গাঁজা – গরীবের সাইকেডেলিক

গাঁজা – গরীবের সাইকেডেলিক

গাঁজা… নামটা শুনলেই আমাদের মনে কেমন যেন ঝড় খেলে যায়, কারো মনে চলে আসে সুখ, কেউ বাজায় সুররিয়ালিস্টিক সুর কিংবা একলা ঘরে বসে ধুম্রজালে বুদ হয়ে নিজের মস্তিষ্ককে রিসাইকেল করা। গাঁজা দিয়ে অনেকে পাহাড়তলী চলে যান, অনেকে পুরো পাহাড়তলীকেই কাছে নিয়ে আসেন। একেক জনের একেকরকম অনুভূতি হয়। কেননা গাঁজা আপনার কনশাসনেসকে নিয়ে খেলে, আপনার শরীরের ক্যানাবিস রিসেপ্টরকে নিয়ে নাড়াচাড়া করে।

গাঁজার অভিজ্ঞতা একেক জনের একেক রকম হলেও একটা দিক দিয়ে সবারই সমস্যা হল এই গাঁজার নামটা শোনার পর অনেক মাঝেই বা বলা যায় একটা নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ ঘ্রাণ উঠে আসে। আর জানেনই তো নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণ বরাবরই ছিলো। গাঁজার নিষিদ্ধতার জন্যই গাঁজা নিয়ে এতসন ফ্যান্টাসী, জল্পনা, কল্পনা। এবং এরজন্য মানুষেরা যে একটু সুখে গাঁজা টানবে সে উপায়ও নেই কেননা সমাজে সিগারেট, মদ এসব নিম্নস্তরের জিনিসের বিজ্ঞাপন চললেও ও সেসব বিজ্ঞাপনে ক্ষতিকর লেখা টানিয়ে নিচে নিচে এর কারবার চললেও গাঁজা’র চর্চা করা যাবেনা।

এতে ক্ষতিটা হয়েছে কী?

ক্ষতি হয়েছে এই গাঁজা সেবনের সঠিক ব্যাবহার ও এর সম্পর্কে রিসার্চ ছাড়াই লুকিয়ে লুকিয়ে গাঁজা টানতে হচ্ছে ও সেইসাথে কোকেন, আফিম, মদ, এসবকে গাঁজার মাসতুতো ভাই বলে এরও চর্চা চলছে। অথচ এসব কোকেন, মদ, সিগারেট এসব গাঁজা থেকেও ক্ষতিকর। কেননা এসব প্রচুর পরিমাণে এডিকটিভ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অন্যদিক দিয়ে গাঁজা মদ, সিগারেট থেকে ভালো যদি তা সঠিকভাবে নিজের ব্যাক্তিত্ব বুঝে টানা যায়। অনেক রিসার্চে দেখা গিয়েছে যে, গাঁজা ডিপ্রেশনসহ অনেক ধরনের মানসিক রোগসহ ক্যান্সার পর্যন্ত ভালো করে। আমাদের এ সমাজে যে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাকেই কিছুটা লঘু করে এই গাঁজা।

গাঁজার এই গুণকীর্তন শুনতে অনেকেরই হয়ত ভালো লাগছে। মনে চেপে কৌতূহলের যেন একটু সুরাহা হলো। একটা মোরালিটির অবগুণ্ঠন থেকে যেন একটু হালকা হওয়া গেল। তাহলে এর পরের কথাগুলোও পড়ুন।

গাঁজা নিয়ে অনেক পজিটিভ রেজাল্ট আসলেও এবং এর সাথে একটা সুররিয়েলিস্টিক ব্যাপার থাকলেও এটি এডিকটিভিটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত নয়। অর্থাৎ এটাতে সিগারেট, মদের মত ওত এডিকটিভ না হলেও কিছু এডিকটিভিটি রয়েছে। তাই এটাকে নিজের সমস্যা অনুযায়ী সঠিক ডোজে নিতে হয় নাহলে এটারও এডিকটিভ প্যাঁচে পড়ে গিয়ে ক্ষতি হবার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এরকম যেকোন ধরনের সাবটেন্স নেবার বেলায় এসব ব্যাপারে জানার প্রয়োজন রয়েছে। তাই একটা পরিসংখ্যান অনুযায়ী গাজার কিছু উপকারীতা থাকলেও এটা সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত নয় তথা এডিকটিভলেস নয়। তবে আপনি যদি এ ব্যাপারে সচেতন থাকেন এটাকে সঠিক প্রয়োগ করে এর থেকে ফায়দা উঠাতে পারেন। কিন্তু সবাই তো আর তা নয়!!

তাহলে এডিকশন ছাড়া কী কোন সাবটেন্স নেই?

সুখের কথা আছে কিন্তু দুঃখের কথা এটা এ দেশে বেশ অপ্রতুল। হবারই কথা যে দেশে গাঁজা ইজ নট এলাউড বাট স্মোকিং ইজ এলাউড সে দেশে এগুলো অপ্রতুল থাকবে নাতো কী এন্টারকটিকে থাকবে!

তো গাঁজাতে কিছু হালকা সাইকেডেলিকাল ব্যাপার স্যাপার থাকলেও এটা সাধারণভাবে অতি নিম্নস্তরের। এর চেয়ে উঁচুস্তরের গেলে আপনি পরিচিত হবেন আসল নন-এডিকটিভ সাবটেন্সগুলোর সাথে যেগুলো গ্রহণ করলে আপনি চাইলেও জোর করে এডিকটেড হতে পারবেন না। এসব দ্রব্যগুলোর মধ্যে এলএসডি, সিলোসাইবিন তথা ম্যাজিক মাশরুম, মেসকালাইন, আয়াহুয়াস্কা, ডিএমটিসহ আরও অনেক রয়েছে যেগুলোর বিপদজনকতার লেভেল খুবই নিম্ন নেই বললেই চলে। আর যতটুকু বিপদ আছে সেগুলো হলো এগুলো গ্রহণের সেটআপ জনিত ত্রুটি ও এগুলোর ব্যাপারে না জানা সম্পর্কিত অজ্ঞতা। একটা পরিসংখ্যান মতে দেখানো হয়েছে যে, মদ, সিগারেট, কোকেন এসবে ঝুঁকির হার রয়েছে সবথেকে উঁচুতে, গাঁজা রয়েছে মাঝামাঝি ও একেবারে নিচুতে রয়েছে এলএসডি, ম্যাজিক মাশরুম, মেসকেলাইন এগুলো।
এজন্য গাঁজার কিছু কার্যকারিতা থাকলে এটি মূলত সাইকেডেলিক নয় কেননা এটি এডিকটিভিটি মুক্ত নয় তবে ক্ষেত্রভেদে উপকারিতা থাকার জন্য একে নিম্নস্তরের সাইকেডেলিক তথা গরীবের সাইকেডেলিক বলা যায়।

গুগল থেকে নেওয়া পরিসংখ্যানের গ্রাফ চার্টটি নিচে দেওয়া হলোঃ

 

ড্রাগ থেকে সাইকেডেলিক পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান

 

ড্রাগ থেকে সাইকেডেলিক পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমান

 

সেইসাথে একটা ছবিও যুক্ত করে দেওয়া হলো –

 

 

ট্রিপিং ইমেজ

তাহলে সবশেষে কথা হলো সামজিক দৃষ্টিকোণে যা ক্ষতিকর তা প্রচলন রয়েছে আর যা মানুষকে মানসিক জন্ঞ্জাল থেকে মুক্ত করে তাকেই বানানো হয়েছে মোরালিটির আঁধার দিয়ে করা হয়েছে ট্যাঁবু। এসব ব্যাপারে নিয়ে জানাশোনার জন্য আমাদের মনকে আরও মুক্ত করতে হবে ও সঠিক বন্দোবস্ত করতে হবে এগুলোর প্রয়োগের ব্যাপারে। এলএসডি, মেসকেলাইন, ম্যাজিক মাশরুম নিলে অনেকের হয়তো আর মনোরোগের চিকিৎসকের নিকট যাওয়ার প্রয়োজন পড়তো না, এ সমাজ হতে পারতো আরও মুক্ত ও নির্ভার।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *