কাহলিল জিবরানের ১০টি প্যারাবল

দ্যা ওয়ান্ডারার

 

একটি আড়াআড়ি পথে আলখাল্লা পরিহিত ও চেহারার মাঝে তীব্র বেদনার ছাপ বিজরিত একজন মানুষের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমরা পরস্পরকে অভিবাদন জানালাম এবং তাকে বললাম, “আমার বাড়িতে এসো ও আমার আতিয়েথতা গ্রহণ করো।”
অতঃপর সে আসলো।
আমার স্ত্রী এবং বাচ্চাদের সাথে আমাদের দোরগোড়ায় সাক্ষাৎ হলো ও সে তাদের দিকে তাকিয়ে হাসল, আর তারাও তার আগমনে খুশি হলো।
তারপর আমরা সকলে তক্তপোষের ওপর বসলাম এবং আমরা সে মানুষটির সান্নিধ্যে বেশ সুখভাব অনুভব করছিলাম যেন তার মাঝে ছিল একরকম নীরবতা, একধরনের রহস্য।
এরপর রাত্রিভোজনের পর আমরা সবাই আগুনের ধারে একত্রিত হলাম ও আমি তাকে তার ভ্রমণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম।
সে আমাদেরকে সেই রাতে এবং তার পরের দিনেও অনেক গল্প শোনালো কিন্তু এখন যা আমি শোনাচ্ছি এসবের উৎপত্তি হয়েছিলো তার তিক্ত দিনগুলো যার ভেতর দিয়ে সে দয়াপরবশ হয়ে ভ্রমণ করেছিলো তার মাধ্যমে এবং এইসব গল্পগুলো হলো তার পথের ধুলো এবং ধৈর্য্যের।
অবশেষে যখন সে আমাদেরকে ছেড়ে তিনদিন পর চলে গেলো আমাদের এমনটি মনেই হলো না যে একজন অতিথি আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে বরং মনে হলো এখনও আমাদেরই একজন বাইরে ঐ বাগানটার মাঝে দাড়িয়ে আছে এবং এখনও ভেতরে প্রবেশ করেনি।

 

পোষাক

 

একদা সৌন্দর্য এবং কদর্যতার সমুদ্রের তীরে দেখা হলো। আর তখন তারা একে অপরকে বলতে লাগলো, “চলো সমুদ্রে স্নান করি।”

এরপর তারা তাদের পোষাক খুলে ফেললো ও পানিতে সাঁতার কাটতে লাগলো। এর কিছুক্ষণ পর কদর্যতা তীরে ফিরে আসলো এবং সৌন্দর্যের পোষাক নিজের গায়ে জড়ালো ও সেখান থেকে চলে গেলো।

তারপর সৌন্দর্যও সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসলো ও তার পোষাক খুঁজে পেলো না, এবং নগ্ন অবস্থায় সে খুব লজ্জা পেতে লাগলো। তাই সে কদর্যতার পোষাকে নিজের শরীরকে ঢেকে নিলো। এরপর সৌন্দর্য তার গন্তব্যে যাত্রা করল।

অতঃপর সেইদিন থেকে পুরুষ এবং নারীরা তাদের একজনের সাথে অন্যজনকে গুলিয়ে ফেলে ভুল করে ফেলে।

তারপরও কিছু কিছু মানুষ রয়েছে যারা সৌন্দর্য দেখে চমকিত হয় এবং তারা তার পোশাক ছাড়াই তাকে চেনে। আর এমন কিছু মানুষও রয়েছে যারা কদর্যতার চেহারাকে চেনে, কাপড় তাকে গোপন করলেও তাদের চোখে সেটা এড়ায় না।

 

ঈগলপাখি ও ভরতপাখি

 

একটি ঈগল এবং একটি ভরতপাখির কোন এক পাহাড়ের চূড়ায় তাদের সাক্ষাৎ হলো। ভরতপাখিটি ঈগলকে বলল, “শুভ সকাল, জনাব।” ঈগলটি তা শুনতে পেয়ে নিচে তাকালো এবং ক্ষীণ আওয়াজে জবাব দিল, “শুভ সকাল।”

এরপর ভরতপাখিটি আবার বলল, “জনাব, আশা করি আপনার সাথে সবকিছুই ঠিকঠাক মতন চলছে।”

“হ্যাঁ, আমাদের সবকিছু ভালোমতই চলছে – ঈগলটি বলল। কিন্তু তুমি কী জানো যে আমরা হলাম গিয়ে পাখিদের রাজা আর আমরা কিছু বলার আগে তোমার আগ বাড়িয়ে কিছু বলা উচিত নয়?”

এই শুনে ভরতপাখিটি বলে, “আমিতো ভেবেছিলাম আমরা একই গোত্রের।”

ঈগল তার দিকে অবজ্ঞাভরে তাকালো এবং বললো, “তোমাকে কে বলেছে যে তুমি আর আমি একই গোত্রের?”

এরপর ভরতপাখিটি বলল, “তাহলে আমি তোমাকে এটা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আমি তোমার মতই উঁচুতে উড়তে পারি এবং আমি গানও গাইতে পারি ও তার দ্বারা এই পৃথিবীর অন্যান্য সৃষ্টিশীল জীবদের আনন্দও প্রদান করতে পারি। অথচ তুমি না পারো আনন্দ দিতে না পারো প্রফুল্লিত করতে।”

এতে ঈগলটি খুবই ক্রুদ্ধ হয়ে গেল এবং জবাব দিল, “আনন্দ ও প্রফুল্লতা! বেয়াদব ছোট জীব কোথাকার! আমার ঠোঁটের এক খোঁচায় তোকে আমি ধ্বংস করে ফেলতে পারি। তুইতো আমার পায়ের সমান হবি।”

তারপর ভরতপাখিটি উড়ে গিয়ে ঈগলের পিঠের ওপর চড়ে বসল ও তার ডানা ছিঁড়তে লাগল। ঈগলটি এতে চরম বিরক্ত হলো এবং সে উঁচু ও দ্রুতগতিতে উড়তে লাগল যাতে করে সে এই ছোট পাখিটি থেকে মুক্ত হতে পারে। কিন্তু সে এটা করতে ব্যর্থ হলো। অবশেষে সে আগের চেয়েও বিধ্বস্ত হয়ে সেই উঁচু পাহাড়ের পাথরটির কাছে ফিরে আসলো এবং তখনও পাখিটি তার পিঠের ওপরই ছিলো এবং ঈগলটি বারবার ভাগ্যের দোষ দিচ্ছিল।

ঠিক সেইসময় একটি ছোট কচ্ছপ সেখান দিয়ে যাচ্ছিল এবং এই ঘটনা দেখে হাসতে লাগলো। সে এতটাই হাসতে লাগলো যে হাসতে হাসতে তার পিঠ উল্টে গিয়ে মাটির সাথে উবু হয়ে গেলো।

এরপর ঈগল কচ্ছপটির দিকে তাকালো এবং বলল, ” এই, পৃথিবীতে থাকা একমাত্র ঢিলা কুৎসিত জীব, বল তুই কীসের ওপর এত হাসছিলি?”

তখন কচ্ছপটি বলল, “তুমি যে ঘোড়া বনে গেছো আমার এমনটা লাগছে কেন, আর তোমার ওপর একটা ছোট পাখি চড়ে বসে আছে, তবে ছোট পাখিটাই কিন্তু অধিকতর ভালো পাখি।”

এরপর ঈগলটি তাকে বলল, “যাও নিজের কাজ কর গিয়ে। এটা হলো আমার ভাই, ভরতপাখি ও আমার মধ্যকার পারিবারিক সমস্যা। তোর এখানে নাক না গলালেও চলবে।”

 

ভালোবাসার গীত

 

একদা এক কবি ভালোবাসার গীত লিখেছিল এবং সেটি ছিল চমৎকার। এবং সে এটির অনেকগুলো কপিও তৈরী করেছিল ও তার বন্ধুবর্গ, পরিচিতজন, পুরুষ, নারী উভয়সহ এমনকী একজন তরুনীকেও যে থাকত পর্বতেরও ওপারে, যার সাথে তার একবার মাত্রই দেখা হয়েছিল তাকে পর্যন্ত সে এটা প্রেরণ করেছিল।

তারপর একদিন কী দুইদিনের মাথায় সেই তরুণীটির চিঠি সাথে করে নিয়ে একজন দূত আসলো। এবং সেই চিঠিতে বলা ছিল, “আমি তোমাকে নিশ্চিত করছি যে আমি তোমার এই ভালোবাসার গীত যা তুমি আমার কাছে পাঠিয়েছো তার দ্বারা গভীরভাবে মোহিত হয়েছি। আমার কাছে এসো ও আমার বাবা, মাকে দর্শন করো, এরপর আমরা আমাদের বিবাহের বন্দোবস্ত করার তোড়জোড় শুরু করতে পারি।

এরপর কবিটি চিঠির উত্তর দিল এবং তাকে বলল, “ও আমার বন্ধু এটা আর কিছুই নয় ছিল একজন কবির হৃদয় থেকে বেরিয়ে আসা ভালোবাসার গীত যা প্রতিটি পুরুষ ও প্রতিটি নারীকে উৎসর্গ করেই গাওয়া হয়েছিল।”

তারপর তরুণীটি তাকে এই বলে আবার লিখল, ” ওরে কথাবাজ ভন্ড, মিথ্যুক! আজ হতে আমার মৃত্যু পর্যন্ত এই তোমারই কারণে আমি সকল কবিকে ঘৃণা করব।

 

হাসি-কান্না

 

নীলনদের তীরে কোন এক সন্ধ্যাকালে একটি হায়েনার সাথে একটি কুমিরের সাক্ষাৎ হলে, তারা দুজন থেমে পরস্পরকে অভিবাদন জানালো।

হায়েনাটি তখন কুমিরকে বলল, “তা জনাব, আপনার দিনকাল কেমন চলছে?”

কুমিরটি তখন এই বলে জবাব দিলো, “আমার দিনকাল মোটেই ভালো যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে আমি আমার দুঃখ-যন্ত্রণায় কেঁদে উঠি, আর তখন অন্যান্য জন্তুরা আমায় বলে, ‘এগুলো নাকী আর কিছুই নয়, মায়াকান্না (Crocodile tears).‘ আর এটা আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করে যা আমি ভাষা দিয়েও প্রকাশ করতে পারব না।”

তখন হায়েনাটি বলল, “তুমি শুধু তোমার দুঃখ-যন্ত্রণার কথাই বলছো, এক মুহূর্তের জন্য আমার কথা ভেবে দেখতো। আমি এই পৃথিবীর সৌন্দর্য, এর বিস্ময়, এর অলৌকিকতার দিকে তাকিয়ে থেকে প্রবল আনন্দে হেসে উঠি এমনকী  প্রভাতও আমার সাথে হেসে ওঠে। তবুও জঙ্গলের জন্তুরা বলে, ‘এগুলো নাকী আর কিছুই নয় হায়েনার হাসি।”

 

মেলা

 

কোন এক মেলায় অতীব সুন্দরী একটি মেয়ের আগমন ঘটল। তার মুখ ছিল যেন পদ্ম ও গোলাপফুলের আভায় জড়ানো। তার চুলগুলোতে লেগে রয়েছিল যেন সূর্যাস্তের লালিমা এবং তার ঠৌঁট দুটিতে যেন জড়ানো ছিল ভোরবেলার হাসি।

অপরূপ সুন্দরী এই অপরিচিতা মেয়েটি যেই না মেলাটিতে উপস্থিত হলো সঙ্গে সঙ্গে তরুণ ছেলেরা সবাই তাকে কামনা করতে লাগল এবং তার চারপাশ ঘিরে ধরল। একজন তার সাথে নাচতে চাইল তো আরেকজন তার সম্মানে কেক কাটতে চাইল। আর সকলেই তার গালে চুমু খাবার আকাঙ্খা পোষণ করল। আর যাই হোক, এটা মেলা ছিল কীনা?

কিন্তু মেয়েটি এতে হতভম্ব ও থতমত খেয়ে গেলো এবং ভাবতে লাগলো কী খারাপ এই ছেলেগুলো। সে তাদেরকে তিরস্কার করলো, কেবল তাই নয় সে তাদের মধ্যে দুই, একজনকে আঘাতও করে বসলো। এরপর সে তাদের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়ে গেলো।

আর বাড়ি ফেরার পথে সেই সন্ধ্যায় তার হৃদয়ের মাঝে উচ্চারিত হচ্ছিলো, “আমার চরম রাগ হচ্ছে এদের ওপর। কী অসভ্য আর বেহায়া এই ছেলেগুলো। এটা সহ্যেরও অতীত।”

এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে যেদিন অত্যন্ত সুন্দরী মেয়েটি মেলা ও ছেলেগুলোর ব্যাপার নিয়ে অতি চিন্তিত হয়েছিলো। এরপর সে আবার ঐ মেলায় গেলো তার মুখে পদ্ম ও গোলাপের আভা জড়িয়ে, সূর্যাস্তের লালিমা তার চুলগুলোতে খেলিয়ে এবং তার ঠোঁটে জড়ানো সেই ভোরবেলার হাসি নিয়ে।

কিন্তু এবার তরুণ ছেলেগুলো তাকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নিলো। এবং সারাটি দিনজুড়ে কেউ তাকে কামনা করলো না ও সে একা হয়ে রইলো।

অতঃপর সন্ধ্যায় যখন সে রাস্তা ধরে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করল তার হৃদয় ডুকরে কেঁদে উঠল, “আমার চরম রাগ হচ্ছে এদের ওপর। কী অসভ্য আর বেহায়া এই ছেলেগুলো। এটা সহ্যেরও অতীত।

 

দুই রাজকুমারী

 

শোয়াকিস শহরে এক রাজকুমার বসবাস করতো। নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ সকলেই তাকে ভালবাসতো। এমনকী মাঠের পশুপাখিরাও তাকে অভ্যর্থনা জানাবার জন্য আসতো।

কিন্তু সবাই বলত যে তার স্ত্রী, রাজকুমারী তাকে ভালোবাসে না এমনকী সে তাকে ঘৃণা পর্যন্তও করে না।

একদিন প্রতিবেশী শহর থেকে এক রাজকুমারী শোয়াকিসের রাজকুমারীর সাথে দেখা করার জন্য আসলো। তারা একসাথে বসে কথা বললো এবং তাদের কথা একপর্যায়ে তাদের স্বামীদের প্রসঙ্গে গিয়ে ঠেকলো।

শারাকিসের রাজকুমারী অত্যন্ত দরদের সাথে বললো, “যদিও তোমাদের বিবাহের অনেক কাল অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে তারপরও তুমি রাজকুমার, তোমার স্বামীর সাথে যেমন সুখে আছো এ ব্যাপারে আমার তোমায় নিয়ে হিংসে হয়। আমি আমার স্বামীকে ঘৃণা করি। সে শুধু আমার একার নয় আর এজন্য আমি সবচেয়ে অসুখী একজন নারী।”

তারপর অতিথি রাজকুমারীটি তার দিকে তাকিয়ে বললো, “সত্যি বলতে কী আমার প্রিয় বন্ধু তুমি তোমার স্বামীকে ভালোবাসো। হ্যাঁ, এবং তোমার এখনও তার প্রতি জমানো দরদ রয়েছে, আর এটাই যেন নারীর জীবন ঠিক বাগানে বসন্তের উপস্থিতির মত।
তবে তুমি আমায় এবং আমার স্বামীকে ক্ষমা করো, কেননা আমরা একে অপরকে নীরবে সহ্য করে যাই। এরপরও কী তুমি এবং অন্যান্যরা এই সুখকে বিশ্বাস করো।”

 

বজ্রপাত

 

এক ঝড়ের দিনে একজন খ্রিস্টান পাদরী তার গির্জার ভেতর অবস্থান করলে, সেখানে একজন অখ্রিস্টীয় মহিলা তার সামনে এসে দাড়াল এবং তাকে বলল, “আমি খ্রিস্টান নই। নরকের অগ্নি থেকে কী আমার মুক্তির কোন উপায় আছে?”

পাদরীটি তখন মহিলাটির দিলে তাকালো এবং তাকে এই বলে জবাব দিলো, “না কোন মুক্তি নেই, মুক্তি কেবল তাদের জন্যই যারা পবিত্র আত্মা ও জলের দ্বারা খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছে।”

আর তার এই কথা বলার মুহূর্তে আকাশ হতে তীব্র আলোর ঝলকানি দিয়ে গির্জার ওপর বজ্রপাত হলো এবং এর চারদিকে আগুন ধরে গেলো। অতঃপর শহরের লোকেরা গির্জার দিকে ছুটে আসলো ও তারা মহিলাটিকে রক্ষা করতে পারলেও, এদিকে আগুন পাদ্রীকে তার খাবাররূপে গলাধঃকরণ করে নিয়েছে।

 

সন্ন্যাসী এবং পশু

 

একদা সবুজ পর্বতমাঝে এক সন্ন্যাসী বসবাস করতো। সে ছিলো পরিশুদ্ধ ও অন্তরের দিক থেকে স্বচ্ছ। ভূমিতে থাকা সকল প্রাণী ও আকাশে থাকা সমস্ত পাখিরা জোড়ায় জোড়ায় তার কাছে আসতো এবং তাদের সাথে কথা বলতো। তারা অত্যন্ত আনন্দ নিয়ে তার কথা শুনতো, এবং তারা তার কাছাকাছি জড়োসড়ো হয়ে বসতো ও রাত্রি নামার আগ পর্যন্ত তারা সেখান থেকে যেত না। যখন সে তাদেরকে সেখান থেকে ফেরত পাঠাতো তখন সে বাতাস এবং আগুনের কাছে আশীর্বাদ সহকারে তাদেরকে সঁপে দিতো।

একদিন সন্ধ্যায় সে ভালোবাসা নিয়ে কথা বলছিলো, ঠিক তখন একটি চিতাবাঘ তারা মাথা উঁচু করে সন্ন্যাসীটিকে বলল, “আপনি আমাদেরকে ভালোবাসার কথা বলছেন। তাহলে জনাব আমাদেরকে বলুন, আপনার সঙ্গী কোথায়?”

সন্ন্যাসীটি বললো, “আমার কোন সঙ্গী নেই।”

তারপর হতবাকজনিত একটি তীব্র শোরগোল সঙ্গী পশুপাখিদের মাঝে জেগে উঠল এবং তারা একে অপরকে বলাবলি করতে লাগল, “সে কীভাবে আমাদেরকে ভালোবাসা এবং সঙ্গীসাথীর ব্যাপারে বলতে পারবে যেখানে সে নিজেই এতে জড়ায়নি?” তারপর তারা নিজেদের ভেতরে তার প্রতি অবজ্ঞা নিয়ে তাকে একা ফেলে রেখে চুপচাপ সেখান থেকে প্রস্থান করলো।

সেই রাতে সন্ন্যাসীটি তার মাদুরের ওপর শুয়ে তার মুখ আকাশপানে রেখে করুণভাবে কেঁদেছিলো এবং তার নিজ হাত দিয়ে তার বুক চাপড়িয়েছিলো।

 

মুক্তো

 

এক ঝিনুক তার প্রতিবেশী আরেক ঝিনুককে বলল, “আমার অন্তরমাঝে তীব্র যন্ত্রণা রয়েছে। এটা ভারী ও গোলাকার এবং এ নিয়ে আমি ভীষণ সমস্যার মধ্যে আছি।”

এরপর অন্য ঝিনুক উদ্ধত আত্মপ্রসাদের সাথে জবাব দিলো, “সকল প্রশংসা সেই আসমান ও সমুদ্রের যে আমার মাঝে কোন যন্ত্রণা নেই। আমি ভেতরে ও বাইরে উভয়দিক দিকে পরিপূর্ণ এবং ভালো আছি।”

সেই মুহূর্তে একটি কাঁকড়া সেখান দিয়ে যাচ্ছিল এবং ঝিনুক দুটির মধ্যকার কথোপকথন শুনতে পেয়ে সে তাদের একজনকে যে বাইরের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ ও ভালো আছে, তাকে বললো, “হুমম, তুমি ভালো ও পরিপূর্ণ বটে; তবে তোমার প্রতিবেশী যে যন্ত্রণা নিজের মাঝে বয়ে বেড়াচ্ছে তা হলো সবচেয়ে সৌন্দর্যময় একটি মুক্তো।”

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *