ওশো – আমাদের ভবিষ্যৎ কী আসলেই অন্ধকার?

ওশো – আমাদের ভবিষ্যৎ কী আসলেই অন্ধকার?
পারমাণবিক বোমার অস্তিত্বের কারণে পৃথিবীর শক্তিশালী দেশগুলো পরস্পরের সাথে যুদ্ধ থেকে বিরত আছে। এখন যুদ্ধ করা হলো একটা আহাম্মকি। যদি সমস্ত রাজনৈতিক দল ধ্বংস হয়েই যায়, তাহলে যুদ্ধ করার ভিত্তি কী? পারমাণবিক বোমা যুদ্ধকে নিরর্থক করে তুলেছে। যখন আমি পারমাণবিক বোমার কথা ভাবি তখন আমি এতে বিরাট সম্ভাবনা দেখতে পাই। আমি মোটেই নৈরাশ্যবাদী নই। আমি বিশ্বাস করি যে বিষয়গুলোর দিনকে দিন উন্নতি ঘটেই চলেছে। তুমি হয়তো এটা শুনে আশ্চর্য হতে পারো, কিন্তু ব্যাপারটা খুব সোজা যদি তুমি তা বুঝতে পারো।
পারমাণবিক বোমার কারণেই যুদ্ধ পূর্ণাঙ্গ পরিণতিতে এসেছে। পারমাণবিক বোমার আগে এটি ছিল আংশিক বিষয় – খুব অল্পসংখ্যক মানুষ এতে মারা যেত – কিন্তু এখন পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের কাছে এখন এত পরিমাণ বোমা আছে যে আমরা চাইলে একজন ব্যক্তিকে হাজারবার মেরে ফেলতে পারব, পৃথিবীকে ধ্বংস করে ফেলতে পারবো হাজারবার। এমনকী এই পৃথিবীর মত হাজারটা পৃথিবী ধ্বংস করে ফেলতে পারব। এইসব পারমাণবিক শক্তির কাছে আমাদের এই পৃথিবী নেহাতই শিশু। আমাদের পারমাণবিক বোমার বিধ্বংসীতার কাছে  এই পৃথিবী কিছুই নয়। এখন তাহলে কে এই ক্ষয়ক্ষতির ভার বহন করতে যাবে? অন্যের ওপর তোমার বিজয়ের বাহাদুরি দেখানোর জন্য তো তুমিই বেঁচে থাকবে না – কেউই থাকবে না।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হবে না। আর এটা বুদ্ধ এবং খ্রিস্টের অহিংসা ও ভালোবাসা শিক্ষাদানের জন্য ঘটবে না, না! এটা ঘটবে পারমাণবিক বোমার জন্য। কারণ মৃত্যু এখন সুনিশ্চিত, আত্মহত্যাও সম্পন্ন হয়ে যাবে। কেবলমাত্র মানুষই যে ধ্বংস হবে তা নয় সেইসাথে এই পৃথিবীর পাখি, প্রাণীরা, গাছেরা, সমস্ত জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।
এটাই হল চিরতরে যুদ্ধ পরিত্যাগ করার একমাত্র সুযোগ। আমরা হত্যা করতে করতে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠেছি যে এখন আর হত্যা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। এইভাবে চিন্তা করে দেখো এবং তুমি এতে বিস্মিত হবে – তখন আর তোমার কাছে ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলে মনে হবে না।
হ্যাঁ, তুমি হতাশ হতে পারো ও সহিংস হয়ে উঠতে পারো কেননা তুমি এ পর্যন্ত যা আশা করে এসেছো তার সবটাই ব্যর্থ হয়েছে। তুমি সফল হয়েছো এবং কিছুই সফল হয়নি। তাই তোমার মনের ভেতর তীব্র হতাশার ছায়া দানাবেঁধে উঠেছে। তুমি খুনিপ্রবণ হয়ে উঠতে পারো, তুমি আত্মহত্যাপ্রবণও হয়ে উঠতে পারো। কিন্তু বিপরীত সম্ভাবনাগুলোও কিন্তু রয়েছে। তুমি সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবনাচিন্তা শুরু করতে পারো। তুমি এটা চিন্তা করতে পারো যে সফলতা বাইরে খুঁজে পাওয়া যায় না, এই সফলতার সাথে নিশ্চয়ই অন্তর্গত কিছু একটার যোগসাজশ রয়েছে; আর একে পাবার জন্য তুমি ভুল পথে দৌড়াচ্ছো। তোমার পথ ছিল ভুল; যার কারণে তুমি ব্যর্থ হয়েছো।
হতাশার কারণে মানুষরা আরও বেশী করে ধ্যান, প্রার্থনা, গভীর চিন্তাভাবনার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। আমার নিজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আমি দেখেছি যে একজন ব্যক্তি একমাত্র তখনই ধ্যানী হয়ে ওঠে যখন তার সামনে দুটি পথ খোলা থাকেঃ হয় আত্মহত্যা নাহয় সম্পূর্ণ রূপান্তর। যখন বাইরের জগতে একমাত্র আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না তখনই একজন অন্তর্মুখী হয়। কেবলমাত্র সেই মুহূর্তে, হতাশার সেই চরম মুহূর্তে একজন তার নিজের ভেতরে প্রবেশ করে। এই অন্তর্মুখীতা কোন কুনকুনে ব্যক্তির পক্ষে ঘটতে পারে না; এটা একমাত্র তখনই ঘটে যখন পরিস্থিতি সত্যিই চরমে ওঠে এবং সেখান থেকে বের হবার আর কোন উপায় থাকেনা, সমস্ত পথই যখন মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়ে যায়।
0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *