ওশো – আধুনিক বিজ্ঞানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেন্ঞ্জ কী

ওশো – আধুনিক বিজ্ঞানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেন্ঞ্জ কী
ভবিষ্যত তোমার কাছে অন্ধকার বলে মনে হচ্ছে কেননা তুমি শুধু এর অন্ধকার দিকটিই দেখছো। তুমি এর সম্ভাবনাময় দিকটির ব্যাপারে সচেতন নও। আমি দেখতে পাচ্ছি ভোরের আলো ক্রমশ রেখা মেলতে আরম্ভ করে দিয়েছে। যদিও রাত বেশ অন্ধকারময় – কিন্তু ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয়, একদমই নয়।
উপরন্তু, মানব ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত লক্ষ লক্ষ মানুষ বুদ্ধত্ব অর্জনে সক্ষমতা লাভ করবে। অতীতে বুদ্ধত্ব অর্জন  খুবই দুর্লভ ছিল। কারণ মানুষের নিজের যান্ত্রিকতার ব্যাপারে সচেতনতা তেমন ছিল না। মানুষ যে একটি যন্ত্র এটি বোঝার জন্য চরম বুদ্ধিমত্তা লাগে।
কিন্তু এখন মোটেই সেরকম কোন বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন নেই; এটা এখন এতটাই সুনিশ্চিত।
আর তুমি বলছো, “… বনান্ঞ্চল ধ্বংসের কথা এবং সাগর ও বাতাস দূষিত হয়ে যাবার কথা যেন তুমি নিশ্চিত নও এ ব্যাপারে যে প্রকৃতি তার সূক্ষ্ম ভারসাম্য আদৌ বজায় রাখতে পারবে কীনা। তাহলে কীভাবে এই বিশ্ব এইসব থেকে পরিত্রাণ পেতে পারে? বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সবচেয়ে চমৎকার দিক হলোঃ এটা সমস্যার সৃষ্টি করে শুধুমাত্র সমস্যা সমাধানের জন্য। আর সমস্যা তখনই সমাধান হবে যখন তা সৃষ্টি করা হবে; এরপরই এটা একটি চ্যালেন্ঞ্জে পরিণত হবে। এখন প্রযুক্তির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেন্ঞ্জ হলো কীভাবে এটি এই প্রকৃতির ভারসাম্যকে বজায় রাখবে, কীভাবেই বা এটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের মেলবন্ধনের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখবে। এই চ্যালেন্ঞ্জের মুখোমুখি আমরা আগে কখনো হইনি। এটা একেবারেই নতুন একটি সমস্যা।
এই প্রথমবারের মত বিজ্ঞান একটি নতুন সমস্যার মুখোমুখি দাড়িয়ে আছে। আমরা এই পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বসবাস করে এসেছি। ধীরে, ধীরে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষতা বাড়াতে থেকেছি কিন্তু এরপরও আমরা প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ধ্বংস করতে সমর্থ হইনি। আমরা তখনও এই পৃথিবীর বুকে একটি ক্ষুদ্র শক্তিরূপে বিচরণশীল ছিলাম। এখন এই প্রথমবারের মত আমাদের শক্তি এত বিশালকার হয়েছে, এটা এত পরিমাণ বেড়েছে যে এটা পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি থেকেও বৃহৎ হয়ে গেছে। এটা একটি বড় ঘটনা। মানুষ এখন এত শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে যে সে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস করে দিতে পারে। কিন্তু সে এটা ধ্বংস করবে না। কারণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস করার অর্থই হচ্ছে সে নিজেই নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে।
সে নতুন নতুন পথ খুঁজে বের করবে – এবং নতুন পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। প্রকৃতির এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য ফিরে পাবার অর্থ এই নয় যে প্রযুক্তিকে পরিত্যাগ করতে হবে। এটা কোন হিপ্পিতে পরিণত হয়ে যাওয়া নয়, এমনকী এটা কোন গান্ধীবাদিতে পরিণত হয়ে যাওয়া নয়, না, এটা একেবারেই তা নয়। পুনরায় প্রাকৃতিক এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের রাস্তা হল উচ্চতর প্রযুক্তি, সর্বোচ্চতম প্রযুক্তি, আরও প্রযুক্তি। যদি প্রযুক্তি ভারসাম্য ধ্বংস করতে পারে তাহলে প্রযুক্তি কেন তা পুনরুদ্ধার করতে পারবে না? যা ধ্বংস করা যেতে পারে সেটিকে আবার সৃষ্টিও করা যেতে পারে।
আর এখন তো শহরগুলোকে একটা বৃহৎ, বিশাল আকারের বেলুনের মাধ্যমে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখা প্রায় সামর্থ্যের মধ্যেই এসে গেছে। প্রত্যেককেই যে এই পৃথিবীতে বসবাস করতে হবে এর কোন প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এটা সত্যিই খুব চমৎকার হবে – ভাসমান শহরগুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এবং তোমার নিচে সবুজ পৃথিবী, আবার সেই বিশাল ঘন বনজঙ্গল যেমনটা প্রথম যখন আমরা গাছ কাটা শুরু করেছিলাম তারও বহু আগে এই পৃথিবীতে ছিল। এই পৃথিবী আবার আগের মত হতে পারে। তুমি তখন এই পৃথিবীতে ছুটি কাটাবার জন্য আসতে পারবে।
*হিপ্পিঃ ১৯৬০ সালে সাইকেডেলিকের উত্থানের মাধ্যমে একধরনের আন্দোলন হয়েছিল। যাকে বলা হয় হিপ্পি আন্দোলন। আর যারা ছিল 
এতে তাদেরকে বলা হয় হিপ্পি।
0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *