দর্শন দিয়ে কী হয় – ব্যাক্তি উন্নয়নে দর্শনের ভূমিকা

দর্শন দিয়ে আসলে কী হয় বা দর্শনের কী ভূমিকা? এর উত্তরে বলা যায়, অনেক কিছু হয়, আবার অনেক কিছু হয়না। এ জীবনে চলার পথে দর্শন একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ টুলস। এটা আপনার মনকে একটা ক্রমাগত অনুশীলনের মাঝে রাখে। একটা যন্ত্রাংশ যখন ব্যাবহার করা হয়না তখন তাতে জং ধরে যায়। তাই এটিকে দিয়ে কাজ করিয়ে একে সচল রাখতে হয়। দর্শনও এমন একটি টুলস যা দিয়ে মানুষের মস্তিষ্কের অভ্যাসজনিত একই প্যাটার্নকে চিন্তার স্ট্রিমরোলার চালিয়ে ঝালাই করে নেওয়া যায়।

আমাদের এ জীবন হলো দ্বৈততার সচল বৈচিত্র্যপূর্ণ খেলা। এর কোন একপাশে আপনি হেলে পড়লে আপনি আটকে যাবেন। এই আটকে যাওয়ার মাঝে গ্রিজ প্রদান করে দর্শন। একেকজন ব্যক্তি তার দিক থেকে জীবনকে যেভাবে দেখেছে বুঝেছে তা ব্যক্ত করে তার দর্শনকে প্রকাশ করে৷ প্রতিটি মানুষ যেমন বৈচিত্র্যময় তাই তাদের দর্শনগুলোও বৈচিত্র্যময়। এ নানারকম বৈচিত্র্যের মাঝে হাজার মতের অমিল থাকলেও আমরা যাতে সেগুলোকে প্রকাশ করে একটা সাবলীল ধারায় এ দ্বৈততার মাঝ অনুসন্ধানের নৌকা বয়ে চলতে পারি তার কাজ করে এ দর্শন।

এ জীবনে এসে আমরা অনেক কিছুই গ্রহণ করি বা আমাদের মাথায় প্রবেশ করে। এটাকে মেনে না নিয়ে বরং প্রশ্ন দিয়ে যে বিপ্লব সাধিত হয় তা করে এই দর্শন। ব্যক্তি জীবনে প্রশ্নের ব্যাপক গুরুত্ব আছে। যে ব্যক্তি প্রশ্ন ছাড়াই সবকিছুকে বিশ্বাস করে বসে থাকে সেটাই হলো জং ধরা মস্তিষ্ক। কেননা সে চায় আরাম। আর এই আরাম প্রবণতা হলো একধরনের ইগো। এতে মানুষ একজায়গায় বসে যায়। কিন্তু জীবন অনন্তকাল বসে থাকার কোন ছাউনি নয়। এখানে চলতে হবে। বসলেই, সেই বসে থাকা পাক থেকে দুর্গন্ধ বেরোবে। তাই নদীকে বহমান করতে হয় অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন দিয়ে। নাহলে অনন্ত সাগরে নদী বিসর্জিত হতে পারেনা। দর্শন হলো এই নদী, ক্রমাগত নিজেকে চ্যালেন্ঞ্জের মুখোমুখি করার টুলস।

তবে সকল টুলসেরই সীমা রয়েছে। দর্শনেরও সীমা রয়েছে। কিন্তু তার এ সীমা মর্যাদার। জীবনের বড় বড় সব প্রশ্নের উত্তরের অনুসন্ধানে আপনাকে দর্শন ক্লান্ত করে ফেলে এবং এটাই দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে আমি মনে করি। এই ক্লান্ত হতে না পারলে, মস্তিষ্কের অজানা প্রশ্ন অনুসন্ধানের দ্বারা এর ঘাত-প্রতিঘাতে ক্ষতবিক্ষত না হতে পারলে জীবন হয়ে ওঠাও যায়না। ব্যাপারটা এমন যে –

“বিনাযুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদীনী।”

এই যুদ্ধটা চালিয়ে রাখাটাই দর্শনের উদ্দেশ্য। এটা ব্যক্তিকে শানিত করে তার চরম উদ্দেশ্যের দিকে যাত্রা করার জন্য।

আমাদের মনটা এমন যে, যত ভালো কিছুই আমাদের সামনে উপস্থিত করা হোক না একটা কৌতূহল আমাদের শুরু থেকেই রয়েছে আমাদের। এই কৌতূহল থেকে প্রশ্ন, প্রশ্ন দিয়ে অনুসন্ধান এটার স্বাধীনতা না থাকলে আমরা সমাজে থেকে আমরা যা মেনে নিতেই বাধ্য হইনা কেন, একটা জানতে চািয়ার স্বভাব আমাদের থেকেই যায়। এই পিপাসা মেটানোর রাস্তা খুলে দিয়ে দর্শন ব্যক্তিকে মুক্ত করে ও নিজের মত করে অনুসন্ধান করে তার মত সত্য খোঁজার সুযোগ করে দেয়।

এজন্যই নানা দার্শনিকদের নানান ধরনের মত দেখতে পাওয়া যায়। এখন কারটা একেবারে সঠিক, বলার উপায় নেই। আর নেই দেখেই এটা ব্যক্তিকে মস্তিষ্ক কর্ষণে বাধ্য করে। এর কর্ষণে সে নিজের মত করে চিন্তাভাবনা করতে শেখে। নিজের মত করে চিন্তাভাবনা করতে শিখলে তার অনুসন্ধানেও নিজস্বতা থাকে। এই নিজস্বতাই তাকে তার বৃহৎ প্রশ্নের কাছে নিয়ে গিয়ে দাড় করায়। সেখানে হয় সে এখন তার দর্শন নির্মাণ করবে না হয় জীবন্ত দর্শনই হয়ে উঠবে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *