আসা-যাওয়ার মাঝে (Labour Of Love)

Directed by : আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত
Release Date : ২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪
Language : Silent
Duration : ১ ঘন্টা ২৪ মিনিট
IMDb Rating : ৮/১০
My Rating : ৯.৫/১০

এই ফিল্মে কোন ডায়লগ নেই। আলাপন ছাড়া একজন পুরুষ ও একজন নারীর সাধারণ জীবনযাপনের অসাধারণ কাহিনী। এ ফিল্মটির আসলে কোন ডায়লগের প্রয়োজন নেই। কিছু কথা থাকে, কিছু ঘটনা থাকে যা কথা ছাড়াই অনেক কিছুই বলে দেয়। এটি এমনই একটি ছবি।

কোলকাতার একটি ছোট জায়গায় দুইজন বসবাস করে। জীবিকা ঘোচাতে তাদের প্রতিদিন কাজে যেতে হয়,,, একজন সকালে শিফটে আর একজন রাতের শিফটে। কাজ শেষে বাড়ি এসে বাজার করে রান্না করা; তারপর খাওয়া, একটু ঘুম দেওয়া তারপর খাবার নিয়ে আবার পরের দিন কাজে বেরিয়ে যাওয়া। দুইজনের দুই শিফট হওয়ায় রাত কাটানো হয়না একসাথে, হয়না একটু একসাথে বসে দুজনের গল্প করা। এভাবে তাদের দুজনের দিন চলে যায়,,,, বেঁচে থাকার জন্য পরিশ্রম করে কয়টা ডালভাতের জীবন ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছু সন্ঞ্চয়,, এই হল এই দম্পতির জীবন।

এই একটুখানি বেঁচে থাকার যুদ্ধের মাঝে তাদের হৃদয়ের ছোট একটি কোণে পড়ে থাকে একটু অবসর সময় পাবার অপেক্ষা কিন্তু একজনের রাতে কাজে বেরিয়ে যেতে হয় আর একজনের দিনে!! কাছাকাছি বসে থাকার সময় কই!! এর উত্তর পাওয়া যায় ছবিটির শেষ দৃশ্যে। আর এই সেই মুহূর্তে যেখানে আমি হতবাক হয়ে থাকিয়ে থাকি সেই দৃশ্যের দিকে। সাধারণ কাহিনীর মাঝে যে অসাধারণ বিষয় লুকিয়ে থাকে তা এই ছবিটির নির্মাতা টেনে এনে বের করেছেন। আর দেখালেন এভাবেও ভাবা যায়। এটাই শিল্প।

তাছাড়া ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ। কোলকাতা শহরটি যেন একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে অঙ্কন করা হয়েছে এই ফিল্মে। সূর্যাস্তের দৃশ্য, পাখির দৃশ্য, রান্নার দৃশ্য ইত্যাদি আরো অনেক দৃশ্য অনেক সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। ছবি হয় জীবন থেকে উৎসারিত। সাদামাটা জীবনে প্রতিদিন হয়ত আমরা একই দৃশ্য দেখি আর এতে হয়ে যাই অভ্যস্ত।

কিন্তু শিল্পী সেই সাদামাটা সাধারণের মাঝে অসাধারণত্ব খুঁজে পান আর তাই তিনি তার ছবিতে উপস্থাপন করেন। আর তা যখন আমরা দেখি তখন মনে হয় এ জিনিসটি তে আমরা প্রতিদিন দেখি কিন্তু এভাবে তো কখনো দেখিনি!! এই ছবি দেখে সেই পরিচিত দৃশ্যগুলোর নতুনরূপ দেখলাম যেন- আশেপাশের দৃশ্যগুলো একটু স্লো-মোশনে চালালে যেমন ঠিক তেমন। কড়াইয়ের পানি আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাওয়া, সাইকেলের প্যাডেল ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে কাজ থেকে বাড়ি আসার দৃশ্য এসবের সিনেমাটোগ্রাফি ছিল অসাধারণ। আর সাউন্ডিং গুলোও অসাধারণ,, আর তা এতটাই ন্যাচারাল।

জীবনের স্রোতের সাথে মিলিয়ে সেই জীবনের নিত্যকার ঘটনার মাঝে একজন শিল্পী অসাধরণভাবে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ ফুটিয়ে তোলেন বলেই আমাদের তা করে বিমোহিত, তখন আমরা বলি কী দারুণ শিল্প! আর এই মুভিটা এরকমই একটা শিল্প। সবমিলিয়ে এই ছবির নির্মাতা আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত তার প্রথম কাজেই এরকম অসাধারণ একটি মুভি উপহার দিয়েছেন। এরজন্য জানাই ধন্যবাদ। এভাবেই আরও এরকম বাংলা ছবি তৈরী হোক, আশা রাখি।

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *