দ্যা আর্ট অব সিডাকশন সিরিজ – ভূমিকা

হাজার হাজার বছর আগে মানুষ পাওয়ার বা শক্তি অর্জন করতো বেশীরভাগই শারীরিক শক্তি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে৷ তখনকার রাজা কিংবা শাসকদের কোন সূক্ষ্ম কুটনৈতিক চাল প্রয়োগের কোন দরকার ছিলো না। তাদের কাছে যেটা প্রয়োজন ছিলো সেটা হলো বর্বরোচিত আক্রমণ। এই প্রকারের শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা কেবল গুটিকয়েক মানুষের হাতেই থাকতো। আর এইসব শক্তির আসনে আসীন ব্যক্তিরা অন্যসবাইকে তাদের শক্তি দ্বারা শাসন করতো ও ইচ্ছেমতো ব্যাবহার করতো।

তবে এই যে অত্যাচার কিংবা আক্রমণাত্মক ব্যাবহার এসবের শিকার একজন পুরুষের থেকে নারীদের বেশী ভোগাতো। কেননা শারীরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নারীদের বলপ্রয়োগ করার তেমন সুবিধাজনক অবস্থা ছিলো না। তাদের কাছে তেমন অস্ত্রও ছিলো না যা দিয়ে তারা কোন পুরুষ মানুষের ওপর জোর খাটাতে পারবে। যার কারণে তারা রাজনৈতিক, সামাজিকভাবে এমনকী নিজগৃহেও তাদের তেমন কোন দাবীদাওয়া বা ক্ষমতা খাটাতে পারতো না।

এতকিছুর পরেও কিন্তু নারীদের কাছে একটা জিনিস ছিলো যার প্রতি ছিলো পুরুষদের দূর্বলতা। আর সেটা হলো জৈবিক বাসনার তীব্র আকাঙ্খা। এবং তখনকার সময়ে নারীরা এই একটি বিষয় দিয়েই পুরুষদেরকে নিজের অধিকারে রাখতে পারতো ও ইচ্ছেমতো নাচাতে পারতো। তবে এ জায়গায় সমস্যাটা হলো পুরুষ যখন তার কামনা পরিপূর্ণ করে ফেলতো তখন সে নারীর প্রতি থাকা যে বাসনা মোহ তা থেকে আবার নিজের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসতো। এভাবেই ক্ষণস্থায়ী অথচ শক্তিশালী জৈবিক বাসনার উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে তাদের জীবন কাটতো।

আমরা যদি বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবি তাহলে দেখতে পাবো যে, ঐ সময় সবাইকে নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হতো। আর লড়াইয়ে শারীরিক শক্তি প্রাধান্য পাওয়ায় নিজের ও গোত্রের জীবন রক্ষার জন্য পুরুষের শারীরিক শক্তির প্রাধান্যটা বেশী থাকায় নারীরা শক্তির খেলায় একটু পিছিয়ে ছিলো।

এ কারণেই আমরা এখনকার বর্তমান দৃষ্টিকোণ থেকে তাকাকে দেখতে পাবো যে, ইতিহাসের ক্রমধারা অনুসারে নারীদেরকে একপ্রকার ভোগ্যবস্তু ও দাসী হিসেবে দেখার একটা প্রবণতা ছিলো। এবং এ সবটাই ছিলো বেঁচে থাকার একটা প্রক্রিয়া ও নিজেদের মাঝে আন্তঃগোত্রীয় রাজনীতি। যেহেতু রাজনীতি একটি বৃহৎ পাওয়ারের খেলা, শক্তি অর্জনের খেলা; তাই পুরুষ তার বাহুবলে নারীদের থেকে এগিয়ে ছিলো।

তাহলে নারীরা কী দূর্বল হয়ে বসেছিলো?

না, একেবারেই নয়। তাদের কাছেও ছিলো এক প্রবল শক্তি যা দ্বারা তারা পুরুষদেরকে কাবু রাখতে পারতো। কিন্তু এ যৌন আকর্ষণ ক্ষণস্থায়ী হবার দরুণ একটা সমস্যার তৈরী ও সেটার কার্যকারীতা তেমন একটা দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ায় নারীদেরকে বাধ্য হয়ে পুরুষদের এহেন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কিংবা বলা যায় মানিয়ে নেবার জন্য এর উপরই নির্ভর করতে হতো।

এতকিছুর পরও নারীদের মধ্য থেকে এমন কয়েকজন ছিলেন যারা খুব উচ্চাকাঙ্খা পোষণ করতেন ও শক্তি অর্জনের প্রতি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর সেসব নারীরাই তাদের চালাকী, সৃজনশীল ও বৈচিত্র্যপূর্ণ পদ্ধতি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তাদের এই মোহনীয় যৌনাকর্ষণকে আরও এক কাঠি উপরে নিয়ে গিয়ে এটাকে আরও ডায়নামিক ও দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পেরেছিলেন।

এসব নারীদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন – রানী বাথসেবা, ট্রয় নগরীর হেলেন, চৈনিক রূপবতী সী শী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সৌন্দর্যের প্রতীমা যাকে নিয়ে আধুনিক কালে লেখা হয়েছে অনেক কবিতা, গান, রূপকথা রাণী ক্লিওপেট্রা। এছাড়াও মহাভারতের দ্রৌপদীর কথাও স্মরণ করা যেতে পারে যে ছিলো সেসময়ে থাকা সবচেয়ে আকর্ষণীয় নারীদের মধ্যে একজন। যার কারণেই লেগে গিয়েছিলো মহাভারত যুদ্ধ। তাছাড়াও ট্রয় নগরী ধ্বংসের কেন্দ্রবিন্দু হেলেন কিন্তু আজও আমাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

এইসব নারীদের কাছ থেকেই জন্ম নিয়েছে সিডাকশন যার মানে হলো “To Lead Astray” তথা “ধ্বংসের মুখে নিয়ে নিয়ে যাওয়া”

এসব ব্যাপারগুলো আপনি বুঝতে পারবেন যদি আপনি ” Game Of Thrones” সিরিজটি দেখে থাকেন। সেখানেও আপনি দেখবেন এসব সিডাকশনের নমুনা ও নারীরা কীভাবে পুরুষদেরকে সিডিউস করে পাওয়ার হাসিল করার জন্য অগ্রসর হয়। যদিও কাহিনী কাল্পনিক তারপরও কিছু কিছু ব্যাপার রয়েছে যা অতীত ইতিহাসের সাথে মিলিয়ে দেখার মত। বিশেষ করে সাইকোলজিক্যাল ব্যাপারগুলো। এর পাশাপাশি আপনিও এটাও লক্ষ্য করতে পারবেন যে, কিছু কিছু নারী সিরিজটিতেও ছিলো যারা কীনা উপরে উল্লেখিত নারীদের মত তাদের মোহনীয় ও কূটবুদ্ধিসম্পন্ন এবং সৃজনশীল ক্ষমতা দ্বারা শক্তির চূড়ার দিকে ধাবিত হতে পেরেছিল।

তাহলে এদের মাঝে কী এমন ছিলো যা দিয়ে পুরো রাজ্যকে তারা চোখের ইশারায় নাচিয়েছে ও তাদের জন্য বেঁধে গিয়েছিল রাজ্যে রাজ্যে যুদ্ধ। এসবকিছুই আমরা ধীরে ধীরে জানবো রবার্ট গ্রীনের “The Art Of Seduction” বইটির ধারাবাহিক সিরিজমূলক আর্টিকেলগুলোর মাধ্যমে। কেবল তাই নয় এ বইয়ের ভেতর থেকে সিডাকশন বা আকর্ষণের ব্যাপারে যত ইনসাইট ও সাইকোলজিক্যাল ব্যাপার পেয়েছি তা ক্রমান্বয়ে আমি এই আর্টিকেলে শেয়ার করতে থাকবো। তাই এই সূচনামূলক আর্টিকেলে সবাইকে স্বাগতম। আশা করি অন্য একটি জগৎ ও দৃষ্টিভঙ্গির সাথে আপনাদেরকে আমি পরিচয় করিয়ে দিতে পারবো

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *