তাও তে চিং (বুকরিভিউ)

যে তাও করে না হাউকাউ,
উহাই তাও,
হলো না তো বাছা-তুমি বরং যাও

-লাওৎসু দাদুর দাড়ি ধরে ঝুলে পড়ার সময় লেখা কটি লাইন…😋😋😋

প্রায় ২৫০০ বছর আগে লেখা ছোটখাট এ বই তাও তে চিং। এ বই না হলে হয়তো জেন পাওয়া যেতো না। কেননা Taosim আর Buddhism এর অপূর্ব সম্মিলনে সৃষ্টি হল তরুণ শিশু জেন।

যাই হোক, ইংরেজীতে এটি পড়ার পর সরকার আমিন কর্তৃক বাংলায় অনুবাদ করা তাও তে চিংটাও পড়লাম। মনে হল আবার আমি নতুন করেই পড়ছি। আসলে এটা এমন বই প্রতিবার পড়ায় যেন নতুন হয়ে ধরা দেয়। অনুবাদটাও বেশ সহজ ও সাবলীল লেগেছে। মোট ৮১টি স্তবক রয়েছে এই ছোট্ট বইটাতে। পড়তে পড়তে কয়েকটি স্তবক খুব ভালো লেগে যায় সেগুলোই নিচে তুলে ধরছি –

৫৪.

হৃদয়ে যদি রোপণ করো তাও
কার সাধ্য তোমাকে উপড়ে ফেলে?
যদি আঁকড়ে ধরো তাও
নিশ্চিত জেনো পিছলে পড়বে না তুমি।
তার নাম জীবন্ত রবে জন্ম থেকে জন্মান্তরে।

তাওকে সদা হাজির রেখো জীবনে
তোমার জীবন হবে প্রকৃত জীবন
তাওকে সদা হাজির রেখো পরিবারে
তোমার পরিবার হবে উজ্জ্বলতর
তাওকে সদা হাজির রেখো রাষ্ট্রে
তবে তোমার রাষ্ট্র পৃথিবীতে হবে দৃষ্টান্ত
তাওকে যদি ব্রক্ষান্ডে রাখো উপস্থিত
তবে ব্রক্ষান্ড হবে গুন্ঞ্জরিত

কেমন করে জানলাম আমি এ সত্য?
যখন তাকালাম নিজের ভেতর আমি তা জানলাম।

৫৭

হতে যদি চাও মহান নেতা
তাওকে অনুসরণ করা শিখতে হবে তোমাকে।
ছেড়ে দাও নিয়ন্ত্রণ করার অভ্যাস
পরিত্যাগ কর পরিকল্পনা, দর্শন আর ভাবনা
পৃথিবী শাসিত হবে আপনা থেকেই।

যত বেশি বেশি নিষেধ করবে
মানুষ ততই হারাবে সততা
যত বেশি বানাবে অস্ত্র
মানুষ তত বেশি হারাবে নিরাপত্তা
যতই পাবে ছাড়
ততই হারাবে নিজের প্রতি নির্ভরতা।

গুরু বলেন আমি ছেড়ে দিই বিধির পথ
মানুষ হয় সৎ
ছেড়ে দিই অর্থনীতির পথ
মানুষ উন্নতি করে
ছেড়ে দিই ধর্মের পথ
মানুষ হয় প্রশান্ত
ছেড়ে দিই সর্বোচ্চ ভালোর আশা
শুভ হয় সার্বজনীন সকলের জন্য।

৬০.

একটি বড় দেশ শাসন কর
একটি ছোটো মাছ ভাজার মতো দক্ষতায়
বেশি তাপ দিলে পুড়ে ছাই হয়ে যায় মাছ।

তাওকে স্থাপন কর দেশের কেন্দ্রে
তবে শয়তান পাবে না সুযোগ
শয়তানি হয়তো থেকে যাবেই
তবে বাঁচাতে পারবে নিজেকে তুমি।

সহসা বন্ধ করতে যেও না শয়তানি
সে একদা আপনাতেই নিঃশেষ হয়ে যাবে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *