ওশো – গীতাদর্শন পর্যালোচনা | বর্ণাশ্রম প্রথা

মহাভারতে আমরা বর্ণাশ্রম প্রথানুযায়ী ব্রাক্ষ্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈশ্য, শূদ্র এ চারধরনের শ্রেণীর দেখা পাই ও সে অনুযায়ী ঘটনার অবতারণাও দেখতে পাই।

গীতাদর্শন নিয়ে ডিসকোর্স চলাকালে ওশো অর্জুনের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ থেকে পলায়ন করার ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রসঙ্গক্রমে বর্ণাশ্রম প্রথার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের ব্যাপারটি ও তাতে কীভাবে পঁচন ধরে গেল সে ব্যাপারটি তুলে আনেন। কেবল তাই নয় আসন্ন ভবিষ্যতে যে, আমাদেরকে বর্ণাশ্রম প্রথার কিছু অন্তর্নিহিত নিগূঢ় ভিত্তির ওপর সমাজের কাঠামো নতুন করে সাজাতে হতে পারে এর সম্ভাবনাও তিনি বলেন।

বর্ণাশ্রম প্রথায় আমরা মূলত চারটি শ্রেণী দেখতে পাই যথাক্রমে ব্রাক্ষ্মণ, ক্ষত্রীয়, বৈশ্য ও শূদ্র। এখন এ অনুযায়ী অর্জুন যে শ্রেণীতে পড়ে সেটি হলো ক্ষত্রীয় শ্রেণীতে। কৃষ্ণ আর অর্জুন যখন কুরুক্ষেত্রে উপস্থিত হয় হঠাৎ করেই অর্জুনের ক্ষত্রীয় যে তেজ তা যেন উবে যায়। বীর তীরন্দাজ অর্জুন সংশয়ে পড়ে যায় ও নানা প্রশ্ন করতে থাকে কৃষ্ণকে।

এক্ষেত্রে একটি ব্যাপার উল্লেখ করে নেওয়া প্রয়োজন যে, বর্ণাশ্রম প্রথার যে অভিপ্রায় ছিলো তা কোন বিশেষ শ্রেণীকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য নয় বরং এটি মানুষের মনের অন্তর্নিহিত যে ব্যক্তিত্বের যে বৈচিত্র্য সেগুলোকে গভীরভাবে বোঝার মাধ্যমে একটি সুসংহত শৃঙ্খলা অনুযায়ী কাঠামোবদ্ধভাবে সমাজ পরিচালনা করার একটা প্রণালী ছিল। সে হিসাবমতে, এখন এ চারটি শ্রেণীর ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্য দেওয়া যাক –

১. ব্রাক্ষ্মণঃ এ ধরনের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হলো জ্ঞানের প্রতি তার তীব্র ভালোবাসা থাকে। সে হয়তো দুইবেলা না খেয়ে থাকতে পারবে কিন্তু জ্ঞানচর্চা ছাড়া থাকতে পারবে না। এ ধরনের ব্যক্তিত্ব প্রাণ ও স্ফূরণ জ্ঞানের ক্ষেত্রেই বেশীরভাগ ঝুঁকে থাকে। আর এরা স্বভাবগত দিক দিয়ে অন্তর্মুখী ধাঁচের হয়।

২. ক্ষত্রীয়ঃ এ ধরনের ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হলো যুদ্ধ ও শক্তি প্রদর্শনের প্রতি তীব্র ঝোঁক। আর এরা চালিত হয় এদের তীব্র ইচ্ছাশক্তির দ্বারা। এদের ক্ষেত্রে যে নীতি কাজ করে তাহলো হয় বাঁচো, নাহয় মরো। এরা মৃত্যুকে ভয় পায় না বরং মৃত্যুকে চ্যালেন্ঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে। সবমিলিয়ে বলা যায় এদের মাঝে একটা যুদ্ধবাজপ্রবণতা থাকে ও নির্ভীক কর্মচান্ঞ্চল্য থাকে। এদের পরিতৃপ্তি, প্রাণ ও স্ফূরণ ঘটে যুদ্ধের ময়দানে, চ্যালেন্ঞ্জ নেবার মাধ্যমে, ইচ্ছাশক্তির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে। এরা স্বভাবগত দিক দিয়ে বহির্মুখী ধাঁচের হয়।

৩. বৈশ্যঃ এরা মূলত হয় টাকা-পয়সার দিকে উন্মুখ। এ বৈশিষ্ট্য মূলত ক্ষত্রীয় বৈশিষ্ট্যেরই অপরিণত প্রকার। বৈশ্যও স্বভাবগত দিক দিয়ে বহির্মুখী ধাঁচের হয়। আর এদেরও কর্ম হয় হলো প্রদর্শনমুখী। তবে এরা ক্ষত্রীয়ের মত চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারে না বা যাওয়ার ওরকম প্রবণতা দেখা যায় না। যার ফলস্বরূপ এরা কিছুটা অপরিণত থেকেই অর্থ-সম্পত্তি দিয়েই তাদের ক্ষমতা বা শক্তি প্রদর্শন করতে চায় যেখানে ক্ষত্রীয় চায় তার নিজের আপন তেজ, শৌর্য, বীর্য দ্বারা তার কর্ম প্রতিস্থাপন করতে। বৈশ্যের ব্যাপারে ওশো বলতে গিয়ে বলেন যে, যখন বৈশ্যের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ক্ষত্রীয়ের মাঝে রয়েছে।

৪. শূদ্রঃ এরা হলো স্বভাবগত দিক দিয়ে সেবা করার প্রতি উন্মুখ। এ ধরনের ব্যক্তিত্বকে যদি যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দেওয়া হয় এ বীরের মত যুদ্ধ করতে পারবে না। এ পুরো চারিত্রিক টাইপ হলো মালিকের প্রতি আনুগত্যতা বা সেবামুখী একটা মনোভাব। ওশো এখানেও বলেন যে, শূদ্রের পূর্ণ বিকাশ ব্রাক্ষ্মণে দেখতে পাওয়া যায়।

এখানে যে বৈশিষ্ট্যগুলো দেওয়া হলো এটাকে মোটাদাগে দেওয়া একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্য বলা চলে। এর ভেতরের খুঁটিনাটি আমরা ধীরে ধীরে আলোচনার অগ্রগতির ধারা অনুযায়ী জানবো।

ওশো এ চারটি শ্রেণী সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন যে, চারটি শ্রেণীকে মূলত দুটিতেই ভাগ করে নেওয়া যায়। যেমন বৈশিষ্ট্যে আমরা দেখতে পাই যে, শূদ্র ও বৈশ্যের বর্ধিত সংস্করণ হচ্ছে যথাক্রমে ব্রাক্ষ্মণ ও ক্ষত্রীয়। এ জায়গায় মূলত বর্তমান মনোবিজ্ঞানের ধারায় ব্যক্তির চরিত্রকে যেমন বহির্মুখী (Extrovert) ও অন্তর্মুখী (Introvert) এ দুটি প্রকরণে ফেলা হয় সে মূলভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে এ চারটি বর্গে ভাগ করা হয়েছে। এখন ঐসময়কালের বিজ্ঞজনেরা যে এরকম ভাষাতেই চিন্তা করে এটা নির্ধারণ করেছিলেন এমন নয়।

তবে তারা এটা বুঝেছিলেন যে, কোন কোন মানুষের বহির্মুখী প্রবণতা বেশী ও কোন কোন মানুষের অন্তর্মুখী প্রবণতা বেশী। তবে কোন মানুষই খাঁটি বহির্মুখী কিংবা অন্তর্মুখী হতে পারে না। তবে প্রবণতা কোনদিকে বেশী এটাই হলো মূখ্য। এখন অবশ্য মনোবিজ্ঞানে এমবিভার্টও চলে এসেছে। এ বিষয়টা ও অন্য কতগুলো বিষয় আমি একটু পরে আলোচনা করবো। তবে তার আগে যা বলছিলাম সেটাই আপাতত বলা যাক।

ওশো ব্যক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন যে, ব্যক্তির জীবনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো তার মানসিক যে ধাঁচ সে অনুযায়ী কাজ করতে না পারাটা। এসব ধারা ও দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণের পর এই চারটি বর্গে ভাগ করে দেওয়ার ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এ ব্যাবস্থাতে পঁচন ধরে যায় তখনই যখন কর্মসূত্রে এ বিভাজনকে না ধরে জন্মসূত্রে এটিকে ধরে নেওয়া হয়। এখানেই ফ্লাট হায়ারার্কি থেকে ব্যাপারটা হরাইজন্টাল হায়ারার্কিতে রূপ নেয়৷ পরবর্তীতে এটাই ব্রাক্ষণ্যবাদ নামে পরিচিত হয়।

এখন অনেক কাল পেরিয়ে আমরা এই বর্তমানে এসে দেখতে পাই, মতাদর্শের ছড়াছড়ি কেউ যেন কিছু পেয়ে তুষ্ট নয়। তারা খুঁজে পাচ্ছেনা আসলে কী করলে তাদের জীবনে একটা পরিতৃপ্তি আসতে পারে। এইযে না জানাটা এটা হলো নিজেদের মাঝে যে মানসিক ধরন রয়েছে সে অনুযায়ী কাজ কিংবা জীবন গঠন করতে না পারার একটা তীব্র হাহাকার। যে জ্ঞানের সাধনা করবে তাকে ব্যাংকে কিংবা চাকুরীর কথা চিন্তা করেই দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। প্রাচ্যে যে প্রবহমান ধারা ছিলো তা (অবশ্যই পরবর্তীতে গজিয়ে ওঠা কুসংস্কার নয়) আজ এলোমেলো হয়ে গেছে অনেকটাই। তবে আশার কথা হলো এইযে ঘাত-প্রতিঘাত এ থেকে আরও নতুন নতুন কিছু উদ্ভাবন হচ্ছে ও ভবিষ্যতে হবে।

প্রাচীন অখন্ড ভারতবর্ষে যে সিস্টেমগুলো ছিলো তা বর্তমান সময়ে হুবুহু প্রয়োগের মত না হলেও কিছু অন্তর্নিহিত গূঢ় ব্যাপার ছিলো যা ছিলো জীবনের মূল ভিত্তিস্বরূপ। এ ভিত্তিগুলোর অনেক কালের পর্যবেক্ষণে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন সিস্টেম। এর মধ্যে একটা বর্ণাশ্রম প্রথাতেও ছিলো। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিলো সম্পূর্ণ সাইকোলজিক্যাল অবজারভেশন। এখন যে দৃষ্টিভঙ্গির আপেক্ষিকতার কথা বলা হয়, তা অনেক আগে থেকেই এ প্রাচ্যের জ্ঞানীগুণী লোকেরা জানতেন তাদের তখনকার মত করে।

এসব পর্যবেক্ষণ করে তারা বুঝেছিলেন এই মানুষের পারসোনালিটির এত এত বৈচিত্র্য একে একত্রে গেঁথে রাখতে হলে একটা হায়ারার্কির প্রয়োজন। এজন্যই সম্ভবত তারা এই ফ্লাট হায়ারার্কি তৈরী করেছিলেন। তবে হায়ারার্কি কথা শুনে খেঁপে যাবেন না আবার। সব প্রকারের হায়ারার্কি যে খারাপ এটা কিন্তু নিশ্চিত করে বলাও যায়না। সবটাই ব্যাবহারের ওপর নির্ভরশীল। যার ভালো ও খারাপ দিক আমরা বর্ণাশ্রম প্রথার মাঝেই দেখেছি।

ভবিষ্যতে মানুষে মানুষে এত পারসোনালিটির বৈচিত্র্য এদেরকে একত্রে কীভাবে গাঁথা যাবে তা আমাদেরকে নতুন করে ভাবতে হবে। সম্প্রতি অনেক গবেষণা, পারসোনালিটি টাইপ টেস্ট এসব নিয়েও কাজ হচ্ছে। এরকম অনেক পারসোনালিটি টাইপ টেস্ট রয়েছে যার মধ্যে একটির নাম হলো MBTI অর্থাৎ, মায়ার্স ব্রিগস টাইপ ইনডিকেটর । এখানে মানুষের বিভিন্ন প্রবণতাকে মূল চারটি ভাগে ভাগ করে মোট ১৬ প্রকার পারসোনালিটি টাইপের মানুষের তালিকা রয়েছে। প্রবণতাগুলোর মধ্যে এক্সোট্রোভার্ট, ইন্ট্রোভার্ট, ফিলিং, ইনটুইটিভ, থিংকিং ইত্যাদি এগুলো রয়েছে৷ এখানে এসেও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পৃথিবীর সব মানুষকে এই ১৬ টাইপে মাঝে সাধারণভাবে ফেলা হয়েছে ব্যাবহারিক দিক দিয়ে। এবং এ টেস্টগুলোর মাধ্যমে নিজের সম্পর্কে কিছু আইডিয়াও পাওয়া যায়। যা নিজের টাইপ বুঝে ক্যারিয়ার, সম্পর্ক এসবে সিদ্ধান্ত নিতে মানুষদেরকে সাহায্য করে৷

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, সবাই আসলে সব কাজ পারেনা। প্রতিটি মানুষের কিছু ইউনিক ট্রেইট রয়েছে যার সন্ধান সে পেলে ও তা বর্ধিত করলে সে জীবনে একটা ইতিবাচক গতি পেতে পারে। আর তা না পেলে জীবনের গতি এবড়োখেবড়ো হয়ে পড়ে ও সামষ্টিকভাবে তা ঘটে গেলে সমাজ হয়ে পড়ে বিশৃঙ্খল।

ওশো অবশ্য স্বীকার করেন যে, বর্ণাশ্রম প্রথার এ চারটির সম্মিলনে আরও অনেক টাইপ হতে পারে। জ্ঞান, তেজ, অর্থ, সেবা এই চারটির সংমিশ্রণে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হতে পারে।

আসলে সবকিছু একত্রিত করে চালনার জন্য বাহিরে আপাত একটি বৈচিত্র্যকে স্বীকার করে নিতে হয়। আর স্বীকার করে নিলেই অন্তরস্থ ঐক্যের সংস্পর্শতার দেখা মিলে। এবং এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত সমাজব্যাবস্থায় বৈচিত্র্যময় সাম্য পরিলক্ষিত হয়।

কেবল যে, বর্ণাশ্রম ধারায় মানসিক ধরণ বুঝে যে বর্গ ভাগ করে দেওয়া হয়েছিলো এটা নয় বরং প্লেটোর “রিপাবলিক” গ্রন্থেও আমরা দেখি যে তিনি তার আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনায় মানুষদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করেছেন। যদিও প্লেটোর এ রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হয়নি। যাইহোক, তারপরও তিনি যে ভেবেছিলেন এর পিছনে কী কারণ ছিলো এটা একটু খতিয়ে দেখা যাক –

তিনি মানুষদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করেছিলেন। যথাঃ

১. অভিজাত শ্রেণী
২. যোদ্ধা শ্রেণী
৩. দাস শ্রেণী

এখানে বর্ণাশ্রমের একটা প্রকার বাদ গেলেও, অভিজাত শ্রেণী বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একে ব্রাক্ষণে ফেলা যায় ও যোদ্ধা শ্রেণীকে ক্ষত্রীয়তে এবং দাস শ্রেণীকে শূদ্রতে ফেলা যায়৷ এখন দাস প্রকারটা অনেক আগেই উঠে গিয়েছে। তবে তখনকার সময়ে ছিলো বলেই এর উল্লেখ। বর্ণাশ্রনের সাথে এর প্রেক্ষাপট যেহেতু আলাদা তারপরও এটা উল্লেখ করা এই কারণে যে, সাইকোলজির মূলগত কিছু বিষয়ের সাদৃশ্য দেখানোর জন্য। প্লেটোও আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করতে গিয়ে বুঝেছিলেন যে, সকল প্রকার মানুষের টাইপ একপ্রকার হয়না ও তাদের মাঝে বোধের একটা তফাৎ রয়েছে। তবে তা যে তাদের খাটো করা মোটেই নয় বরং যার যে টাইপ সে অনু্যায়ী থাকলে একটি রাষ্ট্র হয়তো তার জনগণকে নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে।

তবে প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্র ও বর্ণাশ্রমের মাঝে তফাৎ থাকলেও এইযে, পার্থক্যকরণ এটার সাদৃশ্যই এখানে মুখ্য।

আমাদের একসাথে থাকতে গেলে আমরা না চাইলে ব্যক্তিগত বৈচিত্র্য এসবের কারণে আপাত অসাম্য আমাদের সামনে এসে পড়ে। যার ফলে কিছুটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই যেন আমাদের শ্রেণী, বর্ণ, গোত্র, পারসোনালিটি ইত্যাদি এসবের বিভক্তি ঘটে যায়। তবে বিভক্তিটা কোন দিকে পরিচালিত হচ্ছে এটাই হলো আসল ব্যাপার।

এখন যেমন বস্তুগত প্রভাবের কারণে অর্থের মাপকাঠিতে সমাজে ছয়টা ক্লাসেরই বিভাজন হয়ে গিয়েছে যথাঃ উচ্চবিত্ত, নিম্ন-উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, দরিদ্র, নিম্ন দরিদ্র। কিন্তু এইযে, অর্থের কারিশমায় এই বিভাজন এটা কী আদৌ মানুষের মঙ্গল করেছে? অর্থ হলেই কী আমি উৎকর্ষের চূড়ায় গিয়ে পৌঁছলাম! ব্যাপারটাতো সেরকম নয়।

এসব তলিয়ে দেখতে গেলে দেখতে হবে আমাদের মনের গহীন স্বভাবকে৷ মনের স্বভাব হলো এটি টুকরো টুকরো করে দেখে সবকিছুকে। আর এ টুকরো করে দেখার প্রবণতার ভালো ও খারাপ দুটি দিক রয়েছে৷ আমরা যদি এর ভালো দিকটি নেই তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো একটা বৈচিত্র্যপূর্ণ অথচ একটি স্বতঃস্ফূর্তভাবপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যতের এ যাত্রায় ও সম্পূর্ণ নতুন অথচ অন্তর্নিহিতভাবে সনাতন গুণের সমাবেশযুক্ত সমাজ গঠনে বর্ণাশ্রম প্রথার ইতিবাচক দিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো আমাদের জন্য একটা ভাবনার উৎস হতে পারে।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *