আপন পথ

অন্যের আদর্শ, মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করা নয়, বরং নিজের মাঝে সম্ভাবনাময় আদর্শ ও মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনুসন্ধানে রত হওয়া ভালো এবং যদি কোনদিন তা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে সেখান থেকেই নির্ণয় গ্রহণ করে আগানোটা শ্রেয়।
 
অন্যের মহৎ আদর্শ, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তখনই অনুসরণ করে মানুষ যখন সে নিজেকে ফাঁকি দিয়ে চলে ও নিজের ভেতরে থাকা সম্ভাবনাগুলোকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। তার চেয়ে বরং নিজের পাপ ও অজ্ঞতার যন্ত্রণায় পিষ্ঠ হওয়া ভালো ও এ থেকে অনুভব সন্ঞ্চয় করা উত্তম। কেননা নিজেকে ফাঁকি দিয়ে অন্যের মহৎ চরিত্র, আদর্শ পালন করতে গিয়ে ব্যক্তি ঐ ব্যক্তিটির আদর্শ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে কলঙ্কিত করে।
 
দূর্বলরাই মহৎ মহাপুরুষদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আদর্শ অনুসরণ করে, কেননা তার নিজের মাঝে উদিত সম্ভাবমান আদর্শ, মহত্ত্বতা অর্জনের গুণগুলো অর্জনের কষ্টকে সে ফাঁকি দিতে চায় ও নিজের বর্তমান দূর্বল অবস্থাকে অস্বীকার করে সে ঐ নকল করা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পালন করে শক্তিমত্তা হাসিল করতে চায়। এটা মূলত তার আত্মিক লোভের দুয়ার খুলে দেয় ও অন্যসকল মানুষদেরকে হীন করে ভাবার একটা রাস্তা খুলে দেয়। সেইসাথে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিটির আদর্শকেও ধুলিসাৎ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে অকেজো করে তোলে।
 
সর্বোপরি আমরা আমাদের যাত্রায় মহৎ ব্যক্তির আদর্শ, তাদের মহৎ চরিত্র, গুণ এগুলোকে নিজের মাঝে সুপ্ত সম্ভাবনাময় গুণগুলোর বিকাশের প্রেরণা হিসেবে নিতে পারে। সেইসাথে এটাও চিন্তা করে দেখতে পারি যে, আসলেই আমার লক্ষ্য কতবড় ও কতদূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। এটাই নিজেকে বারবার খোদাই করার কাজে উপকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।
 
পরিশেষে, তোমার ভেতর দিয়েই গুণগুলোকে তোমার মত করে বিকশিত হতে দাও। একজন মহৎ ব্যক্তি কখনও অন্যকে তার নিজের চরিত্র অনুসরণের কথা বলেনা। বরং তার চরিত্র এমনভাবেই গড়ে ওঠে যা একান্তই তার, স্বতন্ত্রবোধ থেকে উৎসরিত। এমন ব্যক্তি তখন তার এসকল বোধের জন্য সমস্ত জগতের কাছে নতজানু হতে পারে। কেননা তার এ বোধ উত্তরণের যাত্রায় সে সকলের কাছ থেকে প্রেরণা লাভ করেছে এ কৃতজ্ঞতাবোধও তার আপন প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে। যে কেবল অন্যের পদচিহ্ন অনুসরণ করে বেড়ায় সে মাথা নোয়াতে পারেনা, সে কেবল একজনের কাছেই মাথা নোয়াতে পারে, তাও আসল নয়, কৃত্রিম, মেকী। এর কারণ তার বোধ স্বতন্ত্র নয়, অন্যের পায়ের ধুলি তার সাথে লেগে থাকে, যেখানে তার নিজের পরিশ্রমকৃত হেঁটে বেড়ানো পদচিহ্নের ধুলি নেই।
 
তাই তার অনুসরণকৃত মহাপুরুষদের উন্নত চরিত্রের অনুশীলন তাকে আগাগোড়া দাম্ভিক করে তোলে যা একজন পাপীর যন্ত্রণাবোধের থেকেও নিকৃষ্ট। কেননা একজন পাপী জানে সমগ্র জগতের মানুষকে হীন করে দেখাটা কতটা যন্ত্রণার কিন্তু একজন নিজ বোধহীন নকল করা নৈতিকতা চর্চাকারীর সে যন্ত্রণা নেই। সে বরং এতে পরিতৃপ্তি পায়। এজন্যই তো সে এ পথে অনুশীলনে নেমেছিল। এরা শ্রদ্ধেয় মহাপুরুষদের মাথার কাঁঠাল ভেঙ্গে খায়।
 
তাই বলি হে মন, সতত চলো তোমার নিজের পথে, নিজের পথ কন্টকময় হোক তবুও ভালো, কাঁটা একটা একটা সরিয়ে এগিয়ে চলো, যন্ত্রণা ছাড়া কে দশ নীতি, নৈতিক নিয়ম, আদর্শ চরিত্র অনুকরণ করে নিজেকে নিজের করে পেরেছে! পেরেছে কী?
0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *