দর্শনের প্রতি আগ্রহ জাগাবে এমন ৫টি বই

দর্শনের প্রতি আগ্রহ জাগাবে এমন ৫টি বই

দর্শন এমন একটি বিষয় যে বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানতে গেলে বা বুঝতে গেলে আমাদের মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। অনেকেই হয়তো বুঝিই না এই জিনিস টা কী বা আসলে এর ভেতর কী আছে। সবকিছু মিলিয়ে এই বিষয়টিকে খুব জটিল লাগে আমাদের কাছে। কেননা বেশিরভাগ মানুষ খুব সাধারনভাবে চিন্তা করে অর্থাৎ বলা যায় গভীরভাবে চিন্তাটা তাদের করা হয়ে ওঠেনা।

তবে এই দর্শনের জগতে ঢুকতে গেলে আপনি এমন এমন সব বিষয়ের সম্মুখীন হবেন যা আপনার চিন্তাধারাকে সম্পূর্ন পাল্টে দিবে। আপনাকে জীবন সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবাতে শিখাবে। তাই দর্শন সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের দর্শন পরীক্ষার জন্য যে একাডেমিক বইগুলো আছে তা বড্ড একঘেঁয়ে, গুরুগম্ভীর ও পানসে লাগে। আসলে একাডেমিক বইগুলো এমনই হয়।

কিন্তু আজ আমি এমন ৫ টি দর্শন সম্পর্কিত বইয়ের নাম বলবো যা দিয়ে আপনারা অনায়াসে এ দর্শনের রাজ্যে একটি ডুব দিয়ে আসতে পারবেন এবং এসব বইগুলোতে অত্যন্ত সুন্দরভাবে দর্শনের বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে। নিচে এমন ৫ টি বইয়ের নাম দেওয়া হলো যা আপনার দর্শনজ্ঞান কে করবে আরও বিকশিত কোন ধরনের বিরক্তি ছাড়াই। চাইলে এই আর্টিকেলটির ভিডিওটি ইউটিউব থেকে দেখে আসতে পারেন এই লিঙ্ক এ ক্লিক করে।

১. সক্রেটিসের জবানবন্দী – কার্ল পপার লিখেছেন, ” যাকে তার স্বীয় অ্যাথেনীয় ৫০০ জন জুরি সদস্য মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেছিল তাঁকে আমি ভালোবেসেছিলাম, প্রশংসায় ভূষিত করেছিলাম। তাঁর সাফাই বক্তৃতা যা প্লেটো সক্রেটিসের জবানবন্দী নামে প্রকাশ করেছিল। সক্রেটিস তাঁর জবানবন্দীতে মানুষের এবং নিজের অজ্ঞানতা সম্পর্কে যে বিনয় প্রকাশ করেছেন তা অবশ্যই অনুকরণীয়। নৈতিক জীবনই যে শ্রেষ্ঠ জীবন তিনি এটাই বলে গেছেন তাঁর সারাটি জীবন ধরে। সক্রেটিস দর্শনকে তাঁর প্রথাগত জীবনের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভেবেছিলেন। অপরীক্ষিত জীবনযাপন কে তিনি মেনে নিতে পারেন নি। আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে তিনি হেমলকের বিষাক্ত পেয়ালা তুলে নিতেও কুন্ঠিতবোধ করেন নি। তার এ বিষপানের আগের মুহূর্তে তিনি এথেন্সবাসীদের উদ্দেশ্যে যা বলে গিয়েছেন তাই হল সক্রেটিসের জবানবন্দী। আর এরাই অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর শ্রেষ্ঠ জবাব।

২. সোফির জগৎ – ইয়েস্তার গোর্ডার কর্তৃক লিখিত এ উপন্যাসটির অনুবাদ করেছেন জি এইচ হাবিব। এ বইটিতে রয়েছে পাশ্চাত্য দর্শনের প্রাক-সক্রেটিস যুগ থেকে সার্ত্রে পর্যন্ত দার্শনিকদের এক অনন্য অভিযাত্রা।

সোফি অ্যামুন্ডসন নামক এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরী একদিন ডাকবাক্স খুলে দুটি চিঠি দেখতে পায়। চিঠি দুটিতে লেখা ছিল ‘তুমি কে’ ‘এ পৃথিবী কোথা থেকে এলো’ এ দুটি প্রশ্ন। আর এ দুটি প্রশ্ন থেকে সোফি বেরিয়ে পড়ে দার্শনিক প্রশ্নের জবাবের এক অনন্য অভিযাত্রায়। অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় দর্শন সম্পর্কিত জটিল বিষয় লেখক গল্পের আকারে প্রকাশ করেছেন যার জন্য এই বই লক্ষাধিক কপি বিক্রি হয়েছে। আর এর অনুবাদটিও দারুণ। পড়তে চাইলে আপনারা বাতিঘর থেকে সংগ্রহ করতে পারেন।

৩. স্টোরি অব ফিলোসফি – এ বইটির লেখক হলেন উইলিয়াম ডুরান্ট। এই বইটিতে তিনি পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাস অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তিনি ব্যক্ত করেছেন। বইটির দুটি সংস্করণ রয়েছে যার মধ্যে প্রথম সংস্করণটিতে তিনি পাশ্চাত্য দর্শনের ইতিহাস এ প্রখ্যাত দার্শনিকদের নিয়ে আলোচনা করেছেন। যাদের মধ্যে ছিলেন বেকন, স্পিনোজা, কান্ট, লক, হেগেল এবং আরও অনেকে। আর দ্বিতীয় সংস্করণে তিনি সমালোচনা করেছেন কীভাবে পাশ্চাত্য দর্শনে ভারতীয় কোন দার্শনিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি বিশেষ করে চার্বাক, বৌদ্ধ এবং আদি শংকর দর্শন।

৪. অন দ্যা শর্টনেস অব লাইফ(সেনেকা) – আমাদের জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত। মাত্র ৫০-৬০ বছরের কিংবা তারও কম। কিন্তু আমাদের আচার আচরণ এমন যেন আমরা এ জগতে অমর, আমাদের কখনো মৃত্যু হবে না। কিন্তু যখন থেকে আমরা জন্মেছি তখন থেকেই মৃত্যু প্রতি মুহূর্তে আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। অথচ আমরা কেউ উপলব্ধি করছি না। এ দুনিয়ায় আমাদের আসল সম্পদ কী জানেন?

সময়, হ্যা, সময়। প্রতি মুহূর্তেই সময় আমাদের পাশ কেটে বেরিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা তা নষ্ট হতে দিচ্ছি। আমরা আমাদের প্রকৃত এ সম্পদ সময়কে উদারভাবে বিলিয়ে দিয়ে, বস্তুগত বিষয়গুলোকে কৃপণভাবে আগলে রেখে বসে আছি।

আমরা আমাদের সময়কে অকাতরে বলিয়ে দিচ্ছি যেন তা চিরকাল থাকবে কিন্তু তা আসলে নয় এটি থাকবে না,,,, এভাবে এ বইটি আপনাকে ভাবাবে; শেখাবে সময়ের সাপেক্ষে আপনার জীবন অতি ক্ষুদ্র, কত দ্রুত তা চলে যায়। তাই এ মহামূল্যবান সম্পদকে কাজে লাগানোর তাগিদ দিবে এ বইটি আপনাকে। জীবন সম্পর্কে নতুন একটি ভাবনার সন্ঞ্চার করতে এই বইটি। তাই নিরদ্বিধায় কিনে পড়ে ফেলতে পারেন এই বইটি।

৫. আরজ আলী মাতুব্বর – যে ব্যক্তি ৭০ বছর পর্যন্ত পাঠাগারে পড়াশোনা করে কাটিয়েছেন। যার নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী, তবুও তাকে সম্মানের সহিত বলা হয় আমাদের বাংলার সক্রেটিস নামে। তিনি আর কেউ নন আরজ আলী মাতুব্বর। অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লড়ে গেছেন। পড়েছেন প্রচুর বই। তিনি পড়তেন প্রচুর, ভাবতেন তার থেকেও বেশী এবং কথা বলতেন এবং লিখতেনও কম। তাই তাঁর খুব বেশী বই বের হয়নি। সম্প্রতি আরজ আলী মাতুব্বর সমগ্র নামে ৪ টি খন্ডে বই প্রকাশ হয়েছে। এটি পাঠক সমাবেশ থেকে আপনারা সংগ্রহ করতে পারবেন। সর্বোপরি স্রষ্টা, সৃষ্টি ও আমাদের জীবনের অনেক দার্শনিক প্রশ্নের চিন্তা জানা যাবে এই বইটি থেকে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *