অলসতা দূর করার ১ মিনিটের সূত্র

অলসতা দূর করার ১ মিনিটের সূত্র

আপনাদের নিশ্চয়ই খরগোশ ও কচ্ছপের গল্পের কথা মনে আছে। গল্পে খরগোশ কচ্ছপকে দৌড় প্রতিযোগিতায় হারাবার জন্য প্রথমে খুব দ্রুত দৌড়াতে থাকে কিন্তু মাঝপথে আলসেমি করে শুয়ে পড়ে। অপরদিকে কচ্ছপ ধীরগতিতে আস্তে আস্তে তার লক্ষ্যের দিকে এগোতে থাকে ও অবশেষে বিজয়ী হয়।

গল্পটি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হল এই যে, আমরা আমাদের জীবনে অনেক কিছুই পেতে চাই, অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই কিন্তু এগুলো করতে গিয়ে আমাদের অবস্থা হয় খরগোশের মত।

আমরা কী করি?

আমরা যখন কোন কাজে অগ্রসর হই তখন তা প্রথমেই একেবারে ৩০ মিনিট, ১ ঘন্টা টানা করে ফেলি। এরফলে আমাদের মন তখন খরগোশের মত বলতে থাকে অনেকক্ষণ ধরে তো কাজ করলাম, কাল একটু বিশ্রাম নিয়ে পরশুদিন থেকে শুরু করব। এরপর ব্যস! আমাদের আর ঐ কাজ আর করা হয়ে ওঠে না।

আমরা যখন কোন কাজ শুরুতেই টানা ৩০ মিনিট বা ১ ঘন্টা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করি ঠিক তখন পরবর্তী দিন আর আমাদের ঐ কাজ করতে ভালো লাগে না বা আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই; আবার আলসেমি চলে আসে। ফলস্বরূপ আমাদের আর ঐ কাজটি ধারাবাহিকভাবে করা হয়ে ওঠে না।

তাই এ ধরনের সমস্যা এড়াতে জাপানীরা একটি চমৎকার পদ্ধতি ব্যাবহার করে থাকে যা ১ মিনিটের সূত্র বা “Kaizen” নামে পরিচিত।

Kaizen” কথাটির অর্থ হল ’Change for good’ অর্থাৎ চিরতরে পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। এ পদ্ধতির উদ্ভাবক হলেন মাসাকি ইমাই। তিনি হলেন জাপানিজ অর্গানাইজেশনাল থিওরিস্ট এবং ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট। তিনি ১৯৮৬ সালে kaizen Institute Of consultant Group সংক্ষেপে “KIGC” প্রতিষ্ঠা করেন পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে। আর মূলত এর ফলে তার এই Kaizen মেথড পশ্চিমা বিশ্বে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি যা জাপানীরা তাদের প্রোডাক্টিভ কাজ, প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র, লক্ষ্য অর্জন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতির জন্য ব্যাবহার করে থাকে।

তাহলে এখন এ পদ্ধতিটি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

এ পদ্ধতির প্রথমেই আপনি যে লক্ষ্য অর্জন করতে চান সেটি নির্ধারন করে প্রতিদিন ১ মিনিট ধরে তা করতে হবে।

আপনারা এখন ভাবতে পারেন ১ মিনিটে কতটুকুই বা কাজ করতে পারব?

কিন্তু এই ১ মিনিটই আপনার জীবন বদলে দেবার জন্য যথেষ্ট। কারণ যখন আপনি প্রতিদিন ১ মিনিট ধরে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কাজ করবেন ধীরে ধীরে আপনার ঐ কাজের প্রতি অলসতা কাটতে থাকবে ও আপনার মস্তিষ্কে এক ধরনের ‘Feel Good’ হরমোন ক্ষরিত হবে যা আপনাকে ঐ কাজের সময় বাড়ানোর জন্য উদ্দীপনা প্রদান করবে। আনাদের মন কোনকিছু অর্জন করতে ভালোবাসে হোক না সেটা ১ মিনিট ধরে কোন কাজ করে তা শেষ করা।

তাই যখন আমরা প্রতিদিন ১ মিনিট করে কাজটি করতে থাকব আমরা তখন নিজে থেকেই ৫ মিনিট, ১০ মিনিট, ৩০ মিনিট ঐ কাজে সময় দিতে চাইব। কারণ আমাদের মন তখন সেই ‘Feel Good’ হরমোন পাওয়ার জন্য ১ মিনিট কাজ করে আর সন্তুষ্ট থাকতে চাইবে। আমাদের মন তখন চিন্তা করা শুরু করবে যে আমি যদি আরো সময় দিই তাহলে আমি আবার সেই অনুভূতি লাভ করতে পারন। আর ঠিক এই কারণে আমরা নিজে থেকেই ঐ নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য ধারাবাহিকভাবে ঐ কাজটি বেশী সময় দিয়ে করার জন্য তাড়না অনুভব করব।

কচ্ছপ যেমন ছোট ছোট পদক্ষেপে কিন্তু ধারাবাহিকভাবে চলে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছিল আমরাও চাইলে এই ১ মিনিটের সূত্রটিকে নিজের জীবনে কাজে লাগিয়ে অলসতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন অভ্যাস গঠন করে সুখী জীবনযাপন করতে পারি।

আর এজন্যই চীনা দার্শনিক লাওৎসে বলেছিলেন,

 

“A thousand mile journey starts with one footstep.”

 

অর্থাৎ “এক হাজার মাইল রাস্তার যাত্রা শুরু হয় একটি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে।”

0Shares

নাজিউর রহমান নাঈম

আমিকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। কিন্তু সে যে কোথায় লুকাইলো ও এই লোকটি যে তা বড় আশ্চর্যের বিষয়! আমি হারিয়ে যা হল একে কীই-বা বলা যায় বলুন। এখন যাকে দেখছেন সে তো অন্য কাজ করে বেড়াচ্ছে, তার পরিচয়ও নিশ্চয়ই বদলে গেছে। তাহলে আপনি কাকে দেখছেন? দেখছেন আপনাকে আপনার চিন্তাকে যা আপনাকে আমাকে দেখাচ্ছে বা কল্পনা করাচ্ছে। তাহলে শুধু শুধু পরিচয় জেনে কী হবে বলুন। তার চেয়ে বরং কিছু সাইকোলাপ-ই পড়ুন ও নিজেকে হারিকেন নিয়ে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ুন। পথিমধ্যে হয়ত কোথাও দেখা হয়েও যেতে পারে!!! সে পর্যন্ত- কিছু কথা পড়ে থাকুক জলে ভেজা বিকালে খুঁজে চলুক এই আমি পিলপিল করে অনন্ত "আমি" র অদৃশ্য পর্দার আড়ালে

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *