ঈশ্বরের মুড়িঘন্ট

ঈশ্বর তোমাকে নয়, তুমি ঈশ্বরকে গড়ো
ঈশ্বরের কী কোন শক্তি আছে কোনকিছু গড়বার?
এটা তুমি যে ঈশ্বরকে নানা রঙ দিয়ে সাজাও, বিভিন্ন তুলিতে তাকে আঁকো।

ঈশ্বর সঙ্গীহীন,

এটা তুমি যে তাকে সঙ্গ দাও, তুমি ছাড়া তো তার একচুল নড়ারও ক্ষমতা নেই, সে স্থির হয়ে হয়ত বোবার মত থাকিয়ে থাকত;

ঈশ্বর বাকপ্রতিবন্ধী

এটা তুমি যে তাকে মুক্ত কর, যে তাকে দিয়েছ কোটি কোটি মধুর ভাষা, চমৎকার এবং অশ্লীল, তিক্ত, বেদনা ও আনন্দময় বহিঃপ্রকাশ,,,

ঈশ্বর অক্ষম

এটা তুমি যে তাকে সক্ষম করে তোলো, যে তাকে টেনে হিঁচড়ে চালনা করো, হ্যা এটা তুমিই যে তাকে দিয়েছো চলার শক্তি।
ঈশ্বরের নৈতিকতা, অনৈতিকতা নেই
এটা তুমি যে তাকে এসব দ্বন্দ্বের সাথে পরিচয় করিয়েছো, তুমি যখন ধর্ষণ করো তখন ঈশ্বরেরও ধর্ষক হয়ে যেতে হয় কেননা ঈশ্বর অবলা, নিরীহ, এটা তোমারই হাত, এটা তোমারই দেহ যা পাপকে ছোঁয় ও ঈশ্বরকে পাপী করে তোলে,

আবার এটা তোমারই হাত যে ঈশ্বরকে পূণ্যের জোয়াড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তখন তোমার ঈশ্বর পূণ্য হয়ে ওঠে।

ঈশ্বর কিছুই নন,

এটা তুমি যে তাকে কিছু করে তোলো, এটা তুমি যে তার নগ্নতাকে পোশাক দ্বারা আচ্ছাদিত করো৷
এখন তাহলে ভেবে দেখতো ঈশ্বর তোমাকে নাড়ছে না তুমি ঈশ্বরকে। স্বপ্ন কে দেখছে তুমি না ঈশ্বর।

ঈশ্বর ঘুমায় না

এটা তুমি যে ঈশ্বর ঘুম পাড়াও, এটা তুমি যে তাকে মিষ্টি, তিক্ত, অশ্লীল, মধুর স্বপ্ন দেখাও।

ঈশ্বরের নাম নেই, ঈশ্বর এটাও
এটা তুমি যে তাকে নাম দিয়েছো, এটা তুমি যে তাকে লক্ষ লক্ষ নাম দিয়েছো, তাকে লক্ষ লক্ষ নাম দিয়ে ডেকেছো।

আবার এ নাম নিয়ে ঝগড়া বাঁধিয়েছো।
ঈশ্বর কিছুই করেনি, কেননা সে অক্ষম
এটা তুমি যে তাকে করেছো সক্ষম।
কিন্তু এতকিছু তুমি কেন করেছো?

তুমি করেছো কেননা তুমি ঈশ্বরের ভালোবাসাকে ভয় পাও!!!

ঈশ্বর অক্ষম, ঈশ্বর অসহায়, ঈশ্বর একা, ঈশ্বর নামহীন, ঈশ্বর শক্তিহীন এসবই তার ভালোবাসা।

তুমি এই ভালোবাসার সামনে দাড়াতে পারো না, তাই তুমি তার থেকে দূরে সরে যেতে চাও তাকে শক্তি, সক্ষম, সবল, সঙ্গ এসব প্রদান করো। এগুলো তুমি তার প্রতি ভালোবাসা থেকেই করো। কিন্তু কোথায় যেন তুমি সেই ঘোরের মাঝে পাঁক খেতে থাকো, তুমি ভালোবাসা হতে ভয় পাওয়া শুরু করো।

সত্যি বলতে কী জানো!!! মনে হয় তুমি ভাবছো তুমি সবই করো,,,
আসল তা নয়,,,
ঈশ্বর হলো একটা পাগল,, আর তুমি তার ছাগল
ঈশ্বরের এ ভালোবাসাগুলোকে সে নিজে নিজে কীভাবে ভালোবাসবে, যদি না তুমি ভালোবাসাকে ভয় পাও!!!

ঈশ্বর তোমাকে ভালোবাসতে চায়, এজন্য তোমার তার থেকে পালিয়ে বেড়াতে হবে, একটু দূরত্ব না হলে সে তোমায় ভালোবাসবে কীভাবে!!

নিজেকে নিজেকে ভালোবাসবে কীভাবে পাগলটা?
তুমি দৌড়বে, যেহেতু ঈশ্বর অক্ষম আর তুমি দৌড়াও তাই ঈশ্বরও দৌড়াও এভাবে তিনি তোমাকে ভালোবাসেন, আর তুমি ভালোবাসাকে ভয় পাও।

তবে যেদিন পেছন ফিরে তাকাবে তুমি, সেদিন ভালোবাসার জোয়ারে তুমি দাড়াতে পারবে না, স্রেফ ভেসে যাবে।

অতঃপর তুমি ঈশ্বর, ঈশ্বর তুমি, পরস্পর কাছাকাছি, অসহায়, নিঃসঙ্গ, একা, বলদ হয়ে চেয়ে রবে ভালোবাসার অসীম সীমানায়।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *