিন্তু আপনার যদি শক্তিশালী ভিশন থাকে তা আপনার চড়াই উৎরাই পেরোনোর ক্ষেত্র গভীর প্রেরণা ও আবেগের যোগান দিবে। আমরা মানুষেরা আসলে যত বুদ্ধি খাটিয়েই কাজ করি না কেন দিনশেষে আমরা আবেগে ডুবতে চাই। আর এই গভীরতর আবেগ দেয় হল কোন কিছু সম্পর্কে ভিশন থাকার মাধ্যমে।

ব্রুস লি বলেন, “আমার সমস্যা কমানোর কোন প্রয়োজন নেই, বরং আমি সমস্যা মোকাবেলার জন্য শক্তি চাই।” আর এই শক্তিই হল ভিশন।
এখন ভিশন আমরা কীভাবে পাবো?
যদি ভেবে থাকেন এখন চিন্তা করতে বসব আর সাথে সাথেই ভিশন পেয়ে যাবো!!! এটা সম্পূর্ণ ভুল।ভিশন হলো একটা লম্বা প্রক্রিয়া। এর জন্য আপনার ৫-১০ বছরের খোঁজ ও চেষ্টা লেগে যেতে পারে। বলা যায় এটা একটা লং টার্ম প্রক্রিয়া। একেক জনের ভিশন একেকভাবে মানুষের কাছে। তবে আমরা শুরুতে এরজন্য কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে পারি। প্রক্রিয়াগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ

১. নিজের শক্তিশালী ও দূর্বল দিকগুলো খুঁজে বের করাঃ

এরজন্য রীতিমত আপনাকে খাতা কলম নিয়ে বসতে হবে কিংবা আপনাকে শান্ত হয়ে কোন একটি জায়গায় বসে ভাবতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে একাগ্র হয়ে চিন্তা করতে হবে আপনার শক্তিশালী দিক ও দূর্বল দিকগুলো সম্পর্কে। আর সেগুলো আলাদা করে ফেললেই আপনি পেয়ে যাবেন কোন আপনার শক্তিশালী দিকগুলো দিয়ে আপনি কী করতে পারবেন ও কতটুকু আপনার নিজের জীবনে ও অপরের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারবেন। আর দূর্বল দিকগুলোকে উন্নত করার চেষ্টাও করতে পারবেন।

যেমনঃ আপনি এভাবে চিন্তা করে পেলেন যে আপনার শক্তিশালী দিক হলো আপনি খুব ভালো গেম ডেভেলপ করতে পারেন। তাহলে এটা নিয়ে আপনি একটি লং টার্ম ভিশন দেখতে পারেন যা সমাজে ও আপনার ব্যক্তিগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে। আর এই নতুন ও সৃজনমূলক গেম ডেভেলপের প্রেরণা আপনাকে প্রতিমুহূর্তে তাড়িত করবে ও অনুপ্রেরণা দিবে যা কোন বাইরে থেকে নয় আসবে ভেতর থেকে। আর এটাই হলো ভিশনের শক্তি যার জন্য বাইরে থেকে মোটিভেশনের প্রয়োজন পড়ে না, বরং ভেতর থেকেই তা আসে।

২. কেন আপনি কাজটি করবেন? এই বিষয় নিজের কাছে পরিষ্কার হওয়াঃ

ভিশন তৈরীর পূর্বে যে বিষয়টা নিজের কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন তা হল কেন আমি এই কাজটাই করবো। এই কেন যার কাছে যত স্পষ্ট সে ততই ভিশনের শক্তি নিয়ে সামনের দিকে ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে যেতে পারে। উদাহারণস্বরূপ বলা যায় মাদার তেরেসার কথা সে তার সারাটি জীবন অসুস্থ মানুষদের সেবা করার মহৎ প্রেরণা নিয়ে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার কাছে তার ভিশনের কেন বিষয়টা স্পষ্ট ছিল। সে তার জীবনের সমস্ত অর্থ সেই কুষ্ঠরোগীদের সেবা করার মাঝে খুঁজে পেয়েছিলো যা তাঁকে পরবর্তীতে ইতিহাসে অবিস্মরণীয় করে রাখে। তাই এই কেন বিষয়টা স্পষ্ট হওয়া জরুরী। নিজেকে কতগুলো প্রশ্ন করা জরুরী এ সাপেক্ষে। যেমনঃ

. কেন আমি এই কাজ করবো?
. এই কাজ দিয়ে আমি কী উদ্দেশ্য সাধন করতে চাচ্ছি?
. এই কাজের জন্য আমি কী কী ত্যাগ করতে রাজি আছি?
. এই কাজের বাঁধাগুলোকে আমি গ্রহণ করে এগোতে রাজি আছি কীনা?
. এটি কী আমি নিতান্তই টাকা-পয়সা কামানোর জন্য করতে চাই নাকী এটা তার থেকেও বড় কিছু?

এই কেন-এর জবাব হয়তো হুট করে মিলবে না তবে এরজন্য যত সময় প্রয়োজন নিন ঠান্ডা মাথায় ভাবুন। কেননা বড় পথ চলতে হলে প্ল্যান আগে থেকে গুছিয়ে রাখাই উত্তম।

৩. আরামের জীবন নাকী থ্রিলিং জীবনঃ

ভিশন আপনাকে কোন আরাম কিংবা নিরাপত্তামূলক কোন জীবন দিবে না। কিন্তু এটি আপনাকে যথেষ্ট থ্রিল প্রদান করবে। এখন আপনিই নির্বাচন করুন আপনি আরামের জীবন চান নাকী থ্রিল চান? যদি থ্রিল চান তাহলে আরামের কথা ভুলে যেতে হবে এবং এরপর আপনি সত্যিকার উদ্যমে ভরা জীবন খুঁজে পেতে সমর্থ হবেন। তাই নিজের কমফোর্ট জোনকে চিহ্নত করে ওই জায়গাতে আপনার ভিশন অনুযায়ী যে কাজগুলো আপনি করবেন তা নির্ধারণ করুন।

৪. ভিশন পাওয়ার আগে তা অনুসন্ধান করতে থাকুনঃ

ভিশন পাওয়া যে সহজ নয় তা আগেই বলেছি৷ এরজন্য আপনার নিজের কাছে প্রশ্ন ও কেন এই বিষয়গুলো স্পষ্ট হবার আগে অনেক কিছু হয়তো করা প্রয়োজন হতে পারে। আর এ বিভিন্ন ধরনের কাজগুলো করতে করতে হয়তো আপনি তখন আপনার শক্তিশালী ও দূর্বল দিকগুলো ও কেন কাজটি করবেন এবং নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে থ্রিলিং জীবন বেছে নেবেন তার একটা রাস্তা তৈরী করে দিবে।

একজন ব্যক্তির একটি স্পষ্ট ভিশন তাকে ভিশনারী করে তোলে ও তার ভিশনের আলো নিয়ে একটি সমাজ আলোকিত হয় ও মুক্তির পথ দেখে। তাই আমরা যদি চাই এরকম একটা থ্রিলিং জীবন যাপন করতে তাহলে আমাদের ভিশন অনুসন্ধান ও তা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী নিজের জীবনে তা প্রতিফলন করা প্রয়োজন।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *